কমলকৃষ্ণ দে, পূর্ব বর্ধমান: স্বাধীনতা দিবসের সকালে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা পূর্ব বর্ধমানে। মৃত ১১ জন। আহত ৩৫জন। স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে দুর্গাপুরের দিকে যাবার পথে একটি বেসরকারি  যাত্রীবাহী বাস একটি দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে। পূর্ব বর্ধমানের ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের নলা ফেরিঘাট এলাকায়  দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।  পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৪৫ জনকে উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়েছে।

আরও পড়ুন, 'সমুদ্রমন্থনের পথে ভারত ', জলের গভীরে তেল ও গ্যাসের অনুসন্ধানে বড় ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

স্থানীয়রা জানিয়েছে, ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের সামনে একটি ট্রাক দাঁড়িয়েছিল। ঠিক সেইসময় কলকাতার দিক থেকে একটি যাত্রী বোঝাই বাস, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে এই ট্রাকটির পিছনে ধাক্কা মারে। ইতিমধ্যেই ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৩৫ জন আহত হয়েছে। এবং তাঁদের উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাটি ঘটেছে আনুমানিক সকাল ৭টা ২০ নাগাদ। একটা ট্রাক হাইওয়ের উপরে দাঁড়িয়েছিল। কাজ মিটিয়ে সে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য যখন তৈরি হচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তেই একটি যাত্রী বোঝাই বাস এসে সজোরে পিছনে আঘাত করে।

 এদিকে সদ্য একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে গিয়েছে কলকাতায়। সল্টলেকে সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকা অ্যাপ বাইকে ধাক্কা মারে বেপরোয়া গাড়ি। আগুন লেগে যাওয়ায় ঝলসে মৃত্যু হয় বাইক চালকের। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, তরুণকে বাঁচানোর আগে দুর্ঘটনাস্থলের ছবি তুলছিল পুলিশ। পরিবার অভিযোগ করতে চাইলেও পুলিশ নেয়নি।  কিছু দিন আগেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার মুখোমুখী হয়েছিল বাঁকুড়া। বোলারো পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ এড়াতে গিয়ে, উল্টে গিয়েছিল পর্যটকবাহি বাস। আহত হয়েছিলেন অন্তত ১৫ জন পর্যটক। মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল ইন্দপুরের বাগডিহা এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে খবর এসেছিল, কলকাতা থেকে ৬৫ জন পর্যটককে নিয়ে মুকুটমণিপুরের দিকে যাচ্ছিল ওই পর্যটকবাহী বাস। বাঁকুড়া-খাতড়া রাজ্য সড়ক ধরে যাওয়ার পথে ইন্দপুরের বাগডিহার কাছে উল্টে যায় বাসটি। এই ঘটনায় কমবেশি আহত হয়েছিলেন অন্তত ১৫ জন পর্যটক। প্রত্যেকেই কলকাতার রুবি এলাকার বাসিন্দা ও রিক্সা চালক ইউনিয়নের সদস্য।  সম্প্রতি তিন  জেলায় তিনটি দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল পাঁচজনের। কোথাও ট্রাকের চাকার পিষ্ঠ  হয়ে মৃত্যু হয়েছিল দুই যুবকের। কোথাও পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছিল তিন ব্যক্তির। কোথাও আবার দুর্ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠেছিল প্রশ্ন।