হাওড়া: ২০১৩ সালে শেষবার হাওড়া পুরভোট হয়েছিল। তারপর গঙ্গা দিয়ে অনেক জলই বয়ে গিয়েছে। কিন্তু সমাধান আসেনি। মাঝে হঠাৎ আশীর্বাদ হয়ে এল তামিলনাড়ু ইস্যু। 'সুপ্রিম' নির্দেশে খুলে গেল সেই রাজ্যের আটকে যাওয়া বিলের জট। আর এবার একলহমায়, এরাজ্যেও বহুদিনের আটকে থাকা বিলের উপর থেকে সরল ধুলো। অবশেষে হাওড়া মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন সংশোধনী বিলে অনুমতি রাজ্যপালের।
আরও পড়ুন, বড়বাজারে অগ্নিকাণ্ডের জের, মুখ্যমন্ত্রীর সারপ্রাইজ ভিজিটের পর ৬টি রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দিল প্রশাসন !
হাওড়া পুরভোটের রাস্তায় আর নেই কোনও প্রশাসনিক জট
২০২১ সালে বিধানসভায় পাস হওয়া এই বিল আটকে ছিল রাজ্যপালের দফতরে। অবশেষে সেই বিলেই স্বাক্ষর করেছেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। হাওড়া পুরভোটের রাস্তায় আর নেই কোনও প্রশাসনিক জট। ২০১৫ সালে বালি পুরসভার ১৬টি ওয়ার্ড যুক্ত হয় হাওড়ার সঙ্গে, ওয়ার্ড সংখ্যা বেড়ে হয় ৬৬। ২০২১ সালে রাজ্য সিদ্ধান্ত নেয়, বালি পুরসভাকে আলাদা করে দেওয়া হবে।
কেন আশীর্বাদ হয়ে এল তামিলনাড়ু বিধানসভায় পাশ হওয়া ১০ বিল ?
মূলত, তামিলনাড়ু বিধানসভায় পাশ হওয়া ১০ বিল, রাজ্যপালের সম্মতির অভাবে একইভাবে আটকে ছিল। এরপরেই রাজ্যপালের এই ভূমিকা নিয়ে বিরোধীতা জানিয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল তামিলনাড়ু সরকার। এরপরেই শীর্ষ আদালতের প্রশ্নের মুখে পড়েন ওই রাজ্যের রাজ্যপাল আরএন রবি।
দেশের রাষ্ট্রপতিও অনির্দিষ্ট কালের জন্য কোনও বিল আটকে রাখতে পারেন না : সুপ্রিম কোর্ট
'সুপ্রিম' নির্দেশ স্পষ্ট জানানো হয়, বিধানসভায় পাশ হওয়া কোনও বিলই দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রাখা যাবে না। তিনমাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে রাজ্যপালকে। একইভাবে দেশের রাষ্ট্রপতিও অনির্দিষ্ট কালের জন্য কোনও বিল আটকে রাখতে পারেন না বলেই জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এরপরেই রাজ্য বিধানসভাতেও এই দাবি ওঠে।
এই ইস্যু ওঠার পরেই দাবি তোলেন রাজ্য বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়
সম্প্রতি এই ইস্যু ওঠার পরেই রাজ্য বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজভবনে আটকে থাকা বিলগুলি যাতে দ্রুত অনুমোদন পায় সেই দাবি তুলেছিলেন। এদিকে একুশ সালে তৎকালীন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের হাত থেকে অনুমোদন না পেলেও, হঠাৎ তামিলনাড়ু ইস্যুই নাড়িয়ে দেয় ভিত। রাজভবনে আটকে থাকা বহু দিনের হাওড়া মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন সংশোধনী বিলের উপর পড়ে রাজ্যপালের সিলমোহর।