রাজর্ষি দত্ত গুপ্ত : মালদায় আর জি কর মেডিক্যালের ছাত্রীর রহস্যমৃত্যু, গ্রেফতার প্রেমিক। আর জি কর মেডিক্যালের ফাইনাল ইয়ারের ছাত্রীর রহস্যমৃত্যু হয়েছে মালদা মেডিক্যাল কলেজে। গ্রেফতার ছাত্রীর প্রেমিক মালদা মেডিক্যালের পড়ুয়া উজ্জ্বল সোরেন। প্রেমিকের বিরুদ্ধে আগেই খুনের অভিযোগ এনেছিল মৃতার পরিবার। 'মেয়ে মালদা মেডিক্যালে ভর্তি রয়েছে বলে ফোন আসে। মালদা মেডিক্যালে গিয়ে দেখি মেয়ের মুখ দিয়ে কিছু একটা বেরোচ্ছিল', প্রেমিক জোর করে কিছু খাইয়ে দিয়েছে, বলে জানায় মেয়ে, দাবি মৃতার পরিবারের। 

গতকালই আর জি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ফাইনাল ইয়ারের চিকিৎসক পড়ুয়া, অর্থাৎ মৃতার প্রেমিককে আটক করেছিল মালদা পুলিশ। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। এই ঘটনায় উজ্জ্বল সোরেনের জড়িত থাকার বেশ কিছু নির্দিষ্ট প্রমাণ পুলিশ পেয়েছে বলে সূত্রের খবর। তাঁর বয়ানেও অসঙ্গতি রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আজ সকালে ধৃতকে গ্রেফতার করে পুলিশ এবং আজই উজ্জ্বল সোরেনকে আদালতে তোলা হবে। ইংরেজ বাজার থানায় গতকাল মৃতার মা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তার ভিত্তিতেই প্রথমে আটক এবং পরে গ্রেফতার করা হয়েছে মৃতার প্রেমিককে। তাঁর নামে মামলাও রুজু হয়েছে। একাধিক অভিযোগ রয়েছে ধৃত উজ্জ্বলের বিরুদ্ধে। 

গ্রেফতার হওয়া ডাক্তারি পড়ুয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ, মৃতার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। কয়েকদিন আগে মালদায় আসেন আর জি কর মেডিক্যালের ফাইনাল ইয়ারের ছাত্রী। একটি হোটেলে ছিলেন তিনি এবং উজ্জ্বল। সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়েন চিকিৎসক পড়ুয়া। সম্ভবত এমন কিছু তাঁকে খাওয়ানোর হয়েছিল যার জেরে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। মালদা মেডিক্যালে ভর্তি করা হয় অসুস্থ ছাত্রীকে। পরে মৃত্যু হয় তাঁর। মৃতার পরিবার শুরু থেকেই অভিযোগ করেছে, গোটা ঘটনায় দায়ী উজ্জ্বল। তিনিই কিছু খাইয়ে তাঁদের মেয়েকে খুন করেছে। এমনকি মৃতাকে ভয় দেখানো, হুমকি দেওয়া, অত্যাচার করা এইসব অভিযোগও রয়েছে ধৃত প্রেমিকের বিরুদ্ধে। গতকাল রাতে আটকের পর রাতভর উজ্জ্বলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারপর আজ সকালে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। 

ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে ডাক্তারি পড়ুয়ার মৃত্যুর কারণ আরও স্পষ্ট হবে। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। যদি উজ্জ্বলই তাঁর প্রেমিকাকে খুন করে থাকেন, তাহলে কেন তিনি এই কাণ্ড ঘটালেন, তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। আপাতত জোরকদমে জেরা করা হচ্ছে ধৃত উজ্জ্বল সোরেনকে।