আশাবুল হোসেন, ময়ূখঠাকুর চক্রবর্তী ও উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়: মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের কথা অগ্রাহ্য় করে তৃণমূলের সংখ্য়াগরিষ্ঠ বিধায়করাই গড়লেন 'আসল তৃণমূল'। বিদ্রোহীদের তালিকায় রয়েছেন জাভেদ খান, অরূপ রায়, আখরুজ্জামান, সাবিনা ইয়াসমিন, গোলাম রাব্বানি, চন্দ্রনাথ সিন্হা, শিউলি সাহারা। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে তৃণমূলের টিকিটে জেতা ৩৪ জন মুসলিম বিধায়কের মধ্যে ১৭ জনই বিদ্রোহী শিবিরে নাম লেখালেন। (Mamata Banerjee)

Continues below advertisement

ভোটে বিপর্যয়ের পরই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল তৃণমূল। মমতার কথা অগ্রাহ্য় করে তৃণমূলের সংখ্য়াগরিষ্ঠ বিধায়করাই গড়লেন 'আসল তৃণমূল'। ৬০ জন বিধায়ক মিলে ‘আসল তৃণমূল’ হওয়ার দাবি করেছেন। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বাকি ২০ জনের দায়িত্ব নিতে পারবেন না তাঁরা। যখন একথা বলছেন ঋতব্রত, সেই সময় তাঁর পাশে বসা আখরুজ্জামান, জাভেদ খানরা। (TMC News)

সবমিলিয়ে বিদ্রোহী বিধায়কদের তালিকায় কে নেই? আখরুজ্জামান, জাভেদ যেমন রয়েছেন, তেমনই রয়েছেন অরবপ রায়, সাবিনা ইয়াসমিন, গোলাম রাব্বানি, রথীন ঘোষ, চন্দ্রনাথ সিনহা। শিউলি সাহার মতো মমতার আমলে হাফ ডজনের বেশি মন্ত্রী ছাড়াও বীরভূমের কাজল শেখ, বর্ষীয়ান বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়, ইমানি বিশ্বাস, নিয়ামত শেখ, গুলশন মল্লিক, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, তৌসিফ উর রহমানের মতো বিধায়করা বিদ্রোহী হয়েছেন।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন: তৃণমূল হাতছাড়া, জোড়াফুল প্রতীকও হারাতে হবে মমতাকে? নাকি রাজনীতি থেকে মুছেই যাবে ঘাসফুল চিহ্ন?

মে মাসের ৩ তারিখ পর্যন্তও যে তৃণমূলে মমতা ছিলেন শেষ কথা, সেই তাঁকেই এখন নিছক পরামর্শদাতা হিসাবে দেখতে চাইছেন বিদ্রোহী বিধায়করা। ঋতব্রত বলেন, “মাননীয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমাদের এই পরিষদীয় দলের প্রধান পরামর্শদাতা হিসেবে থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি।” শিউলি আবার বলেন, “উপদেষ্টা হিসেবে থাকুন (মমতা)। আমাদের কাজ করতে দিন।”

২০১১ সাল থেকে তৃণমূলকে ঢালাও ভোট দিয়েছেন মুসলিমরা। মুসলিমদের স্থায়ী ভোটব্য়াঙ্ক ধরে নিয়েছিলেন মমতা। কিন্তু এবারের ভোটে তাঁর সেই ধারণা ভেঙেছে। মুসলিমদের একটা বড় অংশও এবার সিপিএম-কংগ্রেস, কিংবা বিজেপিকে ভোট দিয়েছে। এর পর ফলতার পুনর্নির্বাচনও দেখিয়ে দিয়েছে, মুসলিম ভোটাররা তৃণমূলের স্থায়ী সম্পত্তি নয়। প্রায় ৩০ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোট থাকা ফলতায় জামানত জব্দ হয়েছে তৃণমূলের। আর বুধবারও দেখা গেল তৃণমূলের মুসলিম বিধায়কদের বড় অংশ বিরোধী দলনেতা বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও মমতার পছন্দকে মানলেন না।

আরও পড়ুন: সব কমিটি, শাখা সংগঠন ভেঙে দিলেন মমতা, ভোটের একমাসের মধ্যেই চুরমার তৃণমূল, নতুন করে দলগঠনের ভাবনা?

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে মুসলিম বিধায়কের সংখ্য়া ৩৪ জন। বুধবার তার মধ্য়ে ১৭ জনই 'আসল তৃণমূল' হিসাবে নিজেদের দাবি করে, মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের উল্টো পথে হাঁটলেন।

দল হাতছাড়া। নেতৃত্ব হাতছাড়া। দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে পাশে থাকা সংখ্য়ালঘুরাও ধীরে ধীরে পাশ থেকে সরে যাচ্ছেন। তাহলে মমতার রাজনৈতিক পুঁজি হিসাবে আর থাকল কী? উঠছে প্রশ্ন।