কলকাতা: সম্প্রতি কয়েয়া গণধর্ষণকাণ্ডের ঘটনায় প্রমাণের অভাবে, তিন অভিযুক্তকেই বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। মূলত কড়েয়া গণধর্ষণের ঘটনায়, কোনও তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করতে পারেনি পুলিশ। এরপরেই মুক্তি পায় তিন অভিযুক্ত। আর এবার শিয়ালদায় দেহ উদ্ধারের ঘটনাতেও ফিরল সেই ছায়া। অভিযুক্তদের বেকসুর খালাসের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পুলিশ সঠিকভাবে তদন্ত করতে পারেনি, দাবি জানিয়েছেন আইনজীবী। এরপরেই মৃতের স্বামী, স্বামীর বান্ধবী-সহ তিন জনকে বেকসুর খালাসের নির্দেশ দেওয়া দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।
২০১৪ সালের ২০ মে, শিয়ালদা স্টেশনের পার্কিং লটে জয়ন্তী দেব নামে এক মহিলার দেহ উদ্ধার হয়েছিল। স্ত্রীকে খুনের অভিযোগে স্বামী, তাঁর বান্ধবী এবং আরও একজনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। এরপরে এই মামলায় তিন জনকেই মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল নিম্ন আদালত। কিন্তু পট পরিবর্তন হয়, ২০১৯ সালে। উনিশ সালের ২২ জুলাই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। আর এবার সেই মামলাতেই বেকসুর খালাস পেলেন ওই তিন ফাঁসির আসামী। এর মধ্যে মূল আসামী ছিলেন সুরজিৎ দেব। আইনজীবীর কথায়, ২০১৯ সালে ফাঁসির সাজা হয় আমার মক্কেলের। অবশেষে আজকে মহামান্য বিচারপতি দেবাংশু বসাক, মহামান্য বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ, পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে, আমার মক্কেল সুরজিৎ দেবকে এবং আরও দুজনকে বেকসুর খালাস করলেন। প্রশ্নটা হল এখানেই যে, আমার মক্কেলের ফেলে আসা ১১ টা বছর, কে ফিরিয়ে দেবে ? বলে পুলিশকে তীব্র কটাক্ষ করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে জুন মাসে, এই গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল। রুটি কিনতে বেরিয়েছিলেন এক মহিলা। এমন এক সময় তাঁকে গাড়িতে তুলে, বন্দুক দেখিয়ে 'গণধর্ষণ' করা হয়েছিল। এবং সেই মহিলা অন্য একটি ধর্ষণ মামলার তিনি কিন্তু সাক্ষী ছিলেন। যেকজন সাক্ষী ছিলেন, তার মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। তাঁর অভিযোগ ছল, তাঁকে গাড়িতে তুলে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে গণধর্ষণ করা হয়েছিল। এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে, শাহজাদা বক্স, জামাল-উর-রহমান, আকবর খান মোট তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। কিন্তু শেষঅবধি কড়েয়ার গণধর্ষণের ঘটনায় প্রমাণের অভাবে ৩ অভিযুক্তকেই বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। আরজিকর, কসবাকাণ্ড, জোকা IIM-র এর মতো ঘটনায় যখন গোটা রাজ্য তোলপাড়া, ঠিক তখনই খবর এল কড়েয়ার গণধর্ষণকাণ্ডে কোনও তথ্য প্রমাণই জোগাড় করতে পারেনি পুলিশ। এই যুক্তিতেই বহু সমালোচিত কড়েয়া গণধর্ষণের ঘটনায় ৩ অভিযুক্তকেই বেকসুর খালাস ঘোষণা করা হয়েছে।