কলকাতা : পূর্বোদয় সাহিত্য উৎসবের দ্বিতীয় সংস্করণের সূচনা হয়ে গেল কলকাতায়। উদ্বোধন অনুষ্ঠান ছিল ২৪ নভেম্বর সত্যজিৎ রায় অডিটোরিয়ামে। ইন্সটিটিউট অফ সোশ্যাল অ্যান্ড কালচারাল স্টাডিজ (ISCS) এবং মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ইন্সটিটিউটের এশিয়ান স্টাডিজ (MAKAIAS) একত্রিত হয়ে এই সাহিত্য উৎসবের আয়োজন করেছে। বেশ কয়েকদিনব্যাপী চলবে এই সাহিত্য উৎসব। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এক ছাদের তলায় হাজির ছিলেন সাহিত্য, শিল্প এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে উৎসাহী, অনুরাগীরা।    

Continues below advertisement

এই সাহিত্য উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল ডক্টর সি ভি আনন্দ বোস। এছাড়াও ছিলেন শ্রী রাজেন্দ্র সিং, পরিবেশবিদ হিসেবে পরিচিত তিনি। জল সংরক্ষণের বিষয়েও তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। 'ওয়াটার ম্যান অফ ইন্ডিয়া' হিসেবে সর্বজনবিদিত শ্রী রাজেন্দ্র সিং। এই অনুষ্ঠানে সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি। নিজের ভাষণে রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস অভিবাদন জানান পারমিতা সৎপথী এবং রাজেন্দ্র সিংকে। এই বছর, বিশিষ্ট লেখিকা পারমিতা সৎপথী সমসাময়িক ভারতীয় সাহিত্যে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দ্বিতীয় পূর্বোদয় এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন।    

প্রাচ্যের সাংস্কৃতিক গতিশীলতার উদযাপন হিসেবে পরিকল্পিত এই উৎসবে, শিল্প সংক্রান্ত ধারণা, ভাবনাচিন্তা এবং শৈল্পিক অভিব্যক্তির এক বিস্তৃত মিশ্রণ প্রদর্শিত হয়েছিল। অংশগ্রহণকারীরা সাহিত্য আলোচনা, আবৃত্তি, কুইজ, ফ্যাশন প্রদর্শনী, শিল্প প্রতিযোগিতা এবং নুক্কড় নাটক-সহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান উপভোগ করেছিলেন। পূর্বোদয় লিটপেক্স: সাহিত্যের উপর ভিত্তি করে একটি ফিলাটেলিক প্রদর্শনী এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ইন্দোনেশিয়ান ওডিসি নামে দুটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজনও ছিল এই সাহিত্য উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। এই দুই বিশেষ প্রদর্শনী দর্শকদের মনে উল্লেখযোগ্য ভাবে নতুন কিছু জানার আগ্রহ জাগিয়ে তোলে। কারণ এখানে দেখা গিয়েছে, বিরল আর্কাইভাল নথি, ছবি এবং কম-অনুসন্ধান হয়েছে এমন সাংস্কৃতিক তথ্য।     

Continues below advertisement

এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত আরও একজন গুরুত্বপূর্ণ মানুষ শ্রী অরিন্দম মুখোপাধ্যায়, যিনি আইএসসিএস- এর ডিরেক্টর। এই ব্যক্তির নেতৃত্বই পূর্বোদয় সাহিত্য উৎসবের দ্বিতীয় সংস্করণ আয়োজনের মূল ভিত্তি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়েছে যথেষ্ট জমজমাট। উৎসাহী জনতার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ইতিবাচক মনোভাব নিয়েই এসেছিলেন সকলে। আর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের এমন শুভারম্ভ দেখে অনুমান, আগামী দিনেও পূর্বোদয় সাহিত্য উৎসবের আসর থাকবে জমজমাট, সাহিত্য-শিল্প-সংস্কৃতি সম্পর্কে আগ্রহীদের ভিড় দেখা যাবে অনুষ্ঠানে। নিহসন্দেহে দর্শকরা জানতে পারবেন নতুন অনেক ধরনের তথ্য।