সৌভিক মজুমদার, দীপক ঘোষ, ব্রতদীপ ভট্টাচার্য, কলকাতা: মেয়ো রোডে তৃণমূলের ভাষা আন্দোলনের মঞ্চ সেনার খোলা নিয়ে তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক সংঘাত। আর এরই মধ্যে এবার মেয়ো রোডে ধর্নায় বসতে চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন প্রাক্তন সেনাকর্মীদের একাংশ। ৮ ই সেপ্টেম্বর থেকে কর্মসূচি পালন করতে চেয়ে হাইকোর্টে জমা পড়ল আবেদন।
সোমবার মেয়ো রোডে তৃণমূলের মঞ্চ খুলে দিয়েছিল সেনা। যা নিয়ে তুঙ্গে ওঠে চাপানউতোর। মেয়ো রোডে পৌঁছে গেছিলেন স্বয়ং মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় এদিন বলেছেন, 'প্রায় ২০০-র মতো সেনা, তাঁরা আমাকে দেখে ছুটে পালাচ্ছিল । আমি বললাম আপনারা পালিয়ে যাচ্ছেন কেন? আপনারা আমার বন্ধু।' এই টানাপোড়েনের জল এবার আরও গড়াচ্ছে। এবার রেড রোডে ধর্নায় বসতে চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীদের একাংশ।
এই বিষয় নিয়ে শমীক ভট্টাচার্য বলছেন, 'এই থেকে দুর্ভাগ্যজনক কিছু হতে পারে? ভারতীয় সেনাবাহিনীর অফিসারেরা একটা নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে একটা জায়গায় ধর্না দিতে যাচ্ছেন! এটাই তো একটা সার্বিক লজ্জার প্রতীক।' এই বিষয় নিয়ে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, 'হতে পারে কারোও ইন্ধনে সেনাবাহিনী এই কাজ করছেন। তবে গোটা সৈন্যবাহিনীকে করায়ত্ত করার চেষ্টা। ওদেরকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, তৃণমূল কংগ্রেসের যে মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে, সেটাকে খুলে দেওয়া, ভেঙে দেওয়া.. এটা বিজেপি সরকারের একটা ঘৃণ্য চক্রান্ত।
সেনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের বিরোধিতায় ধর্নার অনুমতি চাইলেন প্রাক্তন সেনাকর্মীদের একাংশ। অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীদের দাবি, পুলিশি অনুমতি না মেলায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। ৮ সেপ্টেম্বর এই মামলার শুনানি।
কী হয়েছিল সেইদিন মেয়ো রোডে? কোথা থেকে এই বিতর্কের শুরু? গত সোমবার মেয়ো রোডে তৃণমূলের ভাষা আন্দোলনের প্রতিবাদ মঞ্চ খুলে দিয়েছিল সেনাবাহিনী। ভরদুপুরে যা নিয়ে জোর শোরগোল পড়ে যায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান খোদ মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে মেরেকেটে ৩ কিলোমিটার দূরে বিজেপির রাজ্য সদর দফতরের সামনেও মঞ্চ খোলা নিয়ে তুলকালাম বাঁধল। পুলিশ দাঁড়িয়ে থেকে বিজেপির মঞ্চ খুলিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। বিহারে কংগ্রেসের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মাকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে, তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রর বেলাগাম আক্রমণের প্রতিবাদে এদিন সভা ও মিছিল করার কথা ছিল বিজেপি মহিলা মোর্চার। পুলিশের দাবি, বিজেপির কর্মসূচির কোনও অনুমতি ছিল না। যদিও বিরোধীরা কটাক্ষ করে বলছেন, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের ঘটনার শোধ তুলতেই সেনাবাহিনীকে দিয়ে তৃণমূলের মঞ্চ খুলিয়ে দিয়েছে বিজেপি। তবে পুলিশের বাধায় সভা না হলেও এদিন মুরলীধর সেন লেন থেকে চাঁদনি চক পর্যন্ত মিছিল করে বিজেপি মহিলা মোর্চা।