উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়, কলকাতা : প্রতিবারই বিধানসভা অধিবেশন চলাকালীন দিলীপ ঘোষ একবার বিধানসভায় বিধায়কদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। মঙ্গলবারও তিনি এলেন। এখন তিনি সাংসদও নন। দলের কোনও পদাধিকারীও নন। কিন্তু দিলীপ ঘোষ বিধানসভায় আসার পরই বিজেপি শিবির চাঙ্গা হয়ে ওঠে। বিধানসভায় আগমনকে বিধায়কদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবেই ব্যাখ্যা করেছেন দিলীপ। তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ কিন্তু অন্যরকম। শুধুই কি সৌজন্য সাক্ষাৎ? বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আলোচনাই উদ্দেশ্য ? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভুললে চলবে না আর কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হবে বঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া। তার আগেই দিলীপের এই বিধানসভায় আগমনকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
গত লোকসভা নির্বাচনে তিনি জয় এনে দিতে পারেনি পদ্মশিবিরকে। নতুন কেন্দ্র থেকে লড়ে তিনি পরাস্ত হন তণমূল প্রার্থী কীর্তি আজাদের কাছে। তারপর থেকে রাজ্য রাজনীতিতে তাঁকে বড় একটা দেখা যায় না। কিন্তু এদিন বিধানসভায় আসতেই তাঁকে স্বাগত জানান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু। ছিলেন অন্যান্য বিধায়করাও। অতীত স্মরণ করলে মনে পড়বে, এর আগে যেদিন দিলীপ ঘোষ বিধানসভায় এসেছিলেন, সেদিন প্রায় সব বিধায়করাই বেরিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু এদিন সকলেই অপেক্ষায় ছিলেন দিলীপের। তাহলে কি বঙ্গ বিজেপিতে আবার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে পারেন দিলীপ?
এখন, পাখির চোখ ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, রাজ্য বিজেপির নতুন সভাপতি কে হবেন? তার কারণ, যাঁকেই এই গুরুদায়িত্ব দেওয়া হবে, তাঁর হাতেই থাকবে ২০২৬-এর নির্বাচন পরিচালনার রাশ থাকবে তাঁর হাতেই। অর্থাৎ যিনি রাজ্য সভাপতি হবেন, বিধানসভা ভোটে প্রার্থী নির্বাচনে তাঁর মতামত কিংবা তাঁর অনুগামীরা যে বাড়তি গুরুত্ব পাবে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। চলতি মাসের শেষেই বাংলায় আসার কথা অমিত শাহের। অমিত শাহ আসার আগেই কি বিজেপির নতুন রাজ্য সভাপতির নাম ঘোষণা করা হতে পারে? এই সফরেই কি নতুন রাজ্য সভাপতির সঙ্গে বৈঠক সারবেন অমিত শাহ? কে বসবেন সেই পদে? সব জল্পনার মধ্যেই বিধানসভায় হাজির দিলীপ।
শুক্রবারই রাজ্য বিজেপির ২৫টি সংগঠনিক জেলার জেলা সভাপতির নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তাহলে কি দ্রুত রাজ্য বিজেপির সভাপতির নাম ঘোষণার জন্যই, এমনটা করা হল?