উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়, কলকাতা : মায়ের বিয়ের মাত্র ২৫ দিনের মাথাতেই চলে গেলেন ছেলে। দিলীপ ঘোষ - জায়া রিঙ্কুর আগের পক্ষের সন্তান সৃঞ্জয় ওরফে প্রীতমের মৃতদেহ উদ্ধার হয় সোমবার তাঁর নিউটাউনের আবাসন থেকে। সুখবৃষ্টি নামের এই আবাসনের আগে মায়ের সঙ্গেই থাকতেন তিনি। মায়ের বিয়ের পর তিনি এখানে থাকেন একাই, খবর অন্তত এমনটাই। মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার পরই বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে নানারকম খবর। সংবাদ প্রতিবেদকরাও নানা মাধ্যমে নান তথ্য পাচ্ছেন। 

এই মুহূর্তে জানা যাচ্ছে, সকাল দশটা নাগাদ বাড়িতে প্রিতমের বাড়িতে আসেন রান্নার পরিচারিকা। তিনি প্রতিদিনই ওই সময়ে আসতেন । তিনিই দেখেন প্রিতমের সাড়হীন দেহ। শোনা যাচ্ছে, এই প্রতিমাই পাশের ফ্ল্যাটে এসে খবর দেন 'দাদাবাবুর শরীর পুরো ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে' । তারপরই প্রতিবেশীরা তার ফ্ল্যাটে ঢোকেন।

এক প্রতিবেশী জানিয়েছেন তিনি ঘরে গিয়ে দেখেন খাটে শুয়ে রয়েছে প্রিতম। শরীর একেবারে ঠান্ডা ... খালি গা... একটা বারমুডা পরা। সামনে আরেকটি বন্ধু বসে আছে। তারও খালি গা। সে পা ডলে দিচ্ছে।  সূত্রের খবর, সেই সময়  আরেকজন ভদ্র মহিলাও ছিলেন প্রিতমের ফ্ল্যাটে। তিনিই সম্ভবত প্রীতমের বান্ধবী।

এক প্রতিবেশী ভদ্রমহিলা জানিয়েছেন, এর আগেও তিনি এই মহিলাকে এই ফ্ল্যাটে দেখেছেন। এই মহিলাও অসম্ভব কান্নাকাটি করছিলেন। অ্যাম্বুলেন্সে খবর দেওয়া হয়। মা রিঙ্কু মজুমদারকেও খবর দেওয়া হয়।

বিভিন্ন সূত্র মারফত দাবি, সোদিন রাতে ওই ফ্ল্যাটেই ছিলেন প্রিতমের এক পুরুষ বন্ধু ও এক ভদ্র মহিলা। ওই মহিলা বান্ধবীই ফোন করেন রিঙ্কু মজুমদারকে।  ঠিক সাড়ে দশটার সময় রিঙ্কু মজুমদার আসেন। তিনি ঘরে ঢুকে প্রথমে বলেন, 'এর আগে ওর এরকম হয়েছে... ওকে পাশ ফিরিয়ে শোয়া।' তারপরই রিঙ্কু মজুমদারের গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ডাক্তাররা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রতিবেশী জানিয়েছেন ,ছেলেটি সবার সঙ্গে কথা বলতেন। কোনও ধরনের খারাপ অভিযোগ তাঁর সম্পর্কে নেই।  এই বান্ধবীকেও এলাকার মানুষজনও চেনেন। বিভিন্ন সূত্র থেকে দাবি, এই বান্ধবীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়ে গিয়ে থাকতে পারে, বা হয়ত বিয়ে হবে । 

এখন দেহ পাঠানো হয়েছে ময়না তদন্তে। ময়না তদন্তের পরই জানা যাবে কীভাবে মৃত্যু সৃঞ্জয়ের।