অনির্বাণ বিশ্বাস, কলকাতা : আবার কলকাতায় দুষ্কৃতী রাজ। আবার সেই আনন্দপুর । অস্ত্রের দাপাদাপি । ভর সন্ধেয় প্রকাশ্য রাস্তায় অস্ত্র নিয়ে ঘোরাঘুরি। আইনের শাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ধারালো অস্ত্র নিয়ে দৌরাত্ম্য একদলের। তাও কলকাতার জনবহুল এলাকায়। ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসের পর ফের শিরোনামে আনন্দপুরের গুলশন কলোনি।  

বারবার কেন শিরোনামে গুলশন কলোনি           

গত বছর ১৫ নভেম্বর এই অঞ্চলের ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষকে তাঁর বাড়ির সামনে গুলি করে খুনের চেষ্টা করা হয়। তারপর এই অঞ্চলের নানা গা-শিউরে ওঠা কাহিনি প্রকাশ্যে চলে আসে। সামনে আসে বেআইনি জমি দখল, নির্মাণ থেকে দুষ্কৃতীরাজের কথা। তারপর নানা রহস্যমৃত্যু, দেহ উদ্ধারের ঘটনায় আনন্দপুর এসেছে খবরের শিরোনামে। এবার ফের দুষ্কৃতী দৌরাত্ম্য়ের জেরে ফের একবার শিরোনামে কলকাতা পুরসভার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ড। 

 বাইক, দোকান ভাঙচুর                       

বৃহস্পতিবার ফের গুলশন কলোনিতে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য়র ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। ধারালো অস্ত্র হাতে গুন্ডামি করতে দেখা যায় একদল যুবককে। তারা বাইক, দোকান ভাঙচুর করে। সিসিটিভি ক্য়ামেরায় ধরা পড়ে সেই ছবি। স্থানীয়দের দাবি, কয়েক রাউন্ড গুলিও চালায় দুষ্কৃতীরা। 

নেপথ্য়ে এলাকা দখলের লড়াই? 

বৃহস্পতিবার সন্ধে ৭ টা নাগাদ বাইপাস সংলগ্ন গুলশন কলোনির অটো স্ট্য়ান্ড মোড়ে বাইক নিয়ে ঢুকে পড়ে জনাকয়েক দুষ্কৃতী! এরপরই শুরু হয় তাণ্ডব। গুলশন কলোনিতে দুষ্কৃতী তাণ্ডবের  স্থানীয় সূত্রে খবর, একসময় এই এলাকা মিনি ফিরোজের দখলে ছিল। পুলিশ সূত্রে দাবি, এলাকায় পুনরায় দখল নিতেই কাল সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে হামলা চালায় মিনি ফিরোজ। তাদের মূল উদ্দেশ্য় ছিল এলাকায় মানুষের মনে ভয় ধরানো। এর আগেও অপরাধমূলক কাজে নাম জড়িয়েছে মিনি ফিরোজের। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, EM বাইপাস থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বে পুলিশের নজর এড়িয়ে কীভাবে এমন তাণ্ডব চালাল দুষ্কৃতীরা? কীভাবেই বা দুষ্কৃতীদের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে এত আগ্নেয়াস্ত্র? প্রশ্ন উঠছে পুলিশি নজরদারি নিয়ে। 

আগেও বারবার গুলশন কলোনিতে এমন ঘটনা                 

এর আগে গত মে মাসে, তোলাবাজিকে কেন্দ্র করে কসবার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের গুলশন কলোনিতে উত্তেজনা তৈরি হয় । তোলা না পাওয়ায় এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের বাইক, স্কুটার এবং পুরসভার ঠিকাদার সংস্থার গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। নেপথ্যে কোনও বড় মাথা রয়েছে বলে দাবি করেন স্থানীয় কাউন্সিলর। 

গত বছর নভেম্বর মাসে এই ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডেরই তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষকে তাঁর বাড়ির সামনে গুলি করে খুনের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে গুলি না বেরোনয় প্রাণে বেঁচে যান তিনি। সেই ঘটনার পর,  ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডেই দেখা গেল এই ছবি। প্রশ্ন উঠছে EM বাইপাস থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে কীভাবে তাণ্ডব চালাল দুষ্কৃতীরা?