উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়, মুন্না আগরওয়াল, কলকাতা: IPAC-এর অফিসে অভিযান চলাকালীন ED-র ভূমিকা নিয়ে একেবারে উল্টোপথে হেঁটে মন্তব্য করলেন বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দা। যেখানে খোদ শুভেন্দু অধিকারী বলছেন ED বাধা না দিয়ে ঠিক করেছে, সেখানে তাঁদের দলেরই বিধায়ক বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অ্যাগ্রেসিভ বোলিং করেছেন কিন্তু ED ব্যাট করতে পারেনি। এমনকী, সন্দেশখালির উদাহরণ পর্যন্ত তুলে ধরেছেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিকে একে সেটিংয়ের বাইরে অন্য কিছুই বলতে রাজি নয় সিপিএম-কংগ্রেস। 

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, "I PAC সম্পূর্ণ অভিষেক চালান", মন্তব্য মদনের, অতীতে এই সংস্থার বিরুদ্ধেই টাকা তোলার অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি !

Continues below advertisement

ইডি আই প্য়াক কর্ণধারের বাড়ি ও ফ্ল্য়াটে তল্লাশি চালাচ্ছে। পাহাড়ায় কেন্দ্রীয় বাহিনী। মুখ্য়মন্ত্রী পৌঁছলেন। কোথাও নিজে নথিপত্র নিয়ে বেরিয়ে এলেন...কোথাও নিরাপত্তা রক্ষীদের অনেক কাগজপত্র নিয়ে বেরিয়ে আসতে দেখা গেল। কিন্তু প্রশ্ন উঠে গেল এটা কী করে সম্ভব? নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে, ইডি ও কেন্দ্রীয় বাহিনী কেন মুখ্য়মন্ত্রীকে আটকালেন না? তাহলে কি নেপথ্য়ে অন্য় কিছু আছে? শুধু সিপিএম না কংগ্রেস নয়...ইডির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে খোদ বিজেপির মধ্য়ে থেকেও। 

ময়না বিজেপি বিধায়ক  অশোক দিন্দা বলেন, ED-র আরেকটু লড়াকু মানসিকতা দেখানো উচিত ছিল। ED এত সহজে ৯ মিনিটের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পেপার দিয়ে দেবে আমি মনে করি এটা একদম ইডি-র একটা অংশ, মানে ED-দের আরেকটু ফাইট করা উচিত ছিল। আমি একজন ফাইটার তো, খেলার মাঠের লোক। সুদে-আসলে, আমার মনে হয় যদিমমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দরজা ভেঙে ঢুকে যেত, কিংবা বন্দুক ঠেকিয়ে পেপারগুলো নিয়ে চলে যেত, তাহলে পিকচারটা ভালো লাগত। যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এলেন, বন্দুক ঠেকালেন, আর পেপারগুলো ছিনতাই করে নিয়ে চলে গেলেন। 

 কিন্তু এই নিয়ে উলটো সুর শুভেন্দু অধিকারীর গলায়।বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বাধা দিলে ইডির লোকেরা আক্রান্ত হতে হত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পার্সোনাল সিকিউরিটির লোকদেরকে এবং কলকাতা পুলিশ, বিধাননগর পুলিশকে অপব্যবহার করেছেন। বাধা যদি তারা দিত তাহলে সন্দেশখালির মতো কালকে অনেককে রক্তাক্ত হয়ে হাসপাতালে যেতে হত। ভোট এসে গেছে।তাই গোটা ঘটনার মধ্য়ে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় ও নরেন্দ্র মোদির ফের সেটিং খেলা দেখছে কংগ্রেস-সিপিএম।

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি  শুভঙ্কর সরকার বলেন, এই হঠাৎ করে ইডির যাওয়া এবং সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর পৌঁছনো, এবং ইডির সামনে থেকে ফাইল নিয়ে আসা, প্রধানমন্ত্রীর যখন গাড়ি আটকেছিলেন নির্বাচনের সময় সেই আধিকারিককে যে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল,ইডি অফিসার যারা কালকে মুখ্যমন্ত্রীকে ছেড়ে দিলেন তাদের তো হতে হয়নি।  পুরোটাই ড্রামা, পুরোটাই ম্যাচ ফিক্সিং আর নিজেরা দেখানোর চেষ্টা করছে যে দেখ বিজেপি আর তৃণমূলই মার্কেটে আছে, আর কেউ মার্কেটে নেই। 

 সিপিএম-র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, কোনও সন্দেহ আছে নাকি? এসব যা হচ্ছে, এটাতো একটা চিত্রনাট্য। নাকি আমি জানি না এটা একটা নাট্যচিত্র কিনা। দেখে তারপর নাটক করা নাকি নাটক, তাই অনুযায়ী প্লট বানানো। এতো নাট্যচিত্র, চিত্রনাট্য না। ভোটের আগে আসল খেলা? না কি নকল? জানেন তো রাজনীতির কুশীলবরাই!