কলকাতা: নবান্ন অভিযানে ধুন্ধুমার। এর মধ্য়েই চাঞ্চল্য়কর অভিযোগ করলেন নিহত চিকিৎসকের মা-বাবা। নিহত চিকিৎসকের মায়ের অভিযোগ, তাঁর হাতের শাঁখা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। কপালে মারা হয়েছে। রাস্তায় ফেলে মেরেছে পুলিশ। যদিও, মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ। চিকিৎসার জন্য এদিন অভয়ার মা-বাবাকে মেডিকা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। এহেনও পরিস্থিতিতে এবিপি আনন্দ এর কাছে মুখ খুললেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র।

আরও পড়ুন 'অভয়ার মাকে ধাক্কা দিচ্ছে BJP-র ন্যাড়া নাড়ু, ক্যামেরায় মুখ দেখাবে বলে..', কৌস্তভ বাগচীর নাম না করে পোস্ট কুণালের

এদিন শ্রীলেখা বলেন, বিজেপিকে জিজ্ঞেস করুন, যে সিবিআই কী করছে ? শুভেন্দু অধিকারীকে জিজ্ঞেস করুন, সিবিআই কী করছে ? শুভেন্দু অধিকারী তো নবান্ন অভিযানে গিয়েছে। তার তো জানার কথা, তাহলে শুভেন্দু অধিকারী বলবে যে, সিবিআই কী করছে । 

প্রশ্ন: একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে সিবিআই এর ভূমিকা-অভিযোগ দুটোই আপনার সামনে..

শ্রীলেখা মিত্র : আমি এইটুকু জানি যে, দিদি আর মোদির সেটিং আছে। যেটা পলিটিশিয়ানরা যেটা করে থাকেন, তাঁদের নিজেদের সুবিধার জন্য, মরি আমাদের মতো লোকজন। আমাদের বাড়ির তামান্না, আমাদের বাড়ির অভয়া.. এরকম মানুষজন মরে, আর সারাজীবন লড়াই করে বলে তাঁদের নিজেদের দামও দিতে হয়। তাঁদের নিজেদের কাজের ক্ষেত্রে , তাঁদের প্রত্যেককে একটু একটু করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে নিয়ে যায়। 

প্রশ্ন: পুলিশ-সিবিআই যদি না করে, তাহলে কে করবে ?

শ্রীলেখা মিত্র : পুলিশ মন্ত্রীটা কে ? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা যদি পুলিশমন্ত্রী হয়ে কিছু না করেন, তাহলে আমি আপনি কী করব ? তাহলে কেন পুলিশ কিছু করছে না, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসা করুন। আমি তো কর্মসূচি কিছু ঠিক করছি না। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। আর আমার মত আরও অনেক মানুষের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। তো মানুষের দেওয়াল পিঠ ঠেকে গেলে কী করে ? যদি সেরকম হয়, আমি তাই করব।

 এদিন নিহত চিকিৎসকের মা  বলেন , আমি বিচার চেয়েছি বলে, আজকে আমায় মেরেছে। হাতের শাঁখাটা ভেঙে দিয়েছে, কপালে মেরেছে। সারা হাত কেটে দিয়েছে। অনেক পুলিশ মিলে মেরেছে। রাস্তায় ফেলে মেরেছে। একবছর আগে এই দিনেই হারিয়েছিলেন ডাক্তারি পড়ুয়া মেয়েকে। একমাত্র সন্তানকে হারানোর সেই ক্ষত এখনও দগদগে। একবছর পর সেই ৯ অগাস্ট মেয়ের বিচার চাইতে নেমে, ক্ষত জুড়োল না, উল্টে আরও গভীর হল!অভয়ার মায়ের চাঞ্চল্য়কর অভিযোগ, শনিবার নবান্ন অভিযানে তাঁকেই মারধর করেছে পুলিশ।