সন্দীপ সরকার, কলকাতা : ফের পরীক্ষায় ফেল করল দেড়শো-র বেশি সংস্থার ২০৭টি ওষুধ। CDSCO-র রিপোর্টে বলা হয়েছে, অ্যান্টিবায়োটিক ইঞ্জেকশনে ভাসছে ব্যাকটেরিয়া। কাফ সিরাপ খেয়ে শিশুমৃত্যুর অভিযোগে বিশ্বজুড়ে কালো তালিকাভুক্ত হওয়া সংস্থা শ্রেসান ফার্মাসিউটিক্যালস এবং রিলিফ বায়োটেক-এর তৈরি একাধিক ওষুধ ফেল করেছে দেশের বিভিন্ন জায়গায়।
আরও পড়ুন, সন্দেশখালিতে পুলিশের ওপর হামলায় গ্রেফতার ফেরার তৃণমূল কর্মী মুসার ভাই
সময় যত আধুনিক, ততই যেন জটিল জীবন। আর সেই জটিলতাকে ভয়ঙ্কর করে তুলছে নানা রকম রোগ-ব্যাধী।জাল আর নিম্নমানের ওষুধের রমরমা কেড়ে নিচ্ছে রাতের ঘুম। এরকম একটা সময়ে উদ্বেগ বাড়িয়েই চলেছে Central Drugs Standard Control Organization বা CDSCO (উচ্চারণ: সিডিএসকো)-র একের পর এক রিপোর্ট। ফের ফেল করল, দেড়শো-র বেশি সংস্থার ২০৭টি ওষুধ! কিন্তু ঠিক কী কী কারণে ফেল করল এত ওষুধ? CDSCO-র রিপোর্টে বলা হয়েছে, অ্যান্টিবায়োটিক ইঞ্জেকশন Meropenem (মেরোপেনেম)-এ ভাসছে ব্যাকটেরিয়া।
Ceftriaxone (সেফট্রিয়াক্সন), এমোক্সিসিলিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ ঠেকানোর ইঞ্জেকশন ফেল করেছে স্টেরিলিটি টেস্টে। অ্যান্টিবায়োটিকের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত Colistimethate (কোলিস্টিমিথেট) সোডিয়াম ইঞ্জেকশনে ভাসছে ব্যাকটেরিয়া। খিঁচুনি কমাতে ব্যবহৃত ইঞ্জেকশনের ভায়ালে ভাসমান কঠিন পদার্থ। অপারেশনের আগে রোগীকে অবশ করার জন্য ব্যবহৃত হয় Bupivacaine (বিউপিভ্যাসাইন) ইঞ্জেকশন।কলকাতার কেন্দ্রীয় ড্রাগ ল্যাব বলছে, ইঞ্জেকশনের ভায়ালে মিলেছে ক্ষতিকারক পদার্থ।
কাফ সিরাপ খেয়ে শিশুমৃত্যুর অভিযোগে বিশ্বজুড়ে কালো তালিকাভুক্ত হওয়া সংস্থা শ্রেসান ফার্মাসিউটিক্যালস এবং রিলিফ বায়োটেক-এর তৈরি একাধিক ওষুধ ফেল করেছে দেশের বিভিন্ন জায়গায়।চেন্নাই-এর সংস্থার তৈরি শিশুদের প্যারাসিটামল সিরাপে মিলেছে দূষিত পদার্থ, শুধু দূষিত পদার্থ নয়, অন্যান্য কারণেও ফেল করেছে বহু ওষুধ।CDSCO-র রিপোর্টে বলা হয়েছে, অ্যান্টিবায়োটিক ট্যাবলেট Cefixime (সেফিক্সিম)-এ ওষুধের পরিমাণ মাত্র ২০ দশমিক ৫৪%।
জম্মু-কাশ্মীরের সংস্থার তৈরি ইঞ্জেকশনের উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত জলের নমুনা ফেল করেছে বিশুদ্ধতা যাচাই-এ। মুখে দেওয়ার ৩ মিনিটের মধ্যে যে ভিটামিন ট্যাবলেটের গলে যাওয়াার কথা, তা দীর্ঘ সময় পরেও দ্রবীভূত হচ্ছে না।হজমের ওষুধ Ranitidine (রেনিটিডিন)-এর একই স্ট্রিপের ভেতরে থাকা এক একটি ট্যাবলেটের রং আলাদা। অ্যান্টিবায়োটিক ট্যাবলেট অ্যামোক্সিসিলিন ও পটাশিয়াম ক্ল্যাভুলেনেট। একই স্ট্রিপে ১০ টি ট্যাবলেটের মধ্যে ৪টিতে ওষুধ ঠিক মাত্রায় আছে। তিনটিতে ওষুধের মাত্রা বেশি, তিনটিতে কম। ৯০%-এর বদলে ওষুধ আছে মাত্র ২৬% কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোলের রিপোর্টে অনুযায়ী, তামিলনাড়ুর দুটি আলাদা সংস্থায় তৈরি দুটি আলাদা কাফ সিরাপের বোতলে ভেতরে ওষুধ এক, গায়ে লেভেল আরেক। গুজরাতের মোদি অ্যান্টিবায়োটিক সংস্থার তৈরি রক্তের ঘনত্ব কমানোর অ্যাসপিরিন ট্যাবলেট। ট্যাবলেটে ওষুধের মাত্রা কম। কোন ট্যাবলেট গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে, বিভিন্ন ট্যাবলেট বিভিন্ন আকৃতির। বিশুদ্ধতা যাচাইয়ে ফেল করেছে চোখের সংক্রমণ ঠেকানোর ড্রপ, প্যাকেজিংয়ের ত্রুটি এবং বিশুদ্ধতার মাপকাঠিতে ফেল করেছে গুজরাতের সংস্থার তৈরি ইনফিউশন সেট। এমনকী, তীব্র ক্ষার জাতীয় উপাদান থাকায় ফেল করছে শ্যাম্পু থেকে কন্ডিশনার।