উত্তরবঙ্গ: মুখ্যমন্ত্রীর সফরের দিন সোমবার, নাগরাকাটায় রক্তাক্ত হয়েছিলেন বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু। আক্রান্ত হন বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ।  এবার নাগরাকাটায় বিজেপি সাংসদ ও বিধায়কের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার আরও ২। এই নিয়ে হামলার ঘটনায় গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে ৪নাগরাকাটা থেকে এর আগে ২ জনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। যদিও FIR-এ নাম ছিল না ধৃত একরামুল হক ও গোবিন্দ শর্মার। পরের বার যে ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদেরও নাম নেই FIR-এ!

আরও পড়ুন, প্রবল বর্ষণে তছনছ ডুয়ার্সের প্রায় ৪০টি চা বাগান, ক্ষতি প্রায় ১০০ কোটি টাকা ! জলপাইগুড়ির আরও এক চা বাগানের ছবি প্রকাশ্যে

ধস বিধ্বস্ত নাগরাকাটা পরিদর্শনে গিয়ে মারধরের মুখে পড়েছিলেন বিজেপির সাংসদ ও বিধায়ক। গুন্ডামির শিকার হয়েছিলেন শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ ও মালদার সাংসদ খগেন মুর্মু। মাথা ফেটে গিয়েছিল বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুর। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বিজেপির পাশাপাশি সিপিএম এবং কংগ্রেসও।মহম্মদ সেলিম বলেন, 'এমন অবস্থা হয়েছে, যে সরকারি তন্ত্র এবং দলতন্ত্রের মধ্য়ে কোনও তফাৎ নেই। তৃতীয়ত বিরোধী রাজনীতিক কেউ হলেই,  যাতে কোনও পরিসর সে না পায়। এটা একটা স্বৈরাতান্ত্রিক প্রবণতা।' অধীর চৌধুরী বলেন, 'যেমন বন্যা হলে, বিপদে যারা পড়ে, তাঁদের কোনও, জাত-ধর্ম-বর্ণ-পার্টি থাকে না।  তেমনই সাহায্য করার সময়ও, জাত-ধর্ম-বর্ণ-পার্টির বিভাজন না করাটাই উচিত বলে মনে করি..এই ধরণের রাজনীতি যারা করেন, তাঁদের আমি বিরোধীতা করি।'

প্রসঙ্গত, একদিকে অসহায় মানুষ কাঁদছে! অন্য়দিকে উত্তরবঙ্গে বিজেপির জনপ্রতিনিধিদের হেনস্থা অব্য়াহত!মুখ্য়মন্ত্রী যেদিন জখম বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুকে হাসপাতালে দেখতে দেখতে গেলেন সেদিনই কার্যত হেনস্থা হতে হয় আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রামের বিজেপি বিধায়ক মনোজ ওঁরাও-কে। প্রথমে বিজেপি বিধায়ককে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ হয়! তারপর গো ব্যাক স্লোগান! ধাক্কাধাক্কি, তুমুল হই-হট্টগোল,বিক্ষোভকারী ও বিজেপি বিধায়কের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তারক্ষীদের মধ্যে হুলস্থুলকাণ্ড বাঁধল। ভেঙে দেওয়া হল বিধায়কের গাড়ির কাচ!বিক্ষোভকারীরা চড়াও হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের ওপর! 

মুখ্যমন্ত্রীর সফরের দিন সোমবার, নাগরাকাটায় রক্তাক্ত হয়েছিলেন বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু। আক্রান্ত হন বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে  আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রামে হেনস্থা হতে হয় স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক মনোজ ওঁরাওকে! কুমারগ্রাম বিজেপি বিধায়ক মনোজ ওঁরাও বলেছেন, এখানকার তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি, তার নেতৃত্বে গুটিকয়েক তৃণমূলের হার্মাদ তারা আটকানোর চেষ্টা করছে। আমরা এসেছিলাম ত্রাণ দিতে। যা হওয়ার তাই হয়েছে। তৃণমূল নেতারা এসেছে। তারা আটকাচ্ছে। ত্রাণ দিতে দেবে না।