মনোজ বন্দ্যোপাধ্যায়, দুর্গাপুর: ক্যাম্পাসের বাইরে খেতে গিয়ে গণধর্ষিতা হলেন ভিন রাজ্য থেকে পড়তে আসা ডাক্তারি পড়ুয়া। এমনই অভিযোগ উঠেছে দুর্গাপুরে। দ্বিতীয় বর্ষের MBBS পড়ুয়া ওড়িশার জলেশ্বরের বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে খবর, গতকাল রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ ক্যাম্পাসের বাইরে সহপাঠীর সঙ্গে খেতে যান ওই ছাত্রী। অভিযোগ, ফেরার সময় ২-৩ জন যুবক তাঁদের পথ আটকায়। একজন ডাক্তারি পড়ুয়ার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। আরেকজন তাঁকে নির্জন জায়গায় টেনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। পরে নির্যাতিতার সঙ্গী তাঁকে ওই মেডিক্যাল কলেজেই ভর্তি করেন। পুলিশ জানিয়েছে, গণধর্ষণের অভিযোগে তদন্ত চলছে। নির্যাতিতার বয়ান নেওয়া হয়েছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে নির্যাতিতার সঙ্গীর ভূমিকাও।
সূত্রের খবর পরে নির্যাতিতার সঙ্গীই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। নির্যাতিতার মা-বাবা ওড়িশা থেকে দুর্গাপুরে এসেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, গণধর্ষণের অভিযোগ পেয়ে তদন্ত চলছে।নির্যাতিতার বয়ান নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অন্যদিকে, আজই ঘটনাস্থলে যাচ্ছে জাতীয় মহিলা কমিশন। কমিশনের সদস্যা অর্চনা মজুমদার জানিয়েছেন, এ রাজ্যে ধর্ষকদের শাস্তি না হওয়ায় এ ধরনের অপরাধ বাড়ছে। এদিন নির্যাতিতার সঙ্গে দেখা করতে ওই বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে যায় পশ্চিম বর্ধমান জেলা সিপিএম নেতৃত্ব। নিরাপত্তা রক্ষীরা বাধা দিলে উত্তেজনা ছড়ায়। বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের কাছ থেকে রিপোর্ট চাইলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা। বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট চাইলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা ইন্দ্রজিৎ সাহা। স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে খবর, পুলিশি তদন্তের ওপর নজর রাখা হচ্ছে। বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষকেও দ্রুত রিপোর্ট দিতে বলেছে স্বাস্থ্য ভবন।
এই ঘটনায় নির্যাতিতার বাবা বলেন, হাসপাতালের নিরাপত্তা থাকলে মেয়ের এই অবস্থা হয় না। অন্যদিকে, ভিনরাজ্যের পড়ুয়াকে গণধর্ষণের অভিযোগে উত্তাল দুর্গাপুরের মেডিক্যাল কলেজ। প্রিন্সিপালকে ঘিরে বিক্ষোভ। পড়ুয়াদের মৌন প্রতিবাদ। কলেজের বাইরে বিক্ষোভ বামেদের।