কলকাতা: আইপ্যাকে ইডির হানায় তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি, ঠিক এমনই সময়েই সুরবদল মদন মিত্রের। আগে আইপ্যাকের বিরুদ্ধে টাকা তোলার অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আইপ্যাক তল্লাশির মধ্যেই, মদন মিত্রের মুখে উল্টো সুর।
আরও পড়ুন, অভিষেক চলে যেতেই মতুয়াবাড়ির মন্দির গোবর জল দিয়ে শুদ্ধিকরণ শান্তনু ঠাকুরের !
বেশি দূর নয়, গত বছরের শুরুর দিকেই (০৩.০২.২০২৫) কামারহাঁটির বিধায়ক মদন মিত্র বলেছিলেন, আমাদের এই টাকা পয়সা লেনদেন, এই একটা এজেন্সি পার্টিতে ঢুকল। ..ভোট কুশলী সংস্থা, তাঁরা নাকি জিতিয়ে দেবে। এরা শুরু করল, বিভিন্ন জায়গা থেকে ফান্ড কালেক্ট করে, টাকা তোলা।
প্রশ্ন : ভোট কুশলী সংস্থা আইপ্যাক ?
মদন মিত্র : একদম।
এত গেল পঁচিশ সালে এবিপি আনন্দ-কে দেওয়াই মদন মিত্রের একান্ত সাক্ষাৎকার। এদিকে গতকাল আইপ্যাক-এ ইডির হানা কাণ্ডের পরেই, অন্যসুর কামারহাটির বিধায়কের। এদিন তিনি এবিপি আনন্দ-কে জানিয়েছেন, 'চিত্রটা পুরো পাল্টে গিয়েছে, আইপ্যাকের যে প্রশান্ত কিশোরের ব্যাপার নিয়ে, ওরা বলত, বা আমাদেরও অনেক সময় অনেকে অনেক কথা বলেছে, সেই প্রশান্তকিশোর তো এখন বিজেপির সবথেকে বিশ্বস্থ হ্যান্ড। ...এখন আমাদের যে ছেলেটি প্রতীক, এরা তো এখন ফ্রেশ ছেলে, নতুন ছেলে, এদের সঙ্গে আমার পার্টি চুক্তি করেছে। এরা আমাদের পার্টির রিসার্সের যে সমস্ত কাজ আছে, যেকোনও ধরণের টেকনিক্যাল পার্টটা ওরা দেখবে। তো তার সঙ্গে প্রশান্ত কিশোরের কোনও....এখন যে আইপ্যাক, এই আইপ্যাকটা সম্পূর্ণ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চালান। আর প্রশান্ত কিশোর এখন বিহারে কীভাবে ভোট কীকরে ভাগ করবে, সেই খেলায় মত্ত, বিজেপির থেকে টাকা নিয়ে। ..এখন তো আইপ্যাকটা আমাদের নিজেদের প্যাক হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের নিজস্ব প্যাক।'
এদিন মমতা বলেন, ' শুনুন আপনাদের ভাগ্য ভাল, আমি চেয়ারে আছি বলে ওই পেনড্রাইভগুলি বাইরে বের করে দেই না। বেশি রাগালে কিন্তু বলে দিচ্ছি, আমার কাছে সব পেনড্রাইভ করা আছে। আমি কিন্তু ভান্ডার ফাঁস করে দেব। আমি একটা জায়গা পর্যন্ত সৌজন্যতা রেখে চলি। কিন্তু মনে রাখবেন, লক্ষণের একটা সীমারেখা আছে। লক্ষণের সীমারেখা পেরিয়ে গেলে কিন্তু, আর সামলে রাখতে পারবেন না। আমি অনেক কিছু জানি। বলি না শুধু দেশের স্বার্থে। আমি মুখ খুললে, সারা পৃথিবীতে হইচই হবে। কিন্তু আমি করি না, দেশটাকে ভালবাসি বলে। কিন্তু এটা দুর্বলতা নয়।'