কলকাতা:  কয়লা পাচার মামলা ও হাওয়ালা-যোগের তদন্তে কলকাতায় আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও সল্টলেকের অফিসে হানা দেয় ED। এরপরেই লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চলাকালীন পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলার অপেক্ষা রাখে না, ছাব্বিশের নির্বাচনের বছরে এই ঘটনা নিয়ে চর্চা তুঙ্গে। এহেন পরিস্থিতিতে নিজের মতামত জানালেন কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, IPAC অফিসে ইডি-র হানা কাণ্ডে এবার প্রতিক্রিয়া হুমায়ুন কবীরের ! কোন 'এভিডেন্সের' কথা বললেন তিনি ?

প্রশ্ন : আজ ইডি আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশি চালিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে গিয়েছিলেন, এরপর রাজনৈতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে, কী বলবেন ? 

Continues below advertisement

মদন মিত্র : এই কাগজ আমাদের ছিল, তাই না ? আমাদের ঘর থেকে আপনারাই বলপূর্বক টেনে নিয়ে এসেছেন। আমরা তো আপানদের ঘরে গিয়ে কিছুই করিনি। সংবিধানে কি এটা লেখা আছে ? আমরা নিজেদের ঘরে বসে, নিজেদের নিয়ে আলোচনা করি, লেখাপড়া করি, কোনও কিছু আবিষ্কার করার জন্য বিজ্ঞানের গবেষণা করি। আপনারা আমাদের ঘরে ঢুকে, জোর জবরদস্তি ওগুলি সব নিয়ে যাবেন ?! তবে যাই করুন কেন, আপনাদের হার নিশ্চিত। 

কয়লা পাচার মামলায় ইডির তল্লাশি অভিযান ঘিরে দিনভর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। এদিন সাত সকালে লাউডন স্ট্রিটে আই প্য়াক কর্ণধারের বাড়ি ও সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে তাঁর অফিসে একযোগে অভিযান চালায় ইডির তদন্তকারীরা। আর তল্লাশি চলাকালীন দুই জায়গাতেই পৌঁছে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কোথাও নিজেই নথি হাতে বেরিয়ে এলেন। কোথাও তার নিরাপত্তায় থাকা পুলিশ নথি নিয়ে এসে গাড়িতে তুললেন। বিজেপি ও ইডিকে আক্রমণ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  

সূত্রের খবর, এদিন সকাল ৭টা নাগাদ প্রথমে সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের অফিসে পৌঁছে যায় ED-র টিম। সকাল ৭টা ১০ নাগাদ ED-র আরও একটি টিম লউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছে যায়। সকাল ১১টা ৫৫ প্রতীক জৈনের আবাসনে আসেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা। এর ৫ মিনিটের মধ্যে বেলা ১২টায় আইপ্যাক কর্তা প্রতীক জৈনের আবাসনে পৌঁছে যান খোদ মুখ্যমন্ত্রী। প্রায় ১৮ মিনিট পর হাতে মাইক্রোফোন, একটি মোবাইল ফোন ও সবুজ রঙের একটি ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

মুখ্যমন্ত্রী বলেন,' যদি কোনও প্রয়োজন থাকত ED-র তারা ইনকাম ট্যাক্স থেকে কাগজে নিতেই পারত। ইলেকশন আছে ইনকাম ট্যাক্স নোটিস পাঠায়। বিজেপিকে তো নোটিস পাঠায় না। ডাকাতের দল। সবচেয়ে বড় ক্রিমিনাল। মানি পাওয়ার, মাসল পাওয়ার, ফিয়ার অফ ডেমোক্র্যাসি..।'