উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায় , কলকাতা : এবার 'কালীঘাট তৃণমূল' ছাড়লেন আরও এক প্রাক্তন মন্ত্রী। তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিলেন প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্য়োতিপ্রিয় মল্লিক। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ইস্তফা দিয়েছেন জ্যোতিপ্রিয়। জানিয়েছেন, শরীর খারাপ, দলীয় দায়িত্ব পালন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী দলনেত্রীকে চিঠিতে  জানিয়েছেন, তাঁর শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ। তাই তাঁকে যে দলীয় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা পালন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তাঁর বক্তব্য, তিনি ১৯৩৮ সাল থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রয়েছেন।  তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। কিন্তু এখন তাঁর শারীরিক অবস্থা এতটাই খারাপ, তাই এখন আর তাঁর পক্ষে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও দায়িত্বপালন সম্ভব নয়। তিনি বাড়ি থেকে বেরোতেও পারছেন না। সুগার লেভেলও হাই। তাই 'পদ আঁকড়ে' থাকতে চান না তিনি। তিনি জানান, ' কতদিন বাঁচব জানি না, 'পদ আঁকড়ে' থাকব না '। 

২০২৩ সালের ২৭ অক্টোবর রেশন দুর্নীতি মামলায় জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে গ্রেফতার করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। 'দুর্নীতির গঙ্গাসাগর' থেকে শুরু করে 'রিংমাস্টার' - বাছাই করা এমনই সব শব্দবন্ধ ব্যবহার করে তাঁর বিরুদ্ধে সওয়াল করেছিল ED। এরপরে ২০২৫-এর ১৫ জানুয়ারি ED-র বিশেষ আদালত জামিন দেয় জ্য়োতিপ্রিয় মল্লিককে। তারপরও তাঁর উপরেই ভরসা রাখেন দলনেত্রী। কারণ, তৃণমূল কংগ্রেস গঠন হওয়ার বহু আগে থেকেই তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত।  ২০২৬ এর নির্বাচনে হাবড়া থেকে জ্যোতিপ্রিয়ই ছিলেন তৃণমূল প্রার্থী। তাঁর মাথায় দুর্নীতির অভিযোগ থাকার সত্ত্বেও প্রচারসভায় মঞ্চে দাঁড়িয়ে 'বালুকে' প্রশংসায় ভরান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, , 'জেনে রাখুন আমার সরকারে বালু যত ভাল কাজ করেছে, এ কেউ করতে পারেনি'।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ' বালুর নামে বদনাম দিয়ে বেড়াচ্ছে আমি শুনেছি। হাবড়ার প্রার্থীর নামে। জেনে রাখুন আমার সরকারে বালু যত ভাল কাজ করেছে, এ কেউ করতে পারেনি। ওকে হিংসা করে গ্রেফতার করেছিল। কোনও প্রমাণ পায়নি। কেন গ্রেফতার করেছিল? কারণ সিপিএমের ওই, পচা সিপিএম পার্টি দেড় কোটি লক্ষের নাম রেশন কার্ডে ঢুকিয়ে দিয়েছিল। এই চুরিটা ধরেছিল এই ডাকাতিটা ধরেছিল বালু। তাই ওরা বিজেপিকে দিয়ে বালুর বিরুদ্ধে এটা করিয়েছে। 'পাল্টা এনিয়ে কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছে বিজেপি।  যদিও সেসবে কান দেননি নেত্রী। 

অন্যদিকে, শিলিগুড়ি পুরসভার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন গৌতম দেব। ইতিমধ্যেই শিলিগুড়ির পুর কমিশনারকে পদত্যাগ পত্র পাঠিয়েছেন তিনি। এর পাশাপাশি সরকারি গাড়ি ও নিরাপত্তারক্ষীও ছাড়লেন গৌতম দেব।

আরও পড়ুন : প্রকৃতির রুদ্র রূপ, প্রবল বৃষ্টি, রাস্তায় পা-পিছলে সোজা খাদে যুবক, মর্মান্তিক মৃত্যু লোনাভেলায়

ভয়ঙ্কর আগুন বাচ্চাদের স্কুলে। হাড়হিম করা ছবি। জাপানের রাজধানী টোকিওর একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শুক্রবার সকালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটল।  তবে দ্রুত উদ্ধারকাজের ফলে বিদ্যালয়ের প্রায় ৩০০ জন পড়ুয়া ও শিক্ষককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।  কোথায় আগুন লাগে?

টোকিওর ডাউনটাউন এলাকায় অবস্থিত তাকিনোগাওয়া নং ৩ এলিমেন্টারি স্কুলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। টোকিও ফায়ার ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, চারতলা স্কুল বাড়ির উপরের তলায় থাকা একটি মিউজিক রুমের কাছে শুক্রবার বেলা নাগাদ আগুন লাগে। দ্রুত এক শিক্ষক এবং কয়েকজন পড়ুয়াকে উদ্ধার করে দমকল। জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের সামান্য আঘাত লেগেছে, তবে কারও অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়। বাকি শিক্ষক ও পড়ুয়ারা নিজেরাই পালিয়ে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়। কাছাকাছি একটি পার্কে আশ্রয় নেয় তারা। 

ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি

টেলিভিশন চ্যানেলগুলির  ফুটেজে দেখা গিয়েছে, স্কুল  বাড়ির চার তলার জানালা দিয়ে ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে অনেকগুলি দমকল ইঞ্জিন পাঠানো হয়। দমকলকর্মীরা দীর্ঘক্ষণ ধরে আগুন নেভানোর কাজ চালান। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার বিকেলের দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন দমকলকর্মীরা।

ঘটনার সময় স্কুলের ১১ বছরের এক ছাত্র সংবাদ সংস্থা কিয়োদো নিউজকে জানায়, ইংরেজি ক্লাস চলাকালীন হঠাৎ সে চারপাশে মানুষকে চিৎকার করতে শোনা। বলতে শোনে,  "দৌড়াও!"। আতঙ্কিত হয়ে পড়লেও সে তার শিক্ষকের নির্দেশ মেনে শান্ত থাকার চেষ্টা করে এবং অন্য সহপাঠীদেরও শান্ত থাকতে বলে। তবে কী কারণে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে দমকল ও প্রশাসনের আধিকারিকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আগুন লাগার উৎস ও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন।

সংবাদ সংস্থা কিয়োদো নিউজ জানিয়েছে, এই ঘটনায় মোট ১১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন এক শিক্ষক, যাঁর নিতম্বের হাড় ভেঙে গেছে। এছাড়া দু'জন শিশুর হাত ভেঙেছে বলে জানা গিয়েছে। বাকি আহতদের আঘাত তুলনামূলকভাবে কম গুরুতর।  দ্রুত উদ্ধারকাজ এবং সময়মতো সরিয়ে নেওয়ার ফলে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে কী কারণে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

হতাহতের খবর নেই

দমকল আধিকারিকরা প্রাথমিক ভাবে জানিয়েছেন,  ভবনের ভিতরে কেউ আটকে পড়েননি। সকলকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কোনও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।