নয়া দিল্লি: ভারতের আকাশে যেন বর্ষার দাপট আরও বেড়েছে। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ISRO)-র INSAT-3DR এবং INSAT-3DS আবহাওয়া উপগ্রহের সর্বশেষ ছবিতে দেখা গিয়েছে, দেশের ৭০ শতাংশেরও বেশি অংশ ঘন বর্ষার মেঘে ঢেকে গিয়েছে। তবে শুধু মেঘের বিস্তারই নয়, বিজ্ঞানীদের নজর কেড়েছে মেঘের উচ্চতা, ঘনত্ব এবং তাপমাত্রা। কারণ এগুলিই বলে দিচ্ছে কোথায় তৈরি হচ্ছে সবচেয়ে শক্তিশালী বজ্রঝড় এবং অতি ভারী বৃষ্টির পরিস্থিতি।              

Continues below advertisement

কী দেখিয়েছে ISRO-র স্যাটেলাইট? 

২১ জুলাই সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট থেকে ১১টা ২৭ মিনিটের মধ্যে তোলা INSAT-3DR ও INSAT-3DS-এর ইনফ্রারেড এবং ভিজিবল ব্যান্ডের ছবি বিশ্লেষণ করে IMD জানিয়েছে, দেশের উপর মেঘের বিস্তার গত কয়েক দিনের তুলনায় আরও বেড়েছে। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হল মেঘের গভীরতা (Depth)। অর্থাৎ, মেঘ শুধু ছড়িয়ে পড়েনি, অনেক বেশি উঁচুতেও উঠে গিয়েছে।

Continues below advertisement

কেন মেঘের তাপমাত্রা এত গুরুত্বপূর্ণ?

আবহাওয়াবিদরা Cloud Top Brightness Temperature (CTBT) ব্যবহার করে মেঘের শক্তি নির্ণয় করেন। কোনও মেঘের উপরের অংশ যত ঠান্ডা হয়, সেটি তত বেশি উচ্চতায় পৌঁছেছে বলে ধরা হয়। আর সেই মেঘ থেকেই সাধারণত প্রবল বজ্রঝড়, ভারী বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি এবং দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

সবচেয়ে বিপজ্জনক মেঘ কোথায়?

স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গিয়েছে, বঙ্গোপসাগর, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ এবং পূর্ব-মধ্য ভারতের উপর থাকা মেঘের শীর্ষভাগের তাপমাত্রা -৬০°C থেকে -৮০°C পর্যন্ত নেমে গিয়েছে। এই ধরনের তাপমাত্রা নির্দেশ করে যে মেঘগুলির উচ্চতা প্রায় ১২ থেকে ১৬ কিলোমিটার, যা অত্যন্ত শক্তিশালী কিউমুলোনিম্বাস (Cumulonimbus) মেঘের বৈশিষ্ট্য। এই মেঘ থেকেই স্বল্প সময়ে অতিভারী বর্ষণ এবং বজ্রপাতের ঘটনা ঘটতে পারে।

জলীয় বাষ্পও বেড়েছে

INSAT-এর Water Vapour Channel-এর ছবিতে উত্তর, পূর্ব ও মধ্য ভারতের উপর বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্প ধরা পড়েছে। এই আর্দ্রতা মূলত বঙ্গোপসাগর এবং আরব সাগর থেকে মৌসুমি বায়ুর মাধ্যমে প্রবেশ করছে। এর ফলে নতুন নতুন বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি মিলছে এবং বর্ষা আরও সক্রিয় হয়ে উঠছে।

কেন এত দ্রুত বদলাচ্ছে আবহাওয়া?

গত ১৯ জুলাই পর্যন্ত ভারতের প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ এলাকা মেঘে ঢাকা ছিল। মাত্র দু'দিনের মধ্যে সেই মেঘ আরও ঘন, উঁচু এবং সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মৌসুমি অক্ষরেখা (Monsoon Trough) দক্ষিণে সক্রিয় হওয়া এবং বঙ্গোপসাগর থেকে টানা আর্দ্রতা প্রবেশের ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

দিল্লি থেকে বাংলা—কোথায় কী পরিস্থিতি?

IMD ইতিমধ্যেই দিল্লিতে Yellow Alert জারি করেছে। সেখানে আগামী কয়েকদিন বজ্রবিদ্যুৎ-সহ মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে পূর্ব ভারত, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, বিহার ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন অংশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

INSAT স্যাটেলাইট কীভাবে আবহাওয়া জানায়?

INSAT-3DR ও INSAT-3DS প্রতি ১৫-৩০ মিনিট অন্তর ভারতের আকাশের ছবি তোলে। এই উপগ্রহগুলি দৃশ্যমান আলো (Visible), ইনফ্রারেড (Infrared) এবং জলীয় বাষ্প (Water Vapour) চ্যানেলের মাধ্যমে মেঘের অবস্থান, উচ্চতা, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার তথ্য সংগ্রহ করে। এই তথ্যের ভিত্তিতেই IMD বজ্রঝড়, ভারী বৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড় এবং মৌসুমি বৃষ্টির পূর্বাভাস আরও নির্ভুলভাবে দিতে পারে।