কলকাতা: দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে কেরলে প্রবেশ করেছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD) জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিনে দেশের একাধিক রাজ্যে ভারী বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ এবং ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই ২৪টি রাজ্যে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

Continues below advertisement

কেরলে ঢুকল বর্ষা, জারি অরেঞ্জ অ্যালার্ট

স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকদিন দেরিতে কেরলে প্রবেশ করেছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। কেরলের একাধিক জেলায় অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কোথাও কোথাও ১১ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে।

Continues below advertisement

দক্ষিণ ভারতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা

কেরলের পাশাপাশি কর্ণাটক, তামিলনাড়ু এবং লক্ষদ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় আগামী সপ্তাহজুড়ে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে জারি করা হয়েছে বিশেষ সতর্কতা।

২৪ রাজ্যে ঝড়-বৃষ্টির সতর্কবার্তা

IMD-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, দিল্লি, রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, ওড়িশা, তেলেঙ্গানা-সহ ২৪টি রাজ্যে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৫০-৭০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। বেশ কিছু জায়গায় শিলাবৃষ্টির আশঙ্কাও রয়েছে।

এখনও তাপপ্রবাহের দাপট

অন্যদিকে, গুজরাট, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র এবং পশ্চিম রাজস্থানের বেশ কিছু এলাকায় এখনও ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে তাপমাত্রা রয়েছে। ফলে বর্ষা এলেও দেশের সব জায়গায় এখনও গরম থেকে স্বস্তি মিলছে না।

আরও পড়ুন, পঞ্চায়েতে বিরাট নিয়োগ ঘোষণা, শুরু হবে ১০০ দিনের কাজ, দিলীপ ঘোষ জানালেন আগামীর ব্লু প্রিন্ট

IMD-এর পরামর্শ

যেসব এলাকায় ভারী বৃষ্টি, বজ্রপাত এবং ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা জারি হয়েছে, সেখানে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। বিশেষ করে জল জমা, আকস্মিক বন্যা এবং ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় বাড়তি সতর্কতা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

বর্ষা কবে পৌঁছবে পশ্চিমবঙ্গে?

আবহাওয়াবিদদের মতে, কেরলে প্রবেশের পর সাধারণত ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে মৌসুমি বায়ু পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের দিকে অগ্রসর হয়। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ওড়িশা ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায় বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনাও বাড়ছে।

কৃষিক্ষেত্রে স্বস্তির বার্তা

দেশের কৃষিক্ষেত্রের জন্য বর্ষার আগমন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধান, ডাল, ভুট্টা এবং অন্যান্য খরিফ ফসলের চাষ অনেকটাই মৌসুমি বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল। সময়মতো বর্ষা এলে কৃষিকাজে গতি আসে এবং উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়।

শহরাঞ্চলে বাড়তে পারে সমস্যাও

ভারী বৃষ্টির জেরে বড় শহরগুলিতে জল জমার সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে মুম্বই, বেঙ্গালুরু, চেন্নাই, কোচি এবং কলকাতার মতো শহরে নিকাশি ব্যবস্থার উপর চাপ বাড়তে পারে। ফলে অফিসযাত্রী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ ২০২৬ সালের বর্ষা?

ভারতের বার্ষিক বৃষ্টিপাতের প্রায় ৭০ শতাংশই আসে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর মাধ্যমে। দেশের খাদ্য উৎপাদন, জলাধারের জলস্তর, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সামগ্রিক অর্থনীতির উপর বর্ষার প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বর্ষার গতিপ্রকৃতির দিকে নজর রাখছেন কৃষক থেকে শুরু করে অর্থনীতিবিদরাও।