উৎসবের মাঝেই বিষাদের ছায়া । ঘটে গেল বিপজ্জনক ঘটনা। মধ্যপ্রদেশের জবলপুরে মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে ঘটে গেল বড় দুর্ঘটনা। বাসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সোজা প্যান্ডেলের মধ্যে ঢুকে গেল দ্রুতগতির একটি বাস।
দুর্গাষ্টমীর সন্ধে। মণ্ডপ তখন ভিড়ে ঠাসা। বহু মানুষ মজে সেলফিতে। কেউ বা আড্ডায়। কেউ আবার পুজোতেই মন দিয়েছেন। ঠিক তখনই প্যান্ডেল দ্রুত গতিতে একটি বাস ঢুকে পড়ে। চালক হঠাৎ বাসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। লোকজনে ভরা মণ্ডপে ঢুকে পড়ে বাসটি। এই দুর্ঘটনায় প্রায় ২০ জন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। তাদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা গুরুতর। অভিযুক্ত বাস চালকও গুরুতর আহত হয়েছেন বলে খবর।
জব্বলপুরের কালেক্টর রাঘবেন্দ্র সিং জানিয়েছেন যে দুর্ঘটনার সময় বাস চালক মত্ত অবস্থায় ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে এই তথ্য জানা গিয়েছে। ‘নো এন্ট্রি’ বোর্ড থাকা সত্ত্বেও চালক বাসটিকে শহরের ভিতরে নিয়ে এসেছিলেন। তারপর সিহোরা-র কাছে গৌরী চৌরাস্তার কাছে একটি দুর্গা মণ্ডপে বাসটি ঢুকে পড়ে।
পুলিশকর্মীও আহত
কালেক্টরের কাছ থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় মোট ২০ জন আহত হয়েছেন। ওই প্যান্ডেলে ভিড় নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন একজন পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন। সৌভাগ্যবশত, বাসটি খালি ছিল এবং তাতে কোনও যাত্রী ছিল না। মত্ত চালক বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
মণ্ডপে পুজো চলছিল, বাস চালায় ধ্বংসলীলা
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মঙ্গলবার ৩০ সেপ্টেম্বর রাত প্রায় ১০.০০টায় মণ্ডপে পুজো চলছিল। তখনই একটি নিয়ন্ত্রণহীন বাস ভিতরে ঢুকে পড়ে। বাসের গতি খুব বেশি ছিল। জানা গিয়েছে, মণ্ডপে ঢোকার আগে বাসটি বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা বেশ কয়েকটি গাড়িতেও ধাক্কা মেরেছিল।
মণ্ডপে উপস্থিত জনতার মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহতদের সিহোরা থেকে জব্বলপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সিহোরা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুর্ঘটনার পরই এলাকায় ছড়ায় উত্তেজনা। অনেকেই প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। বিক্ষোভকারীরা বাসটি জ্বালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। পুলিশ অনেক চেষ্টা করে লোকজনকে বোঝাতে । অবশেষে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আগে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।