Kakdwip News: কাকদ্বীপে স্কুলের মধ্যে পড়ুয়াদের সামনেই তৃণমূল নেতার হাতে আক্রান্ত হয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, করিডরের মধ্যেই মারধর করা হচ্ছে তাঁকে। ধাক্কা দেওয়া হয়েছে ষাট ছুঁইছুঁই শিক্ষককে। প্রবল হেনস্থার শিকার হয়েছেন তিনি। পড়ুয়াদের সামনেই করিডর ধরে কার্যত হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাঁকে। অথচ এই ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া তৃণমূল নেতা ত্রিদিব বারুই গ্রেফতার হওয়ার পর ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই দিব্যি জামিন পেয়ে গিয়েছেন। চাপের মুখে তৎপর হয়ে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করলেও, ৫টি জামিযোগ্য ধারায় মামলা করা হয়েছিল স্কুলের পরিচালন সমিতির সভাপতি বিরুদ্ধে। অতি সহজেই জামিন পেয়ে গিয়েছেন শাসক দলের এই নেতা, গ্রেফতারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই।
এই ঘটনায় স্বভাবতই একই সঙ্গে হতাশ এবং ক্ষুব্ধ আক্রান্ত ওই শিক্ষক। 'ঘণ্টা খানেক সঙ্গে সুমন' অনুষ্ঠানে এসে কী বললেন মাস্টারমশাই?
কাকদ্বীপ বীরেন্দ্র বিদ্যানিকেতনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মিলনকান্তি পাল বলেছেন, 'আমি কখনও এটা ভাবিনি। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। যেকোনও মুহূর্তে পুনরায় এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারে। অন্য কারওর দ্বারা, অন্য কোনও উপায়েও সংগঠিত হতে পারে। এটা আমার কাছে খুব আতঙ্কের। এই সভাপতির সঙ্গে স্কুল পরিচালনা করা সম্ভব নয়। বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সময় করে শিক্ষা দফতরকে জানাতে পারছি না। অতি অবশ্যই দু-একদিনের মধ্যে শিক্ষা দফতরকে সবটা জানাবো। এর আগেও উনি যে আচরণ করেছেন, পরিচালন সমিতির কোনও সভা, প্রধান শিক্ষকের অফিসে যেহেতু সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে, সেখানে করতে দেননি। অন্য জায়গায় করতে হয়েছে। সেখানেও রীতিমতো একই ধরনের আচরণ হয়েছে। উদ্ধত ভঙ্গি, তেড়ে আসা, চিৎকার-চেঁচামেচি, সেই সমস্ত অডিও ফুটেজ-রেকর্ডিং রয়েছে। আগের ভিডিও ফুটেজও রয়েছে যেখানে আমি অভিভাবক প্রতিনিধি সংক্রান্ত একটি নিয়ম তাঁকে দেখাতে চাইছিলাম, উনি ম্যানুয়ালটা ছুড়ে ফেলে দিয়ে দূর থেকে তেড়ে এসেছেন থাপ্পড় মারতে। আমি ভেবেছিলাম তিনি শুধরে যাবেন। বেশ কিছুজনকে জানিয়েছিলাম। বিধায়ক মণ্টুরাম পাখিরাও জেনেছিলেন। আমি শুনেছি তিনিও নাকি ওনাকে বুঝিয়েছিলেন। তবে তার পরও ওনার আচরণে কোনও পরিবর্তন তো ঘটেইনি, বরং উত্তরোত্তর বেড়েছে, যার প্রতিফলন আজকে আমরা দেখছি। এর দুটো দিক রয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হবে আমার মাথা হেঁট হয়ে গেল। ওই ছাত্ররা হয়তো আমায় দেখে লুকিয়ে পড়বে। অস্বস্তি বোধ করবে। কিন্তু যখন আরও পরিণত হবে, বা যারা অপেক্ষাকৃত উঁচু ক্লাসের, তারা বুঝবেন মাস্টারমশাই অন্যায়ের সঙ্গে আপোস করেননি।'
আক্রান্ত শিক্ষক এও জানিয়েছেন, স্কুলের এডুকেশনাল ট্যুর নিয়েই মূলত সমস্যা। সব নিয়ম মেনেই ট্যুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। কিন্তু কোনও এক অজ্ঞাত কারণে বারংবার স্কুলের পরিচালন সমিতির সভাপতি বাধা দিয়েছেন। এমনকি পড়ুয়াদেরও নানাভাবে নানা জিনিস বোঝানো হয়েছে। তবে যেহেতু ছাত্রছাত্রীরা এই শিক্ষককে ভালবাসেন, শ্রদ্ধা করেন, তাই তাঁরা সবটাই বুঝবে বলে জানিয়েছেন তিনি।