উত্তর ২৪ পরগনা : সন্দেশখালিতে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় আরও গ্রেফতারি। এবার ফেরার তৃণমূল কর্মী মুসা মোল্লার ভাই মুর্তাজা মোল্লা গ্রেফতার। পাকড়াও মুর্তাজা মোল্লার দুই ছেলেও। ধৃত দুই ছেলের নাম মন্তাজুল মোল্লা, ও মনোয়ার হোসেন মোল্লা। যদিও হামলাকাণ্ডে এখনও ফেরার মূল অভিযুক্ত মুসা মোল্লা। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জীবনতলা এলাকা থেকে গ্রেফতার। এর আগে সন্দেশখালিতে জমি দখলের অভিযোগের মামলার তদন্তে গিয়ে আক্রান্ত হয় পুলিশ। এই ঘটনায় আগেই এক মহিলা-সহ ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এই ঘটনায় গ্রেফতারির সংখ্যা বেড়ে হল ১২.
আরও পড়ুন, "মুখ্যমন্ত্রীর হেঁসেলে আগুন.." ! জ্ঞানেশকে মমতার পাল্টা চিঠি শুভেন্দুর, তোপ সজলেরও
শুক্রবার রাতে সন্দেশখালিতে জমি দখলের অভিযোগের মামলার তদন্তে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মুসা মোল্লা তৃণমূল কর্মী বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। কিন্তু পঞ্চায়েত প্রধানের সাফ বক্তব্য, মুসার সঙ্গে কোনও যোগ নেই তৃণমূলের। ভেড়ি তৈরি করার জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর চাপ! জোর করে জমি দখলের অভিযোগ। আর এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তৃণমূলকর্মীর বাড়িতে গিয়ে আক্রান্ত হতে হয়েছে পুলিশকে।সন্দেশখালিতে আহত হয়েছেন এক আধিকারিক-সহ ৬ পুলিশ কর্মী! ফের এই ঘটনায় জড়িয়েছে তৃণমূলের নাম! মূল অভিযুক্ত মুসা মোল্লা বয়ারমারি দু-নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের চুঁচুড়ার বাসিন্দা। তিনি এলাকায় সক্রিয় তৃণমূল কর্মী হিসেবে পরিচিত! প্রশ্ন: মুসা কোন পার্টি করে?সন্দেশখালির বাসিন্দা : ও TMC পার্টি করে।
আর শুক্রবার রাতের এই ঘটনায় বয়ারমারি দু'নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধানকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। এরপর মাঝরাতে থানা থেকে বেরনোর পর, একেবারে উল্টো বক্তব্য শোনা গেছে তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানের গলায়।পঞ্চায়েত বয়ারমারি প্রধান নামিনাল হক মোল্লা বলেন, মুসা মোল্লার সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কোন যোগসূত্র নেই। এদিকে তৃণমূলকর্মী মুসার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ করা আইনুল হক গাজি এদিন আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেছেন। সন্দেশখালি ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ মতিয়ার তরফদারের দিকে আঙুল তুলেছেন তিনি।
মামলাকারী জমির মালিক আইনুল হক গাজি বলেন, শাসকদলকে সামনে রেখে সন্দেশখালিতে দুর্নীতি করে চলেছে পুলিশের উপরে হামলাকারী মুসা মোল্লা।সন্দেশখালি ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির বনভূমির কর্মাধ্যক্ষ মতিয়ার তরফদার এই দুর্নীতির কিং পিং। তার বিরুদ্ধে তদন্ত হলে একের পর এক আরও বড়সড় দুর্নীতি সামনে আসবে।যদিও সন্দেশখালি ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ মতিয়ার তরফদারের বক্তব্য, দলের নির্দেশ থাকায় এই নিয়ে কোনও মন্তব্য তিনি করবেন না।