পার্থপ্রতিম ঘোষ, সন্দীপ সরকার ও সৌমিত্র রায়, কলকাতা: ভরতপুর সাসপেন্ডেড তৃণমূল নেতা ও বিধায়ক হুমায়ুন কবীর বলেন,'আমাকে বাবরি মসজিদ করতে বাধা দিচ্ছে। এর জবাব বাংলার মুসলমান সমাজ আগামীদিনে এই সরকারকে দেবে।' পুর-নগরোন্নয়ন মন্ত্রী তৃণমূল বিধায়ক  ফিরহাদ হাকিম বলেন, 'কেউ মসজিদের নামে, কেউ মন্দিরের নামে, সুড়সুড়ি দিচ্ছে।' প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, 'পথ দেখিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।'  

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, আজ ৫ লক্ষ কণ্ঠে ব্রিগেডে গীতাপাঠ, মুখ্যমন্ত্রী, বিরোধী দলনেতাকেও আমন্ত্রণ

Continues below advertisement

ভোট এলেই কখনও মন্দিরের উদ্বোধন, কখনও মসজিদের শিলান্য়াস।কোনও নেতা মন্দিরমুখী। কোনও নেত্রী নামাজ পাঠের অনুষ্ঠানে। ভারতীয় রাজনীতির এখন অঙ্গ হয়ে উঠেছে ধর্ম। ধর্ম, জাতপাত, সম্প্রদায় এখন পুরোদস্তুর ঢুকে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতেও। শনিবার মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের শিলান্য়াস ঘিরেও ছত্রে ছত্রে উঠে এল সেই রাজনীতি। ধর্মীয় আবেগ উস্কে দিয়ে হুমায়ুন কবীর দাবি করলেন, তাঁকে বাবরি মসজিদ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে। সাসপেন্ডেড তৃণমূল বিধায়ক  হুমায়ুন কবীর বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে রোখার জন্য় PIL ফাইল হয়েছিল মহামান্য় কলকাতা হাইকোর্টে।  গোটা ভারতবর্ষ দেখুক, এক শ্রেণির মানুষ এটা হতে দিতে চায়নি। অনেকেই চক্রান্ত করবে।  

প্রশ্ন: কারা করবে? হুমায়ুন কবীর : অনেকেই করবে, এখানকার ২ জন MLA আছে, রেজিনগর এবং বেলডাঙা। তারা তো এখনও কন্টিনিউ এটাকে মেনে নিতে পারছে না। কারণ তাদের কফিনে পেরেকটা পুঁতে দেওয়া হয়েছে।

 তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক  কুণাল ঘোষ বলেন, যদি কেউ বলেন, যে আমাকে ওমুক তৈরির জন্য বহিষ্কার করা হল, ওমুক তৈরির জন্য দল ব্যবস্থা নিয়েছে, একদম মিথ্যা কথা। মন্দির-মসজিদ-গির্জ বা যেগুলি আরাধ্য স্থান বা যেগুলি পবিত্র স্থান সেগুলির জন্য তৃণমূল কংগ্রেস ব্যবস্থা নেয়নি। ব্যবস্থা নেবে না।

সদ্য সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের নিশানায় যখন তৃণমূল, তখন আক্রমণের জোর আরও বাড়িয়েছেন শুভেন্দু অধিকারীও। বিরোধী দলনেতা  শুভেন্দু অধিকারী বলেন, মৌলবাদী মুসলিমদের কাছে আজকে আত্মসমর্পণ করলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকার, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজকে মমতার আমলে আরবি সংস্কৃতি, মোগল-পাঠানদের সংস্কৃতি পশ্চিমবাংলায় বীজ পোতা হল ৫০০ পুলিশের প্রোটেকশনে। হিন্দুরা আজকের বেলডাঙার ঘটনা দেখে শিক্ষা নিন।

হুমায়ুন কবীর থেকে শুভেন্দু অধিকারী সবার নিশানায় তৃণমূল। মন্দির মসজিদের রাজনীতির শুরুটা করল কে? এই প্রশ্ন তুলে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কে খোঁচা দিয়েছেন অধীর চৌধুরী। প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি  অধীর চৌধুরী বলেন, তৃণমূল পার্টি নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সে নিজেকে বড় হিন্দুপ্রমাণ করার জন্যে সে পুরী থেকে জগন্নাথ দেবকে নিয়ে আসছে পশ্চিমবঙ্গে, মহাকালকে নিয়ে আসছে পাহাড় থেকে সমতলে। দলের MLA সেই পথ অনুসরণ করে সেও বলছে, যদি পুরী থেকে মন্দির নিয়ে আসা যায় দিঘার তটে, তাহলে আবার বাবরি মসজিদই বা কেন নিয়ে আসা যাবে না? অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনৈতিক ভাবনার গর্ভে আজকে এই ভাবনাকে লালিতপালিত হতে আমরা দেখেছি। 

 তৃণমূল বিধায়ক পুর-নগরোন্নয়ন মন্ত্রী  ফিরহাদ হাকিম বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বিশ্বাস করে নজরুলের সেই ভাষা, এক বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু, মুসলমান, এই পশ্চিমবঙ্গ সারা জীবন সেটার উপর বিশ্বাস করে এগিয়ে এসেছে।কেউ দাবি করছেন তারাই হিন্দুদের একমাত্র প্রতিনিধি, সবচেয়ে কাছের লোক। কেউ আবার নিজেদের মুসলিমদের রক্ষাকর্তা হিসেবে প্রমাণ করতে মরিয়া। আদতে কি সবটাই ভোটে জিতে ক্ষমতা দখল করতে ধর্মীয় মেরুকরণ তৈরির চেষ্টা? তাই কি রাজনীতি এখন হিন্দু-মুসলিম, মন্দির-মসজিদময়?