কলকাতা: বিধাননগরের পর এবার ভাঙন কলকাতা পুরসভাতেও। কলকাতা পুরসভার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ হাকিম। পুরসভার কমিশনারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা করলেন তিনি। তার আগে সংবাদমাধ্যমের কাছে নিজের 'মনের কথা' খুলে বলেন তিনি। আর সেখানেই তিনি জানালেন হঠাৎ কেন তিনি ইস্তফা দিচ্ছেন। যদিও জানা গিয়েছে, ঘনিষ্ঠ মহলে ববি হাকিম জানিয়েছেন যে, "বর্তমান পরিস্থিতিতে কাজ চালিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।"

Continues below advertisement

আরও পড়ুন: অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য প্রয়োজন ফ্যামিলি আইডি, কোথায় খুঁজে পাবেন এই নম্বর?

রাজ্যের প্রাক্তন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বললেন, "কেন আমি ইস্তফা দিচ্ছি? তার কারণ হল ফিরহাদ হাকিম কেউ না। কিন্তু যে চেয়ারটায় আমাদের সেই সব প্রাতঃস্মরণীয় ব্যক্তিরা বসেছিলেন, সেই চেয়ারটার একটা আলাদা সম্মান আছে। আমি নিজে যখন মেয়র ছিলাম, দাপটের সঙ্গে চালিয়েছি। নিজেই পৌরমন্ত্রী, নিজেই মেয়র। পুরসভায় যেটা অনুমোদিত সেটাই পুরমন্ত্রক থেকে অনুমোদন করিয়ে নিয়ে এসে কাজ করা। যে সব মানুষরা আসতেন, তাঁদের সঙ্গে সঙ্গে সমস্যার সমাধান করা। এই কাজটা করতাম। এখন সেটা আর সম্ভব হচ্ছে না। তাই সেই চেয়ারটাকে আমি অবমাননা করতে পারি না। চেয়ারটার সম্মানহানি করতে পারি না। চেয়ার ধরে বসে রইলাম, ঢাল নেই, তরোয়াল নেই, নিধিরাম সর্দার। সেই মানুষগুলো, যাঁরা হয়তো আমার থেকেও দাপটে ওই মেয়রের চেয়ার চালিয়ে গিয়েছেন, তাঁদের প্রতি অসম্মান হবে। তাই আমি ঠিক করেছি যে আমি আজ ইস্তফা দিচ্ছি।"

Continues below advertisement

আগামীতে যে বা যাঁরা কলকাতা পুরসভা চালাবেন, তাঁদের শুভেচ্ছাও জানালেন ফিরহাদ। ববি হাকিম বললেন, "আর শুভেচ্ছা জানাই তাঁদের, যাঁরা আগামী দিনে দায়িত্ব নেবেন, পৌরসভা চালাবেন। তাঁরা হয়তো আমার থেকেও ভালভাবে চালাবেন। অনেকের সমালোচনা করবেন বা অনেকে অনেক কিছু হয়তো বলবেন। কিন্তু স্বচ্ছ ভাবে পৌরসভা চালানো এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করাই হল কাজ।"

আরও পড়ুন: জাহাজমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী, তাজপুরে নয়, কোথায় হবে বন্দর ? জানিয়ে দিলেন

রাজ্যের নতুন সরকার ও নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে আবেদনও করেন তিনি। রাজ্যের প্রাক্তন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী বললেন, "নতুন সরকারের কাছে ও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমার আবেদন মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করার জন্য। আমরা সকলের এখানে মানুষের জন্য রয়েছি। আমরা মানুষকে সহায়তা করব। মানুষের জন্য কাজ করব। আর যে সর্বতকৃষ্ট কাজ করবে, মানুষ তাঁকেই নির্বাচিত করবে। তাই শুভেচ্ছা দিয়ে আমি এই চেয়ার আজ খালি করলাম।"