ঝিলম করঞ্জাই, কলকাতা: শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক খুনে জড়িত অন্তত ৭ থেকে ৮ জন দুষ্কৃতী এবার এমনই তথ্য সামনে এসেছে। সেই রাতে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়কের চন্দ্রনাথ রথের গাড়ি চালক বুদ্ধদেব বেরাও গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তিনটি গুলি লেগেছিল তাঁর। সেই তিনটি বুলেট বের করা গেছে। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। তৈরি হয়েছে মেডিক্যাল টিম।

Continues below advertisement

হাসপাতাল সূত্রে খবর, শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়কের ড্রাইভার ভর্তির ৩৬ ঘণ্টা কেটে গিয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচার হলেও ৭২ ঘণ্টা না কাটলে তিনি সম্পূর্ণ বিপদ মুক্ত কি না তা এখনও বলা যাবে না। শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেও এখনও সঙ্কটমুক্ত নয়। ভেন্টিলেটরি সাপোর্টে রয়েছেন। রাত দেড়টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত অপারেশন হয়েছে। তিনটে বুলেট বের করতে পেরেছেন চিকিৎসকরা। একটি বুলেট যকৃতকে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে। আরেকটি বুলেট ফুসফুসকে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে এই বিষয়টিই চিন্তা বাড়িয়েছে চিকিৎসকদের। যত দ্রুত রিকভারি হবে সেগুলো, তত দ্রুত তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।' 

আরও পড়ুন, 'আমার পাশ দিয়েই ওই খুনি ক্রস করেছিল, তারপর...' শিউরে ওঠা ঘটনা জানালেন প্রত্যক্ষদর্শী

Continues below advertisement

আরেকটি বিষয় সূত্র মারফৎ জানা গিয়েছে, তিনি যখন আহত-গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মধ্যমগ্রাম হাসপাতালে যান। তখন স্টেবিলাইজ করে জ্ঞান ফেরানো হয় সেই সময় তিনি চিকিৎসকদের বলেছিলেন আমাকে দ্রুত সুস্থ করুন। আমি তারপর সব কথা বলব। 

উল্লেখ্য, বুদ্ধদেব বেরা একমাত্র সাক্ষী যিনি ওই ঘটনার পর বেঁচে ছিলেন। তদন্তকারীরা মনে করছেন তাঁর দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠা খুব জরুরি তদন্তের ক্ষেত্রে। 

এদিকে, চন্দ্রনাথ রথের খুনি কে বা কারা? তদন্তের স্বার্থে এবার মধ্যমগ্রাম থানার পুরনো আইসি-কে ফিরিয়ে আনা হল। ভোটের আগে অন্য জেলায় বদলি করা হয়েছিল মধ্যমগ্রাম থানার আইসি সতীনাথ চট্টরাজকে। ২০২৪ থেকে মধ্যমগ্রাম থানার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তাঁকেই আবার নিয়ে আসা হল মধ্যমগ্রাম থানায়। 

এদিকে ঘটনার পর ২ দিন কাটতে চললেও এখনও খোঁজ পাওয়া যায়নি আততায়ীর। এলাকার একাধিক সিসি ক্যামেরা খারাপ থাকায় আততায়ীর সংখ্যা নিয়ে ধন্দে পুলিশ।

চন্দ্রনাথ রথ-কে খুনের প্রায় ৬ ঘণ্টা আগেই এলাকায় দেখা গেছিল দুষ্কৃতীদের ব্য়বহৃত নিসান মাইক্রা গাড়ি। এই গাড়িটিই গুলি চন্দ্রনাথের গাড়ির সামনে গিয়ে পথ আটকেছিল। আর এবার এই গাড়ি নিয়ে সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। সূত্রের খবর, এই গাড়িটিতে মেলেনি কোনও ফিঙ্গার প্রিন্ট। তবে কি আততায়ীরা এতটাই পেশাদার যে গাড়িটি ব্যবহার করার আগে হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহার করেছিল? এই প্রশ্নই এখন ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের।