কলকাতা: নবান্ন অভিযানে (Nabanna Abhiyan) তোলপাড় হাওড়া-কলকাতা। অবস্থান বিক্ষোভের মাঝেই সুকান্তদেরকে প্রিজনভ্যানে তুলেছে পুলিশ। নবান্ন অভিযানের আগে শুভেন্দু অধিকারীকে আটক করার প্রতিবাদে লালবাজারের সামনে বিক্ষোভে নামে বিজেপি।লাঠিচার্জ করে জমায়েত ছত্রভঙ্গ করে পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের দিকে সরিয়ে দেয় পুলিশ। এহেন মুহূর্তে  এদিন টুইট করে গুরুতর অভিযোগ তুলে ফের তোপ দেগেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

এদিন ভিডিওবার্তায় শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, 'মঙ্গলবার ১২ টা ৩০ নাগাদ, ১৪৪ ধারার বাইরে, হেস্টিং থানা এলাকায়, দ্বিতীয় হুগলি ব্রিজে ঢোকার মুখে, পশ্চিমবঙ্গের সিনিয়র আইপিএস অফিসার জ্ঞানবন্ত সিংহ, সাথে কলকাতা পুলিশের সূর্যপ্রসাদ যাদব এবং আকাশ মেঘারিয়া , তিনজন আইপিএস অফিসারের নের্তৃত্বে কিছু মহিলা কনস্টেবল আমাকে শারীরিক নিগ্রহ (Physically assulted) করে এবং গ্রেফতার করে। সেখান থেকে  লকেট চট্টোপাধ্য়ায়, রাহুল সিনহা, আমাদের তিনজনকে লালবাজারে আনা হয়। এবং অ্য়ারেস্ট হিসেবে দেখানো হয়। ১৫১ সেকশনে হেস্টিংস থানার আইও, তিনি আমাদের প্রথমে অ্য়ারেস্ট মেমোতে সই করেন। এবং অন্যান্য কাগজে সই করেন।' 

এরপরে তিনি বলেন, 'এখন ৬ টা ৭ বাজে। (মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৭ মিনিট ) একটু আগে কলকাতা হাইকোর্টের মহামান্য প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ হয়েছে। এবং সম্ভবত সরকারি উকিলের কোনও বার্তা এসেছে। তারপরে আমাকে রিলিজ করা হল। আপনারা সবাই জানেন, আমি যেহেতু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নন্দীগ্রামে লড়েছিলাম, এবং তাঁকে পরাস্থ করেছি, বলে এদিন তিনি  'বিচারপতি  রাজশেখর মান্থারের অর্ডার ভায়োলেশনের' অভিযোগ এনেছেন। 

প্রসঙ্গত, চলতি মাসেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু-র বিরুদ্ধে দায়ের একাধিক মামলা বিচারপতি মান্থা স্থগিত রাখছেন এবং তদন্তকারীদের কড়া পদক্ষেপ করতে বারণ করছেন বলে অভিযোগ তুলেছিল বার অ্যাসোসিয়েশন। বার অ্যাসোসিয়েশনের একটি সূত্র জানায়, বিচারপতি রাজশেখর মান্থার বিচার্য বিষয় বদলের আবেদন জানানো হয়েছে চিঠিতে।তাতে অভিযোগ করা হয়েছে, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে দায়ের খুন-সহ একাধিক মামলার তদন্তে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছেন বিচারপতি মান্থা। 

আরও পড়ুন,'মমতার সরকারের পতন না হওয়া অবধি আমাদের লড়াই চলবে', বললেন দিলীপ ঘোষ

এদিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে তোপ দেগে  শুভেন্দু বলেছেন, 'পুলিশকে বাধ্য করেছে রাস্তায় নামতে। এবং কিছু আইপিএস অফিসারদের দিয়ে, বিনা প্ররোচনায় গ্রেফতার করা হয়েছে। ' মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে পুলিশের উদ্দেশে বলেন, 'আপনার মাকে বলুন। লেডি কিমকে বলুন। এখন মেদিনীপুরে রয়েছেন। দেশকে দেখান। বাংলাকে উত্তর কোরিয়া বানিয়ে ছেড়েছেন।' এরপরই রাহুল এবং লকেটদের প্রিজন ভ্য়ানে তোলে পুলিশ। এদিকে পুলিশের অন্য এক আধিকারিকের সঙ্গেও বচসায় জড়িয়ে পড়েন শুভেন্দু।