রঞ্জিত সাউ, কলকাতা:বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের একমাসের মাথায় খান খান হয়ে গেল তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আগ্রাহ্য করে 'আসল' তৃণমূল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন বিদ্রোহী বিধায়করা। সেই নিয়ে কাটাছেঁড়ার মধ্যে এবার মুখ খুললেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তৃণমূলের কী ভবিষ্যৎ, সেই নিয়ে যেমন নিজের মতামত তুলে ধরলেন। সেই সঙ্গে অভিষেকের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও ভবিষ্যদ্বাণী করলেন। এমনকি বিদ্রোহীদের 'আসল' তৃণমূল এবং মমতার তৃণমূল, কোনটিকে কী নামে ডাকবেন, সেই প্রশ্নেরও উত্তর দিলেন। (Dilip Ghosh on Abhishek Banerjee)
সকাল সকাল শরীরচর্চায় বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন দিলীপ। সেখানেই তৃণমূলের ক্ষয়িষ্ণু অবস্থা নিয়ে মুখ খোলেন তিনি। গতকাল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্য়ায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে যখন সাংবাদিক বৈঠক করছেন, সেই সময়ই অভিষেকের বাড়িতে পৌঁছে যায় ED. দিলীপের বক্তব্য, "অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায় আইন থেকে বাঁচার চেষ্টাকরছেন। সম্ভব নয়। ওঁদের যত নেতা...পার্থ চট্টোপাধ্যায় থেকে অনুব্রত মণ্ডল, সকলেই এক নাটক করেছিলে। শরীর খারাপ, হাসপাতালে, এখন যাব না...শেষে যেতেই হয়েছিল। একেবারে ভিতরে গিয়েছিলেন। সকলের জন্য অপেক্ষা চলছে।" (TMC News)
আরও পড়ুন: এবার উত্তপ্ত টালিগঞ্জের স্টুডিওপাড়া, মুহুর্মুহু ইঁটবৃষ্টি, ছোড়া হল ডিম, ঘটনাস্থলে পুলিশ
ভোট মিটতেই ভেঙে চুরমার তৃণমূল। মুখে মমতাকে নেত্রী বললেও, তাঁকে উপদেষ্টা হিসেবেই দেখতে চান ঋতব্রতরা। সেই নিয়ে দিলীপের বক্তব্য, "দেখুন, তৃণমূলের এখন গোলমাল চলছে। আগে ওদের ঠিক করতে দিন কোন শিবিরে কে রয়েছেন। এতে আমাদের কী মন্তব্য? দলটাই শেষ হয়ে যাচ্ছে! এটাই ভবিষ্যৎ ছিল। আরও হবে।" নির্বাচনের আগে লাগাতার বিজেপি-কে কটাক্ষ করে গিয়েছেন অভিষেক। এখনকার পরিস্থিতি নিয়ে দিলীপ বলেন, "ভাইপো বলেছিল দরজা খুলে দিলে বিজেপি থাকবে না। আমাদের দরজা বন্ধ রয়েছে। তাতেই এই অবস্থা।"
আরও পড়ুন: মমতার পাশ থেকে সরলেন মুসলিম বিধায়করাও, বিদ্রোহী শিবিরে নাম লেখালেন একে একে অনেকেই
তৃণমূল ভেঙে যাওয়ার পর, কোনটি 'আসল' তৃণমূল, সেই নিয়ে অনেকেই বিভ্রান্ত। জল আদালত পর্যন্ত গড়ালে কী পরিস্থিতি হবে, দলের নাম, প্রতীকচিহ্ন মমতা ধরে রাখতে পারবেন কি না, কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে তা নিয়েও। দিলীপের বক্তব্যস "তৃণমূল নামটিকেও ডেমোলিশ করতে হবে। নামটির উপর বুলডোজার চলা উচিত। ১৫ বছর ধরে বাংলাকে বরবাদ করেছে। লোক আর ওদের শুনতে, দেখতে চায় না। তৃণমূলের আবার ভাল-খারাপ কী?"
বিদ্রোহীদের পাশে নিয়ে ঋতব্রত গতকাল অভিষেককে তীব্র আক্রমণ করেছেন। এদিন অভিষেককে কটাক্ষ করেন দিলীপও। তাঁর কথায়, "সবাই জানে অভিষেক কিছু নয়। তার পরও জবরদস্তি মহামন্ত্রী বানানো হল। সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী ও। সব বিভাগ থেকে টাকা তোলা, অফিসারদের দুর্নীতিগ্রস্ত করে তোলা, সব ও-ই করেছে। অফিসারদের নাম বলতে পারি এক এক করে। গরু, বালি, পাথর, কয়লা থেকে টাকা যেত ওর কাছে। কে কে দিত, তাও জানতাম আমরা, বলতামও। আরও অনেককে ভিতরে যেতে হবে।"
ঋতব্রত এবং বিদ্রোহীরা নিজেদের 'আসল' তৃণমূল বললেও, মমতার পুরনো দিনের সতীর্থগের কেউ কেউ এখনও তাঁর সঙ্গে রয়েছেন। সেই নিয়েও কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন দিলীপ। তাঁর দাবি, কুণাল আসলে 'কালীঘাট গোষ্ঠী'র নেতা হতে চান। তৃণমূলে একাই বেঁচে রয়েছেন কুণাল। তাই তাঁকে নেতা বানিয়ে দেওয়া যেতে পারে বলে মত তাঁর। তৃণমূল যে দুই ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে, তাদের নামও কি আলাদা হবে? ঋতব্রতপন্থী এবং মমতাপন্থী, তৃণমূলের কোন গোষ্ঠীকে কী নামে ডাকবেন তিনি? দিলীপের সাফ জবাব, "কী নাম দিয়েছেন, কে দিয়েছেন জানি না। পুরোটাই তো নকল ছিল! তৃণমূলের আসল আবার কী? এসবে মন্দের ভাল হয় না। খারাপ খারাপই।"
ঋতব্রতর হাতে তৃণমূলের কী অবস্থা হবে, নেতা হিসেবে কতটা গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবেন তিনি, সেই নিয়ে চর্চা চারিদিকে। দিলীপ সেদিকে এগোননি। তাঁর মতে, সময়ই কথা বলবে।
