অলোক সাঁতরা, মেদিনীপুর : পুলিশের সামনেই চোরকে ধরে বেধড়ক মার। পুলিশ অ্যাসিসট্যান্ড বুথের মধ্যে নিয়ে গিয়ে চলল রীতিমতো গণধোলাই। নীরব দর্শকের ভূমিকায় পুলিশ কর্মীরা। এমন ঘটনা ঘটল মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (Midnapore Medical College Hospital) সামনে।

আরও পড়ুন - Weather Updates: বাংলায় প্রবেশ করবে গভীর নিম্নচাপ, ভারী বৃষ্টির কমলা সতর্কতা জারি দক্ষিণবঙ্গে

স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, রবিবার দুপুরে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি থাকা এক রোগীর পরিজনের মোবাইল নিয়ে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করে এক যুবক। মোবাইল চুরির করে পালানোর সময়ই রোগীর পরিজনদের হাতে ধরা পড়ে যায় সে। আর চোরকে ধরে ফেলার পরই শুরু হয়ে যায় বেধড়ক মার। শুধু রোগীর পরিজনেরাই নন, হাসপাতাল চত্বরে উপস্থিত থাকা অন্যান্য লোকেরাও চোরের উপর বেদম প্রহার শুরু করে। হাসপাতালেই রয়েছে পুলিশ অ্যাসিসট্যান্ট বুথ। সেখানে উপস্থিত ছিলেনও পুলিশকর্মীরা। কিন্তু যখন রোগীর পরিজনেরা চোরকে রীতিমতো গণধোলাই দিচ্ছে, তখন কার্যত দর্শকের ভূমিকায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সেই দৃশ্য দেখে যাচ্ছেন পুলিশকর্মীরা। অভিযোগ উঠেছে এমনটাই। 

আরও পড়ুন - West Midnapore: কোদাল হাতে সাফ করলেন নর্দমা, স্প্রে করলেন মশা তাড়ানোর ওষুধ, সাফাই কর্মীর ভূমিকায় ঘাটালের মহকুমা শাসক

সূত্রের খবর, চোরকে ধরে ফেলার পর রোগীর পরিজনেরা তাকে রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে এসে হাসপাতালের পুলিশ অ্য়াসিসট্যান্ট বুথের মধ্যে নিয়ে গিয়েও মারধর করে। পুলিশের লাঠি দিয়েই রোগীর পরিজনেরা বেদম প্রহার করতে থাকে। ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে পুলিশের ভূমিকা। যদিও অবস্থা বেগতিক দেখে তারপর এগিয়ে আসেন পুলিশকর্মীরা। তাঁরা আটক করেন চোরকে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। অভিযোগ উঠেছে যে, পুলিশের সামনেই কীভাবে চোরকে গণধোলাই দিতে পারে জনতা। তাছাড়া, প্রশ্ন উঠছে, পুলিশ অ্যাসিসট্যান্ট বুথের মধ্যে থাকা পুলিশেরই লাঠি দিয়ে কীভাবে সাধারণ রোগীর পরিজন মারধর করতে পারে চোরকে। বহু মেদিনীপুরবাসীই জানাচ্ছেন যে, এমন ঘটনায় লজ্জায় তাঁদের মাথা হেঁট হয়ে গিয়েছে।