পার্থপ্রতিম ঘোষ, কলকাতা : গুলশন কলোনিতে তাণ্ডবের ১০ দিনের মাথায় গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত মিনি ফিরোজ। একবালপুরে প্রতিবাদী খুনের ১৩ দিনের মাথায় গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত মহম্মদ আমজাদ খান। ৮ সেপ্টেম্বর একবালপুরে খুন হন প্রতিবাদী যুবক। ২১ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার হয়েছে মূল অভিযুক্ত। খাস কলকাতার একবালপুরে মদের আসরের প্রতিবাদ করায় যুবককে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছিল দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। মৃত্যু হয় ধনরাজ প্রসাদের।
একবালপুরে প্রতিবাদীকে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় অবশেষে ১৩ দিনের মাথায় গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত মহম্মদ আমজাদ খান। রবিবার নিউটাউনের ইকো পার্ক থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ। ৫ অভিযুক্তের মধ্য়ে ১ জন গ্রেফতার হলেও এখনও অধরা বাকি চারজন। একবালপুরের এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রায় দু সপ্তাহ পর রবিবার নিউটাউনের ইকো পার্কের ১ নম্বর গেট থেকে মূল অভিযুক্ত মহম্মদ আমজাদ খানকে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।
অভিযোগ, ৮ সেপ্টেম্বর রাতে ধনরাজ প্রসাদের বাড়ির পাশে মদ্যপান ও গালিগালাজ করছিল কয়েকজন দুষ্কৃতী। প্রতিবাদ করায় ভাইয়ের চোখের সামনে আচমকা চপার বের করে তাঁকে এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করে আমজাদ নামে এক দুষ্কৃতী। রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন ধনরাজ। অভিযোগ এরপর গুলি চালানোরও চেষ্টা করেন অভিযুক্তের শাগরেদরা। ঘটনার চারদিন পর হাসপাতালে মৃত্যু হয় ধনরাজ প্রসাদের। এই ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে দায়ের হয় অভিযোগ। মূল অভিযুক্ত হিসেবে উঠে আসে আমজাদ খানের নাম। কিন্তু অভিযুক্তরা গ্রেফতার না হওয়ায় প্রশ্নের মুখে প়ড়ে পুলিশি তদন্ত। নিহতের বাড়ি গিয়ে দোষীদের গ্রেফতারি নিয়ে আশ্বাসও দেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।
এরপর মামলার দায়িত্বভার হাতে নেয় লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ। বর্তমানে একবালপুর লেনের বাসিন্দা আমজাদ খানের আদিবাড়ি বিহারে লক্ষ্মীসরাইয়ে। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার পর গা ঢাকা দিতে দিল্লি পালিয়ে যায় যায় অভিযুক্ত। পুলিশ সূত্রে আরও খবর, খরচে টান পড়তেই ফের কলকাতায় আসে অভিযুক্ত। এরপরই কলকাতা পুলিশের হাতে পাকড়াও হয়। এদিকে এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার হলেও এখনও অধরা বাকি ৪ অভিযুক্ত।
অন্যদিকে গুলশন কলোনিতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দুষ্কৃতী তাণ্ডবের ঘটনায় অবশেষে মূল অভিযুক্ত মিনি ফিরোজকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিউ দিল্লি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে। আগামীকাল ধৃতকে আদালতে পেশ করার সম্ভাবনা রয়েছে। সম্ভবত আজ রাতে বিমানে দিল্লি থেকে ধৃতকে উড়িয়ে আনা হবে কলকাতায়। তারপরকাল আদালতে পেশ করে মিনি ফিরোজকে হেফাজতে চাইতে পারে পুলিশ, এমনটাই খবর সূত্রের।