সন্দীপ সরকার ও ঝিলম করঞ্জাই,কলকাতা: আতঙ্কের নাম অ্য়াডিনো ভাইরাস (Adenovirus)। উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বেড থেকে পেডিয়াট্রিক আইসিইউ, টেস্ট কিট, সবকিছুর তীব্র সঙ্কট। পরিস্থিতি সামাল দিতে সমস্ত শিশু বিভাগে হাই ফ্লো নেজাল অক্সিজেন সাপ্লাই ব্যবস্থা চালু করছে স্বাস্থ্য দফতর।

অ্যাডিনো উদ্বেগ: প্রতিদিন সন্তান হারা হচ্ছে মায়ের কোল, হাসপাতালে হাসপাতালে শুধুই হাহাকার। বেড থেকে পেডিয়াট্রিক আইসিইউ, টেস্ট কিট,সবকিছুর তীব্র সঙ্কট। উত্তর ২৪ পরগনার মিনাখাঁর বাসিন্দা দম্পতির ১ বছর ৩ মাস বয়সী শিশু বেশ কিছুদিন ভর্তি ছিল বিসি রায় হাসপাতালে। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার পর নিউমোনিয়া হয়েছে। বিসি রায় শিশু হাসপাতালে বেড মেলেনি। পার্ক সার্কাসের ইন্সটিটিউট অফ চাইল্ড হেলথেও ভর্তি করতে পারেননি সন্তানকে। হাজরার চিত্তরঞ্জন শিশুসদন ভর্তি নিতে চাইলেও, তারা যা বলেছেন, তাতে ভর্তি করার সাহস পাননি তাঁরা। উত্তর ২৪ পরগনারই বড়গাছিয়ার বাসিন্দা এক পরিবারের অবস্থা আরও করুণ। ১০ মাসের শিশুকে বারাসাতের একটি হাসপাতাল থেকে রেফার করে দেওয়া হয়। সোমবার ভর্তি করা হয় বিসি রায় শিশু হাসপাতালে। বুধবার থেকে অত্যন্ত সঙ্কটজনক। চলছে নেবুলাইজার, স্যালাইন, অক্সিজেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে সমস্ত শিশু বিভাগে PADEATRIC HIGH FLOW NASAL OXYGEN SUPPLY ব্যবস্থা চালু করছে স্বাস্থ্য দফতর। ইতিমধ্যে বিসি রায় শিশু হাসপাতালে এরকম ১০ টি মেশিন চালু হয়েছে। এতে ভেন্টিলেটর নির্ভরশীলতা কমবে। কোভিডের সময় বড়দের জন্য এই পদ্ধতি কার্যকরী হয়েছিল বলে, দাবি স্বাস্থ্য দফতরের। পাশাপাশি, শিশুদের চিকিৎসায় জেলা থেকে রেফার কমাতে, টেলি মেডিসিন ব্যবস্থায় আরও বেশি করে শিশু চিকিৎসককে যুক্ত করতে মেডিক্য়াল কলেজগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।

২৪ ঘণ্টায় শুধুমাত্র বিসি রায় হাসপাতালেই ৬জন শিশুর মৃত্য়ুর খবর সামনে এল। ২ মাসে মৃত শিশুর সংখ্য়া বে়ড়ে দাঁড়াল ৫৮! পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলায় জেলায় জোরকদমে চলছে প্রস্তুতি। কল্যাণী জে এন এম হাসপাতালে চালু করা হল পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট। এদিকে অ্যাডিনো উদ্বেগের মধ্যেই বিসি রায় হাসপাতালে ভেন্টিলেটর বিকল হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠল। শ্বাসকষ্ট নিয়ে বিসি রায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে বিরাটির বাসিন্দা ৬ মাসের এক শিশু। মঙ্গলবার থেকে ভেন্টিলেটর ছিল সে।পরিবারের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সকালে সেই ভেন্টিলেটরটি বিকল হয়ে যায়। পরিবারের দাবি, এরপর নতুন ভেন্টিলেটর আনা অবধি একটি বিশেষ পদ্ধতিতে শিশুকে স্থিতিশীল রাখেন চিকিৎসকরা। কর্তৃপক্ষের দাবি, বিরামহীন ব্যবহারের ফলে ভেন্টিলেটরে বিভ্রাটের ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে।

আরও পড়ুন: Malda News: মালদায় ম্যাজিক দেখাতে এসে সোনার গয়না লুঠের অভিযোগ, শুরু তদন্ত