দীপক ঘোষ, শিবাশিস মৌলিক ও রঞ্জিত সাউ, কলকাতা : আজ কলকাতায় পুজো উদ্বোধন করবেন অমিত শাহ। শুরুতে কথা ছিল তিনটি পুজো উদ্বোধন করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে বৃহস্পতিবার তিনি কলকাতায় আসার আগে বদলায় সেই সূচি। জানা যায়, তিনটে নয়, দুটো পুজোর উদ্বোধন করবেন অমিত শাহ। তালিকা থেকে বাদ পড়ে দক্ষিণ কলকাতার সেবক সঙ্ঘ। বিধানসভা ভোটের আগে, পুজো উদ্বোধনেও কি রাজনীতির টক্কর? একদিকে যখন লাগাতার একের পর এক পুজোর উদ্বোধন করে চলেছেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়, তখন শুক্রবার এই ভূমিকায় দেখা যাবে অমিত শাহকে! বৃহস্পতিবার রাতেই কলকাতায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে তার মধ্য়েই বদলাল তাঁর সফরসূচি। শুক্রবার তিনটে নয় দু'টি পুজোর উদ্বোধন করবেন তিনি।
কলকাতার হাইপ্রোফাইল পুজোগুলির অধিকাংশের সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছেন তৃণমূলের নেতা-নেত্রীরা। সেই তুলনায় বিজেপির হাতে রয়েছে গুটিকয়েক পুজো। এই আবহে বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতায় পৌঁছনোর পর, শুক্রবার অমিত শাহ তিনটি পুজোর উদ্বোধন করতে পারেন বলে সূত্রের খবর ছিল। উত্তর কলকাতার সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার, সল্টলেকের EZCC এবং দক্ষিণ কলকাতার সেবক সঙ্ঘ। বিজেপি সাংসদ ও কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, আমরা ঠিক করেছি, উত্তর কলকাতায় একটি। প্রথমে EZCC ঠিক ছিল। উত্তর কলকাতা এবং EZCC-র পুজো তিনি উদ্বোধন করবেন। কিন্তু, তারপর আমরা দক্ষিণ কলকাতার একটি পুজো বাছি, এই জন্য় যে দক্ষিণ কলকাতা মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের গড়। মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের বাড়ি সেখানে। তাহলে বাড়ির ভিতর ঢুকে দাদাগিরি দেখাতে একটু ভাল লাগে আমাদের। কিন্তু, রাতে অমিত শাহ কলকাতায় পা রাখার ঠিক আগেই জানা যায়, তিনটে নয় দু'টো পুজোর উদ্বোধন করবেন তিনি।
তালিকা থেকে বাদ পড়ে দক্ষিণ কলকাতার সেবক সঙ্ঘ। জানানো হয়, সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার এবং EZCC-র পুজোর উদ্বোধন করবেন অমিত শাহ। মাঝে যাবেন কালীঘাট মন্দিরে।এর আগে বুধবারই কুণাল ঘোষ সোশাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন, লোকজন হবে না। তাই দক্ষিণ কলকাতায় বাতিল হল অমিত শাহর পুজো উদ্বোধন। ৮৭ নম্বর ওয়ার্ডে সেবক সঙ্ঘে ২৬ সেপ্টেম্বর চতুর্থীর দুপুরে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। দিল্লি থেকে রাজ্য বিজেপিকে এইমাত্র জানানো হয়েছে তা বাতিল। এই নিয়ে জল্পনা তীব্র হয়।বৃহস্পতিবার শেষ অবধি জানা গেল, অমিত শাহর উদ্বোধনের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে সেবক সঙ্ঘ।
পুজোর পর বিজেপি যে এরাজ্য়ের বিধানসভা ভোটের জন্য় ঝাঁপাতে চলেছে, তা কার্যত স্পষ্ট করে, নির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ভিন রাজ্য়ের নেতাদের।পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের দায়িত্বে আনা হল কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবকে। তাঁর ডেপুটি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্য়মন্ত্রী বিপ্লব দেবকে। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য় সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, ছোট্ট রাজ্য়ে যাঁকে মুখ্য়মন্ত্রী রাখার উপযুক্ত মনে করে না, যাঁকে মাঝপথে সরিয়ে দেয়, তাঁকে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের দলের সাংগঠনিক কাজের দায়িত্বে সহ প্রভারী। মনে রাখবেন, ত্রিপুরায় যাঁকে মুখ্য়মন্ত্রিত্ব থেকে সরাতে হয়। যাঁকে বিজেপি মুখ্য়মন্ত্রী হওয়ার উপযুক্ত মনে করে না, তাঁকে পাঠিয়েছে এখানে। বাকিটা আপনারা বুঝে নিন।
নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। এর আগে ২০১৩ সালে রাজস্থান, ২০১৪ সালে ঝাড়খণ্ড, ২০১৭ সালে গুজরাত ও উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা ভোটে বিজেপির হয়ে ভোটের গুরুদায়িত্ব সামলেছেনএবং দলকে সাফল্য়ে এনে দিয়েছেন! ২০২০ সালে বিহার বিধানসভা ভোটেও বিজেপির দূর্দান্ত ফলাফলের নেপথ্য়ে ছিলেন ভূপেন্দ্র যাদব! এবার পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার ক্ষমতা দখলের লক্ষ্য়ে তাঁর ওপরই বড় দায়িত্ব দিলেন মোদি-শাহ।
