কলকাতা: রেডরোডে স্বাধীনতা দিবসের বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান,  স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুরু হয়েছে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরের ট্যাবলো প্রদর্শন, চলছে কুচকাওয়াজ। মুখ্যমন্ত্রীকে দেওয়া হল গার্ড অব অনার। 

আরও পড়ুন, ৭৯ তম স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে দেশবাসীর জন্য কী বার্তা প্রধানমন্ত্রীর ?

স্বাধীনতা দিবসে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট মুখ্যমন্ত্রীর। ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন ঘিরে তোলপাড়ের আবহে ভিন রাজ্যে যখন বাঙালি হেনস্থার অভিযোগ উঠছে, তখন মুখ্যমন্ত্রী তাঁর স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছাবার্তায় বাংলার বিপ্লবী ও মনীষীদের নাম উল্লেখ করে লিখেছেন, আগামী দিনেও, এই পথিকৃৎদের দেখানো পথে প্রত্যেক দেশবাসীর সম্মান রক্ষা করার জন্য আমাদের লড়াই জারি থাকবে। যে সোনার দেশের স্বপ্ন দেখে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামীরা জীবন-মৃত্যুকে পায়ের ভৃত্য করেছিলেন, সেই দেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। আমি নিশ্চিত, এই লড়াইয়ে মানুষ আমাদের পাশেই থাকবেন।' 

এদিকে, রেড রোডের কুচকাওয়াজের পরেই বিপত্তির ঘটনা ঘটেছে। গরমে অসুস্থ অন্তত ৩৯ জন পড়ুয়া, কুচকাওয়াজ চলাকালীন প্রবল গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ে পড়ুয়ারা, এসএসকেএম-এর জরুরি বিভাগে ভর্তি অসুস্থ পড়ুয়ারা, সেখানে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রসঙ্গত, অপরদিকে, এদিন লালকেল্লায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তিনি বলেন,'আজ ১৫ অগাস্টের আরেক বিশেষ মাহাত্ম্যও আমি দেখছি। লালকেল্লার প্রাচীরে দাঁড়িয়ে অপারেশন সিঁদুরের বীর সৈনিকদের স্যালুট করার সুযোগ মিলেছে। আমাদের বীর সেনারা কল্পনাতীত সাজা দিয়েছে। পহেলগাঁওয়ে সীমা পেরিয়ে এসে যেভাবে খুন করেছে, ধর্ম বেছে বেছে খুন করেছে, স্ত্রীর সামনে স্বামীকে মেরেছে, সন্তানের সামনে বাবাকে মেরেছে, দেশে আক্রোশ তৈরি হয়েছিল। চমকে গিয়েছিল বিশ্ব। অপারেশন সিঁদুর সেই আক্রোশেরই অভিব্যক্তি।'

তিনি আরও বলেন, '২২ তারিখের পর আমরা আমাদের সেনাকে পুরো স্বাধীনতা দিয়েছিলাম। রণনীতি ওরা তৈরি করুক, লক্ষ্য ওরা তৈরি করুক, সময়ও ওরা নির্বাচন করুক এবং আমাদের সেনারা তাই করে দেখিয়েছে যা কয়েক দশকে হয়নি। একশো কিমি ভিতরে ঢুকে জঙ্গি ঘাঁটি গুড়িয়েছে। সন্ত্রাসবাদীদের ঠিকানা ধূলিসাৎ করেছে। পাকিস্তানের এত ক্ষতি হয়েছে, এখনও রোজ নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে। গত কয়েক দশক ধরে ভারত আতঙ্কবাদের শিকার। দেশ নিউ নর্মাল প্রতিষ্ঠা। সন্ত্রাসী ও সন্ত্রাসে মদতদাতাদের আমরা আর আলাদা আলাদা দেখব না। ওই দুইয়ের মধ্যে কোনো প্রভেদ নেই। ভারত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, পরমাণু ধমকি আর সহ্য করবে না। নিউক্লিয়ার ব্ল্যাকমেল লম্বা সময় ধরে চলছে। আর ওই ব্ল্যাকমেল সহ্য করা হবে না। সেনারাই সময় ঠিক করবে। সেনা যে কায়দায় অপারেশন ঠিক করবে তাই হবে, আমরা তাই করব। আমরা যোগ্য জবাব দেব।'