কলকাতা: পর পর সিপিএমের স্টলে হামলা। উত্তর ২৪ পরগনার বীজপুরে ভাঙচুর। পলতায় উঠল স্টল পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ। ঘটনায় বিজেপির দিকে আঙুল তুলেছে সিপিএম। অস্বীকার করেছে বিজেপি। কুলপিতে 'জয় শ্রীরাম' স্লোগান দিয়ে ভাঙচুর করা হয় বামেদের বুকস্টল। এদিকে SUCI এর বুক স্টল ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সিউড়িতে, আবার মুরারইতে অভিযোগ উঠছে উদ্বোধনের আগেই সিপিএমের বুক স্টলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার।  

Continues below advertisement

শুক্রবার রাতে স্টলে কাজ সেরে বাড়ি চলে যায় SUCI কর্মীরা। অভিযোগ তারপরেই সিউড়িতে গভীর রাতে স্টলে এসে হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। আবার মুরারইতে পুড়িয়ে দেওয়া হল সিপিএমের বুক স্টল, তাও আবার উদ্বোধনের আগেই। দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগে সরব সিপিএম। মুরারই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

স্বাভাবিকভাবেই এই বিষয়ে তুঙ্গে রাজনৈতিক তর্জা। পরিবহন মন্ত্রী অর্জুন সিং দাবি করছেন নির্দেশ রয়েছে বুকস্টল করতে না দেওয়ার। তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘যাঁরা দেশকে ক্ষতি করে… তাঁদের ভারতবর্ষে রাখার কোনও জায়গাই নেই। করতে দেওয়া যাবে না বলছি তো... করতে দেব না। সব জায়গায় নির্দেশ আছে।’

Continues below advertisement

জবাবে সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য গার্গী চট্টোপাধ্যায়কে বলতে শোনা যায়, ‘ওঁ মন্ত্রীমানুষ, কী বলছেন একটু ভেবে বলুন। ওরকম অনেক হুঁশিয়ারি আমরা শুনেছি।’ প্রতিবারই পুজোর সময় মণ্ডপের আশেপাশে বইয়ের স্টল করে বামপন্থীরা। সম্প্রতি সিপিএমের বুকস্টলের প্রসঙ্গ শোনা যায় মুখ্যমন্ত্রীর মুখেও। শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, ‘আমি সব দুর্গাপূজা কমিটিকে বলব, এই তথাকথিত কমিউনিস্টরা পুজোর স্টল করতে গেলে শারদোৎসবের জায়গায় যদি দুর্গাপুজো না লেখে, একটা স্টলও করতে দেবেন না।’

আরও পড়ুন:- ১৩১তম বর্ষে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের গ্রামের বাড়ির দুর্গাপুজো, আজ ঘট প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে শুরু সপ্তমী

এরপরই পুজোয় বামেদের স্টল বসতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে এন্টালির কামারডাঙা সাধারণ দুর্গোৎসব সমিতির এই সামনে আসে। সেখানেই এবার বুকস্টল তৈরিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠল। 

গোটা ঘটনার প্রতিবাদ করে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম স্পষ্ট জানিয়ে দেন কোনও শাসক তাঁদের বই বিক্রি আটকাতে পারবে না। ‘কখনও কসবায়, কখনও হাওড়ায়, কখনও বেহালায়, কখনও বিরাটিতে, কখনও ভাটপাড়ায়, নৈহাটিতে একটার পর একটা বামপন্থী দলগুলোর সংগঠনগুলোর যে বুকস্টল আছে, সেটা ভাঙচুর করা। অগ্নিসংযোগ করা, হামলা করা হাঙ্গামা করার চেষ্টা হচ্ছে। আমরা সেগুলো প্রতিহত করব। বই পড়া, বই ছাপা, বই বিক্রি করা কোনও শাসক আটকাতে পারে না।’, বলতে শোনা যায় তাঁকে। 

এই ঘটনায় সিপিএমের পাশে মমতা তৃণমূল কংগ্রেসও। বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘বিজেপির তরফ থেকে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে দেখা যাচ্ছে একাধিক জায়গায় CPM-এর স্টলগুলি আক্রান্ত হচ্ছে। বাধা পাচ্ছে। এটা হওয়া উচিত নয়। গণতান্ত্রিক পরিসরটাকে তো ওরা নষ্ট করে দিচ্ছে এই ভারতীয় জনতা পার্টি।’

তবে হামলাকারীরা বিজেপির সঙ্গে জড়িত নয় বলেই দাবি শমীক ভট্টাচার্যের। বিজেপি রাজ্য সভাপতির দাবি, ‘কোনও স্টল ভাঙচুর, কোনও জায়গার রং বদল, এর মধ্যে বিজেপি দূর দূর পর্যন্ত নেই। হঠাৎ বিজেপি কিছু হয়েছে। তাঁরা গিয়ে পুরনো রাগ মেটাতে ওখানে গিয়ে কিছু করেছে।’

সবমিলিয়ে দুর্গাপুজোয় সিপিএমের বুকস্টল ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে।