অনির্বাণ বিশ্বাস, কলকাতা : বকেয়া DA মেটানোর দাবিতে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ধর্মঘট ঘিরে দফায় দফায় উত্তেজনা। কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে ধর্মতলায় খাদ্য ভবনের অফিসের গেটে থেকে থেকে উত্তপ্ত পরিস্থিতি। ধর্মঘটী সরকারি কর্মীরা কাজে আসা কর্মীদের ঢুকতে বাধা দিচ্ছেন, মেন গেটে আটকানো হচ্ছে গাড়ি। এই অভিযোগ তুলে সরব একপক্ষ। অভিযোগ উড়িয়ে ধর্মঘটী সংগঠনগুলির দাবি, কাউকে জবরদস্তি করা হচ্ছে না। শুধুমাত্র নিজেদের অধিকার আদায়ের স্বার্থে কাজে যোগ না দেওয়ার আবদন জানানো হচ্ছে।
সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ বলেন, "আমরা যখন অনুরোধ করছিলাম যে ধর্মঘটটা কর্মচারীদের স্বার্থে, রাজ্যটাকে বাঁচানোর স্বার্থে ডাকা হয়েছে। রাজ্যে যে প্রশাসনিক দুর্নীতি, শূন্যপদে নিয়োগ নেই, ছেলে-মেয়েরা পরিযায়ী হয়ে...এখানে আপনার বিবেকের কাছে আমরা আবেদন জানাচ্ছি যে এই ধর্মঘটে শামিল হয়ে রাজ্য সরকারকে অন্তত বলুন যে সে তার রাজধর্ম পালন করুক। এই আবেদনটুকু জানানোর সময় তাঁরা বলছেন যে, এটাও করা যাবে না। এটাকে যদি আটকানো বলেন তাহলে হাজার বার পথ আটকাব। কাউকে আটকানো হয়নি। আবেদন করছি। আবেদন তো করতেই পারি। আবেদন করার মধ্যে কোনও অসুবিধা নেই। যে মানুষ অফিসে আসছেন তাঁর বিবেকের কাছে আমরা ছাড়ছি। যে পারলে ধর্মঘট করুক। আমাদের আবেদন থাকবে ধর্মঘট করার।"
ধর্মঘট ডাকা হয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ-সহ একাধিক সরকারি কর্মচারী সংগঠনের তরফে। তা ঘিরেই কার্যত ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয় খাদ্যভবনের সামনে। ভাস্কর ঘোষের নেতৃত্বে খাদ্যভবনের গেটে দাঁড়িয়ে রয়েছেন ধর্মঘটীরা। যেসব গাড়ি আসছে তার কাছে এগিয়ে গিয়ে ধর্মঘটে শামিল হওয়ার আবেদন জানানো হচ্ছে। অন্যদিকে, কিছুটা দূরে তৃণমূলের সংগঠনের কর্মী-সমর্থকরা দাঁড়িয়ে রয়েছেন। তাঁরা চেষ্টা করছেন, যারা ধর্মঘট বিফল করে অফিস করতে চান তাঁদের পাশে থাকতে।
এ প্রসঙ্গে ভাস্কর ঘোষ বলেন, "বার্তা একটাই যে, রাজ্যটাকে বাঁচানোর স্বার্থে যে লড়াই আমরা লড়ছি...একটা মুষ্টিমেয় ক্ষুদ্র অংশ এখনও পর্যন্ত তাদের মেরুদণ্ড সোজা করতে না পেরে, এই কাটমানির-সিন্ডিকেটের অংশীদার হয়ে থাকতে চাইছে দফতরে দফতরে। আমরা বলছি যে দফতরে দফতরে যে সিন্ডিকেট চলছে তার অংশীদার এরাও। তাঁদের চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং চেষ্টা করছি তাঁদের যে বিবেকটা কালীঘাটে বন্ধক রেখেছেন, তাঁদের এই গোলাপ ফুল দিচ্ছি, আর বলছি যে এটা দিয়ে কালীঘাটে পুজো দিয়ে আসুন, আর বিবেকটাকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসুন।"
