কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায় ও রঞ্জিত সাউ, কলকাতা:যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে সোমবারই এই কড়া বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।সেই সঙ্গে দেওয়াল লিখনের একাধিক ছবি পোস্ট করে, সোশাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছিলেন, ‘আর্টস বিভাগের বয়েস হস্টেলে আপত্তিকর, রাষ্ট্রবিরোধী দেওয়াল লিখনের বিষয়ে রিপোর্ট মিলেছে। কোনও পরিস্থিতিতেই সেই জায়গাকে দেশবিরোধী ভাবনা প্রচারের জন্য় ব্য়বহার করার সুযোগ দেওয়া হবে না।' 

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, বাড়ছে বিধবা ভাতা-বার্ধক্য ভাতা, বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, “আগের সরকারের কাছে করা অ্যাপ্লিকেশনগুলি নিইনি”, কারা পাবেন এই 'নতুন ভাতা' ?

Continues below advertisement

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র  সোমসূর্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমরাই কিন্তু এই স্লোগানগুলো CMO-কে পাঠাই। আমরা খুবই আপ্লুত এবং স্বাগত জানাই যে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ব্যাপারটায় হস্তক্ষেপ করেছেন। শুধু ওগুলো মুছে দিয়েই নয়, যারা যারা ওগুলোকে এঁকেছে তাদের বিরুদ্ধেও আশা করছি অ্যাকশন নেবে।  মুখ্যমন্ত্রী বোধ হয় শুক্রবারে আসছেন। তথ্যপ্রমাণ-সহ সব অভিযোগ আমরা ওনাকে জানাতে চাই।’ 

 বিশ্ববিদ্য়ালয় ক্য়াম্পাসের কোথাও চোখে পড়েছে এমন দেওয়াল লিখনও। কোথাও দেওয়ালে লেখা 'ব্রেক ফ্যাসিসিজম উইথ রেড'। কোথাও রয়েছে 'ফ্রম দ্য রিভার টু দ্য সি, প্যালেস্তাইন উইল বি ফ্রি'-র মতো দেওয়াল লিখন। এ নিয়ে যাদবপুরের পড়ুয়াদের মধ্যেই ভিন্নমত রয়েছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের  ছাত্র অর্পণ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বাজপেয়ী সরকার খোলাখুলি বলেছিল যে আমরা প্যালেস্তাইনকে বিশ্বাস করি ওই ল্যান্ডটা প্যালেস্তাইনের এবং ইজরায়েল সেটা দখল করে রয়েছে।  এটা নিয়ে কথা বলা আমার মনে হয় না কোনও খারাপ বিষয় বা অ্যান্টি ন্যাশনাল বিষয়।' 

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র  কিশলয় রায় বলেন, ' দেশ বিরোধী স্লোগান বা দেশবিরোধী গ্রাফিতি কোনওমতেই ভারতবর্ষ বা যে রাজ্যে সংবিধানের শাসন থাকবে, সেসব জায়গায় মেনে নেওয়া যায় না। এখানে যে বিভিন্ন রকম দেশবিরোধী স্লোগান এসব  কোনওরকমভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।’ চাপানউতোরের আবহে দেওয়াল লিখন নিয়ে মুখ খুলেছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য। এনিয়ে চলছে রাজনৈতিক তরজাও। 

পঞ্চায়েত মন্ত্রী ও বিজেপি বিধায়ক  দিলীপ ঘোষ বলেন, 'দিল্লির JNU-তে হচ্ছিল কিনা এরকম পরিবেশ? রাষ্ট্রীয় বিরোধী গতিবিধি, স্লোগান, গাঁজা, চরস। সমাধান হয়েছে সেখানে। দেশ বিরোধী শক্তির আধিপত্য ছিল। পশ্চিম বাংলা থেকে বাংলাদেশি-রাজ চলে গেছে, ওখান থেকেও চলে যাবে। আর তার জন্য শুরু হয়েছে অপারেশন। চলবে ধীরে ধীরে।

কুণাল ঘোষ বলেন,' যারা হঠাৎ বলে দেবে কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি আমরা সেটা সমর্থন করি না। কিন্তু তার জন্য  আইনমাফিক যা যা ব্যবস্থা হওয়ার সেগুলো হবে। তারজন্য গুন্ডা পাঠানো হবে কেন? শুভেনদু বাবু মুখে এইগুলো কথা বলছেন, এই তদন্ত ওই তদন্ত, আগে প্রথম হামলা করতে গেছিল, আগে হামলাটা থামান না। আগে গিয়ে পুলিশ অ্যারেস্ট করুক দোষীদের।’যাদবপুর ক্য়াম্পাসে তাণ্ডবের পাশাপাশি ক্যাম্পাসের দেওয়াল লিখন নিয়েও শুরু হয়েছে বিতর্ক।