আরও গাঢ় হচ্ছে কালো ছায়া। ছড়াচ্ছে আতঙ্ক। ইতিমধ্যেই এনআরএস মেডিক্যালে আমডাঙার ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে গুলেন বেরি সিনড্রোমে আক্রান্ত হয়ে । তার ডেথ সার্টিফিকেটেও রয়েছে সেপটিক শক, গুলেন বেরি সিনড্রোমের উল্লেখ। আর এবার  হুগলির ধনেখালিতেও গুলেন বেরি সিনড্রোমের হানার আশঙ্কা দেখা দিল। সকালে চিকিৎসকের চেম্বারে আসেন বছর ৪৮-এর সতীনাথ লোহার। তাঁর সিনড্রোমের সঙ্গে মিলল জিবি সিনড্রোমের মিল। 


রোগী জানান, তাঁর কয়েকদিন ধরে ডায়েরিয়ার মতো উপসর্গ ছিল। এবার শরীরের নিম্নাংশ অবশ হতে শুরু করেছে। সঙ্গে শ্বাসকষ্টও রয়েছে। প্রাথমিকভাবে গুলেন বেরি সিনড্রোম বলে মনে হওয়ায় চেম্বারেই চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন ওই চিকিৎসক। অবস্থার অবনতি হওয়ায় ওই রোগীকে অ্যাম্বুল্যান্সে করে কলকাতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।  


মহারাষ্ট্রে গুলেন বেরি আতঙ্ক চরমে। তারই মাঝে কলকাতায় প্রথমে ইনস্টিটিউট অফ চাইল্ড হেলথে গুলেন বেরি সিনড্রোমে আক্রান্ত ২ শিশুর খবর পাওয়া যায়। এরপরই আকস্মিক মৃত্যু সংবাদ আসে NRS হাসপাতালে ভর্তি এক কিশোরের। আমডাঙার বাসিন্দা ওই কিশোরের বয়স ছিল ১৭-র আশেপাশে। পরিবারের অভিযোগ, NRS মেডিক্যাল কলেজে আনার পরে শারীরিক দুর্বলতার কথা বলে ইঞ্জেকশন দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছিল রোগীকে। জোর করেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। GB সিনড্রোম শনাক্ত হওয়ার পর দেখা যায়, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ইঞ্জেকশন নেই, রোগীর পরিবারকে বাইরে থেকে কিনতেও দেওয়া হয়নি। পরে প্লাজমা থেরাপি শুরু হলেও, কিশোরকে বাঁচানো যায়নি বলে পরিবারের অভিযোগ। আমডাঙার বাসিন্দা অরিত্র মণ্ডলকে স্থানীয় হাসপাতাল থেকে ২১ জানুয়ারি NRS হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার মৃত্যু হয় বারাসাত গভর্নমেন্ট স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রের। ডেথ সার্টিফিকেটে সেপটিক শক, GB সিনড্রোমের উল্লেখ রয়েছে।  


NRS-এ ভর্তি কিশোরের গুলেন বেরি সিনড্রোমে মৃত্যুর পর নড়েচড়ে বসল স্বাস্থ্য দফতর। রাজ্যে GB সিনড্রোমে কতজন আক্রান্ত, খোঁজ নিতে বৈঠক শুরু হয়েছে। চিকিৎসা পরিকাঠামোয় কী আছে, কী করণীয়, জানতে স্বাস্থ্যভবনে বৈঠক করছে। খবর, বি সি রায় ও কলকাতা মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন GB সিনড্রোমে আক্রান্ত আরও  ২ শিশু। পার্ক সার্কাস ICH-এ ভর্তি ভেন্টিলেশনে রয়েছে ৮ ও ৯ বছরের দুই বালক।  


জেনে রাখুন রোগের উপসর্গগুলি : 



  •  পা বা কোমর অবশ হয়ে যায়।

  • একে একে শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অসাড় হয়ে যেতে পারে।

  • কথা বলার শক্তি চলে যায়। 

  • খেতে কষ্ট হয়। 

  • দুর্বল হয়ে যায় স্নায়ু এবং ফুসফুসের পেশি। 

  • শ্বাস প্রশ্বাসে কষ্ট হয়

  • পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়ার মতো পরিস্থিতি হয়।