কলকাতা: শিক্ষামন্ত্রী যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পৌছতেই স্লোগান SFI-র। ছাত্র সংসদের নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ। ভাঙল মন্ত্রীর গাড়ির কাচ। শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় জখম হন আন্দোলনকারী ছাত্র। যাদবপুরে ব্রাত্য়র গাড়ির বনেটে উঠে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন তিনি। তারমধ্যেই ছুটল মন্ত্রীর গাড়ি। শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষামন্ত্রীকে হেনস্থার অভিযোগ। যাদবপুর বিশ্ববিদ্য়ালয়ে ব্রাত্য় বসুর ওপর হামলার ঘটনা মনে করিয়ে দিল ৫ বছর আগে, বাবুল সুপ্রিয়র নিগ্রহের ঘটনাকে। তখন বাবুল সুপ্রিয় বিজেপিতে, কেন্দ্রের মন্ত্রী, JU ক্য়াম্পাসে তাঁকে চড় মারা হয়, চুল ধরে টানা হয়। প্রায় ৬ ঘণ্টা যাদবপুর বিশ্ববিদ্য়ালয়ে ঘেরাও করে রাখা হয় বাবুল সুপ্রিয়কে। শেষমেষ তৎকালীন রাজ্য়পাল জগদীপ ধনকড় তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে যান।
যাদবপুরে শিক্ষামন্ত্রীকে ঘিরে বিক্ষোভ, তুলকালামকাণ্ড মনে করিয়ে দিচ্ছে আজ থেকে বছর পাঁচেক আগের ঘটনাকে। দিনটা ছিল ২০১৯ সালের ১৯ শে সেপ্টেম্বর। এই যাদবপুর বিশ্ববিদ্য়ালয় ক্য়াম্পাসেই, চরম হেনস্থার মুখে পড়তে হয়েছিল তৎকালীন বিজেপি সাংসদ ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে। RSS-র ছাত্র সংগঠন ABVP-র পূর্ব নির্ধারিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে, দুপুর বেলা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে গেছিলেন, তৎকালীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। ক্যাম্পাসে ঢোকার পর পরই, পড়ুয়াদের একাংশ তাঁকে ঘিরে গো ব্যাক স্লোগান তোলে, দেখানো হয় কালো পতাকা।সময় গড়াতে থাকে, বিরোধ বাড়তে থাকে। একসময় ধস্তাধস্তিও শুরু হয়ে যায়। বাবুল সুপ্রিয়র চশমা খুলে নেওয়া হয়। চুলের মুঠি ধরে টান দেওয়া হয়। একাধিকবার ধাক্কাও মারা হয়। বাবুল সুপ্রিয় ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত তাঁকে বেরোতে দেওয়া হবে না বলে বিক্ষোভ শুরু করেন পড়ুয়ারা। অবশেষে সন্ধেবেলা, যাদবপুর বিশ্ববিদ্য়ালয়ে পৌঁছন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। বাবুল সুপ্রিয়কে উদ্ধার করে নিজের গাড়িতে তুলে নেন তিনি। তাঁর গাড়ি আটকে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন পড়ুয়ারা। বাবুল সুপ্রিয়কে নিয়ে গাড়ির মধ্যেই বসে থাকেন রাজ্যপাল। শেষে রাত ৮টা নাগাদ বিক্ষোভকারীদের এড়িয়ে, গাড়ি ঘুরিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন নম্বর গেট দিয়ে রাজ্যপালের গাড়ি বের করে দেয় পুলিশ। শনিবারের ঘটনার পর উঠে আসছে বাবুল সুপ্রিয়কে আটকে রাখার প্রসঙ্গ। এদিন শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "কেন্দ্রের কোনও, কেউ ঢুকতে গেলে আটকে দেওয়া হয়, রাজ্যের কেউ ঢুকতে গেলে আটকে দেওয়া হয়। এর আগে বাবুল সুপ্রিয়কে আটকানো হয়েছিল।''আরও পড়ুন: Calcutta High Court: "আইনজীবীরা ঘিরে ধরে, মোবাইল কেড়ে নেয়'' হাইকোর্ট চত্বরে হেনস্থার শিকার মহিলা সাংবাদিক