রাজীব চৌধুরী, মুর্শিদাবাদ: রাস্তা যেন মরণফাঁদ। মুর্শিদাবাদের নবগ্রামে উল্টে গেল পড়ুয়া বোঝাই টোটো। ক্যারাটে প্রশিক্ষক হজরত আলি মল্লিক খারাপ রাস্তার ছবি তুলছিলেন। সেই সময়েই দুর্ঘটনা ঘটে। বেসরকারি স্কুলের ১২ জন পড়ুয়াকে নিয়ে পলসণ্ডা মোড়ের দিক থেকে বড়বাথানের দিকে যাচ্ছিল টোটো। নবগ্রামে পলসণ্ডা-লালবাগ সদরঘাট রাজ্য সড়কে টোটো উল্টে যায়। স্থানীয়দের দাবি, ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের সঙ্গে সংযোগকারী ১৪ কিলোমিটার রাজ্য সড়কের বেশিরভাগ অংশ বেহাল। পূর্ত দফতরের এই রাস্তা দীর্ঘ কয়েক বছর সংস্কার হয়নি বলে অভিযোগ। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। 

মুর্শিদাবাদ জেলার নবগ্রামের পলসণ্ডা থেকে লালবাগ সদরঘাট যাওয়ার ব্যস্ততম সড়কটি বর্তমানে একাধিক খানাখন্দে পরিণত হয়েছে মরণফাঁদে। প্রতিদিন এই রাস্তায় স্কুল পড়ুয়া, সাধারণ মানুষ, গাড়ি চালক এমনকি পর্যটকরাও দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। এই রাস্তাটি ধরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান যেমন—স্কুল, স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ব্যাঙ্ক, কিরীটেশ্বরী মন্দির ও গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে যাতায়াত করতে হয় স্থানীয়দের। অথচ রাস্তার বেহাল দশার কারণে যানবাহন চলাচল তো বটেই, পায়ে হাঁটাও হয়ে উঠেছে দুর্বিসহ। বড় বড় গর্তে পড়ে যানবাহনের চাকা আটকে যাচ্ছে, ঘটছে একের পর এক দুর্ঘটনা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার এই দুরবস্থা চললেও প্রশাসনের তরফ থেকে স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। রাস্তার গর্ত ভরতে মাঝেমধ্যে ইট বা ভাঙা রাবিশ ফেলে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু দু-এক দিনের মধ্যেই তা উঠে গিয়ে পুনরায় বিপজ্জনক হয়ে উঠছে রাস্তা। রাস্তার এই অবস্থা নিয়ে স্থানীয় মানুষ, ব্যবসায়ী, এবং গাড়ি চালকরা দ্রুত স্থায়ীভাবে রাস্তা সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন প্রশাসনের কাছে। আজ সকাল থেকে খোয়া ফেলে রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। 

টোটো উল্টে যাওয়ার ছবি পোস্ট করে গতকাল মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করেন বিজেপির IT সেলের প্রধান অমিত মালব্য। এক্স হ্যান্ডল পোস্টে অমিত মালব্য লেখেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অধীনে বাংলার ছোট ছোট শিশুরা তাঁর ভয়াবহ দুঃশাসনের জন্য চূড়ান্ত মূল্য দিচ্ছে। বাড়িতে তৈরি বোমা হামলা থেকে শুরু করে ধর্ষণ ও হত্যার ভয়াবহ ঘটনা। আর এখন ভাঙা, অবহেলিত রাস্তার কারণে শিশুরা আহত হচ্ছে। এটাই তাঁর ভুল জায়গায় থাকা ধর্ম নিরপেক্ষতার আসল মূল্য। জনগণ দেখছে, এবং ২০২৬ সালে পরাজয় অনিবার্য। মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ অমিত মালব্যর।