অভিজিৎ চৌধুরী, মালদা : গঙ্গার ভয়াবহ ভাঙনের এবার সরাসরি প্রভাব পড়ল মালদা জেলায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায়। নদীভাঙন ও জলস্তর বৃদ্ধির জেরে পড়ুয়াদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে আপাতত জেলার ৯ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা দফতর। এর মধ্যে মানিকচক ব্লকের ৫টি এবং রতুয়া-১ ব্লকের ৪টি স্কুল রয়েছে। পাশাপাশি ভাঙনের আশঙ্কায় আরও কয়েকটি স্কুল বন্ধের মুখে বলে শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, নিজের লোকসভা কেন্দ্রেই মহুয়া মৈত্রকে ঘিরে চোর স্লোগান, দেখানো হল কালো পতাকা

Continues below advertisement

গঙ্গার ভাঙনে বিপর্যস্ত প্রাথমিক শিক্ষা, মালদায় পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ

জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ সূত্রে জানা গিয়েছে, গঙ্গা ও ফুলহর নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় ইতিমধ্যেই মানিকচক ও রতুয়া-১ ব্লকের একাধিক নদী তীরবর্তী এলাকায় জল ঢুকেছে। ফলে অনেক জায়গায় স্কুল ভবন পর্যন্ত পৌঁছতে পারছেন না ছাত্রছাত্রীরা। কোথাও আবার নদীর একেবারে কিনারায় দাঁড়িয়ে রয়েছে স্কুল ভবন। পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। পশ্চিম রতনপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের একটি বড় অংশ ইতিমধ্যেই জলের গ্রাসে চলে গিয়েছে। অন্যদিকে, মনিরামটোলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছাকাছিও চলে এসেছে গঙ্গা।

মালদায় বন্ধ ৯টি স্কুল

জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ সভাপতি মলয় মণ্ডল বলেন, "মানিকচকের ভাট্টা খাট্টি টোলা, আমিনটোলা, পিয়ারিটোলা, সুখদেবটোলা এবং নিউলুটিহার প্রাথমিক বিদ্যালয় আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রতুয়া-১ ব্লকের জিতুটোলা, মলিরামটোলা, পশ্চিম রতনপুর এবং জিয়ারুদ্দিনটোলা এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ও একই কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে।"শিক্ষা দফতর সূত্রে খবর, পড়ুয়াদের সমস্যার কথা বিবেচনা করে ওই ৯টি স্কুল সাসপেন্ড করার জন্য মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পরিস্থিতির বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। কোথায় বিকল্পভাবে পঠনপাঠনের ব্যবস্থা করা যায়, তা খতিয়ে দেখতে নিচুতলার আধিকারিকদের কাছ থেকে প্রস্তাবও চাওয়া হয়েছে। কয়েকটি স্কুল ইতিমধ্যেই নিরাপদ জায়গায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

কড়া নজর

ভাঙন পরিস্থিতির ওপর প্রশাসনের তরফে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। আগামী দিনে ভাঙন আরও বাড়লে নতুন করে কোনও স্কুল বন্ধ করতে হবে কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে। আপাতত স্থায়ী সমাধানের অপেক্ষায় পড়ুয়া ও অভিভাবকরা। নদীভাঙন রুখতে স্থায়ী ব্যবস্থা হবে, নাকি অন্যত্র নতুন স্কুল ভবন তৈরি করে পঠনপাঠন চালু করা হবে। এখন সেই প্রশ্নের উত্তরই খুঁজছেন তাঁরা।