উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়,  মেদিনীপুর :  শনি বার, একদিকে যখন কলকাতার নজর শিয়ালদা কোর্টে, তিলোত্তমার ধর্ষণ-খুন কাণ্ডের রায়দানের দিকে তাকিয়ে, তখন নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হল মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে। সাসপেন্ডেড চিকিৎসকরা ঘেরাও করেন  অধ্যক্ষ , সুপার, CMOH-সহ অন্যান্য আধিকারিকদের। তাঁরা তাঁদের সাসপেনশন প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। উত্তেজনা ছড়াতেই, হাসপাতালের বাইরে বিশাল পুলিশ বাহিনী জড়ো হয়। নব নিয়োজিত মেডিক্যাল সুপার জানান, 'আমরা গোটা বিষয়টি দেখছি। তদন্ত চলছে। ' 

বৃহস্পতিবারই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছিলেন, ১২ জন চিকিৎসককে সাসপেন্ড করা হল। তাঁদের বিরুদ্ধে সিআইডি তদন্ত চালাবে। আর তার একদিন পরই, মেদিনীপুর মেডিক্য়াল কলেজে প্রসূতি মৃত্য়ুর ঘটনায়, একাধিক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের ধারায় মামলা রুজু হয়।  ভারতীয় ন্য়ায় সংহিতার ১০৫ ধারা অর্থাৎ অনিচ্ছাকৃত খুন, ১২৫ (বি) অর্থাৎ গাফিলতি,  ও ভারতীয় ন্য়ায় সংহিতার ১৯৮ অর্থাৎ সরকারি কর্মীর জেনেশুনে বেআইনি কাজ ও তাতে যদি কারও ক্ষতি হয় -সেই ধারায়  মামলা রুজু করা হয় মেদিনীপুর মেডিক্য়াল কলেজের একাধিক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। 

শুক্রবার পূর্ণ কর্মবিরতির ডাক দিয়েও , তা থেক সরে আসেন মেদিনীপুর হাসপাতালের জুনিয়র চিকিৎসকরা। খোলা ছিল ইমার্জেন্সি ও ওপিডি।  কথা ছিল, শুক্রবার অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কিন্তু অধ্যক্ষের সঙ্গে হয়নি কোনও আলোচনা। জুনিয়র ডাক্তাদের কারও কারও দাবি, তিনি পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যান।   

মেদিনীপুরে প্রসূতি মৃত্য়ু ও আরও তিন প্রসূতির সঙ্কজনক শারীরিক অবস্থার জন্য় শুরু থেকেই কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছিল পশ্চিমবঙ্গ ফার্মাসিউটিক্য়ালের তৈরি রিঙ্গার ল্য়াকটেটকে! কিন্তু বৃহস্পতিবার মুখ্য়মন্ত্রী সাংবাদিক বৈঠক করে দাবি করেন, এর জন্য় দায়ী জুনিয়র ও সিনিয়র চিকিৎসকরা। তারপরই ১২ জন চিকিৎসককে সাসপেন্ড করা হয়। এই সাসপেনশনের বিরোধিতা করেই শনিবার ফের উত্তেজনা ছড়ায় কলেজে। 

আরও পড়ুন :                 

'আপনার মেয়ে কিছুটা মারা গেছে' বলা হয়েছিল তাঁকে, বুকে দগদগে ক্ষত নিয়েই রায়ের অপেক্ষা মায়ের