কলকাতা: মৃত্যুপুরী আনন্দপুর, দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুর পদত্যাগের দাবি তুলেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা অমিত মালব্যর।
অমিত মালব্য বলেন, 'অগ্নিকাণ্ডে ২৭ জন নিহত, এখনও অনেকে নিখোঁজ। পরিবারগুলি শোকাহত, পরিবারের লোকেরা উত্তরের অপেক্ষায় আছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও নিখোঁজ বা মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাননি। অথচ, IPAC-এর কর্ণধারের বাড়িতে ইডি অভিযান চালাল। তখন মুখ্যমন্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে তাঁর বাসভবনে ছুটে গেলেন। কর্মই কথার চেয়ে বেশি শক্তিশালী। মুখ্যমন্ত্রী ২০২৩ সালে মাদ্রিদে WOW MOMO-র সিইও সাগর দরিয়ানির সঙ্গে ছবি তুলতে দ্বিধা করেননি। অগ্নিকাণ্ডে যাঁরা নিখোঁজ তাঁদের প্রতি সহানুভূতির অভাব দেখা যাচ্ছে। তৎপরতা কেবল রাজনৈতিকভাবে ঘনিষ্ঠদের জন্যই সংরক্ষিত, বাংলা দেখছে',আনন্দপুরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা অমিত মালব্যর।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এই যে মুখ্যমন্ত্রীর বিদেশ সঙ্গী। মর্নিং ওয়াক করছে বিদেশে। ওই জন্য (ওয়াও) মোমোর মালিক গ্রেফতার হয়নি। গঙ্গাধর দাসও দোষী, এও দোষী। এখানে তৃণমূলের টাকা আছে। এই হচ্ছে আসল। এর মোমো রান্না করতে গিয়েই আগুন লেগেছে। ইনি বাইরে কেন?যদিও 'ওয়াও মোমো'র তরফে এ নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও মেলেনি। তবে তাদের গোডাউনের দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার ও ডেপুটি ম্যানেজারকে গ্রেফতার করেছে নরেন্দ্রপুর থানা।দমকল মন্ত্রীর পদত্যাগ ওয়াও মোমো সংস্থার মালিকের গ্রেফতারি ।মৃতদের পরিবারকে ৫০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য। মৃতদের পরিবারের একজনের স্থায়ী চাকরি যেসব জলাভূমি বেআইনিভাবে ভরাট করা হয়েছে, তার তালিকা প্রকাশ-সহ একগুচ্ছ দাবিতে নরেন্দ্রপুর থানায় ডেপুটেশন দেয় বিজেপি।
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন,দমকলমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার বাড়ি এখান থেকে মাত্র ১০ কিমি দূরে। তিনি আসেননি। মোমোর মালিককে গ্রেফতার করতে হবে। নো ১০ লক্ষ, ৫০ লক্ষ টাকা দিতে হবে। পার্মানেন্ট চাকরি দিতে হবে। এই ওয়েটল্যান্ডের জলাজমি বোজানোর পারমিশান দিল কে? অন্যদিকে, এদিনে নাজিরাবাদে গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস বলেন,আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, ওয়ারহাউসের মালিক প্রত্যেকেই এই বিপর্যয়ের জন্য সমানভাবে দায়ী। এখানে আমরা দেখছি, একাধিক পক্ষের তরফে প্রচুর খামতি থেকে গেছে। এটা কোনও প্রথম ঘটনা নয়। দুর্ঘটনা মানেই আকস্মিক নয়। এর পিছনে মানুষেরই হাত রয়েছে। এটা আমরা চলতে দিতে পারি না।'ওয়াও মোমো'র গোডাউনটিতে উদ্ধারকাজ শেষ হয়েছে। সেটিকে আপাতত সিল করে দেওয়া হয়েছে। বাকি নিউ পুষ্পাঞ্জলি নার্সারি প্রাইভেট লিমিটেড অর্থাৎ ডেকরেটার্স সংস্থার গোডাউনে এখনও চলছে উদ্ধার কাজ।
