আবির দত্ত, কলকাতা : দক্ষিণ কলকাতার বাহুবলী সোনা পাপ্পুর বাড়িতে তল্লাশিতে মিলেছে বিভিন্ন জমি সংক্রান্ত প্রায় ৩০০ পাতার দলিল। ED সূত্রে এমনই দাবি করা হয়েছে। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট সূত্রে খবর, আর্থিক প্রতারণা মামলার তদন্তে সেই সব নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সোনা পাপ্পুর ফার্ন রোডের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে গতকাল একটি দেশি পিস্তল উদ্ধারের কথা জানিয়েছিল ED। বাজেয়াপ্ত করা ওই আগ্নেয়াস্ত্র গড়িয়াহাট থানার পুলিশকে হ্যান্ডওভার করেছে ED. সোনা পাপ্পুর একটি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলেও ED সূত্রে খবর। গতকাল বালিগঞ্জে সোনা পাপ্পুর বাড়ি-সহ ১০ জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালায় ED. দিনভর তল্লাশিতে উদ্ধার হয় নগদ ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। ED সূত্রে দাবি, সান এন্টারপ্রাইজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখার পরই বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুর সঙ্গে যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া যায়। এই সংস্থার সঙ্গে একাধিকবার লেনদেন হয় সোনা পাপ্পুর। 

Continues below advertisement

বেহালায় সান এন্টারপ্রাইজের MD-র বাড়ি থেকেই উদ্ধার হয়েছে নগদ ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। হায়দরাবাদে IPAC-এর অফিসেও তল্লাশি ED-র। সোনা পাপ্পুর বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ পাতার দলিল উদ্ধার হয়েছে বলে ইডি সূত্রে খবর। ৮ থেকে ১০টি জায়গায় সম্পত্তির দলিল মিলেছে। এছাড়াও তার একটা ফরচুনার গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অন্যের নামে থাকা প্রচুর সম্পত্তি সংক্রান্ত নথি উদ্ধার হয়েছে ইডি- র তল্লাশিতে। 

ভোটের আগে ইডির নজরে কসবা, বালিগঞ্জের ত্রাস সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দার। বুধবার সকাল থেকে তাঁর বালিগঞ্জের বাড়িতে তল্লাশি চালান কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। ইডি সূত্রে খবর, সোনা পাপ্পু বাড়িতে ছিলেন না তল্লাশির সময়। তাঁর খোঁজ চলছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে খবর, নির্মাণ কাজের নাম করে কোটি কোটি টাকা তুলেছেন সোনা পাপ্পু। তারপরে সেইসব টাকা পৌঁছে দিয়েছেন প্রভাবশালীদের কাছে। সেই টাকার সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করেছে ইডি। সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে তোলাবাজির একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে খবর ইডি সূত্রে। বুধবার সকাল থেকে কলকাতার ১০ জায়গায় ইডির তল্লাশি অভিযান চলেছে। সোনা পাপ্পুর বালিগঞ্জের সাদা রঙের বিলাসবহুল বাড়িতেও তল্লাশি চলে। বাড়ি ঘিরে রেখেছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। ইডি সূত্রে খবর, ১৫টি এফআইআর রয়েছে সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে। বালিগঞ্জ, কসবা, ঢাকুরিয়া, তপসিয়ায় নির্মাণ কাজের সময়ে বিল্ডারদের থেকে কোটি কোটি তোলাবাজি অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। প্রভাবশালীদের কাছে প্রোটেকশন মানি পৌঁছে দিতেন তিনি। একাধিক অভিযোগ থাকার পরেও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে? উত্তর খুঁজছে ইডি। সোনা পাপ্পুর কোথায়, কত সম্পত্তি রয়েছে তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

Continues below advertisement

ইডি সূত্রে খবর, গত একমাস ধরে সোনার পাপ্পুর বিরুদ্ধে এফআইআরগুলো সামনে রেখে প্রথমিক অনুসন্ধান চালাচ্ছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সোনা পাপ্পুকে এখনও মাঝে মাঝে এলাকায় দেখা যায় বলে খবর ইডি সূত্রে খবর। তোলা না দিলে প্রাণ নাশের হুমকি দেওয়া হত বলেও অভিযোগ। পয়লা ফেব্রুয়ারি সন্ধেয় অশান্ত হয়ে উঠেছিল গোলপার্কের কাছে কাঁকুলিয়া রোড। বোমা-গুলি-ভাঙচুর থেকে বেলাগাম তাণ্ডব, বাদ যায়নি কিছুই। মূল অভিযুক্ত হিসেবে সোনা পাপ্পুর নাম উঠে আসে। এখনও তাঁর খোঁজ পায়নি পুলিশ।