আবির দত্ত, নদিয়া : নদিয়ার কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনে ভোট শুরুর আগেই অশান্তি। অনন্তপুর অঞ্চলের ২০৪ নম্বর বুথে কংগ্রেস এজেন্টকে বসতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ। কংগ্রেস এজেন্টকে বসতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। মীরা ওয়ান হরিজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২১ নম্বর বুথে কংগ্রেস এজেন্টকে বার করে দেওয়ার অভিযোগ। বুথ থেকে কংগ্রেস এজেন্টকে বার করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। দুটি ঘটনাতেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে শাসকদল। 

Continues below advertisement

বিজেপি প্রার্থীরও অভিযোগ, ২টি বুথ থেকে তাঁদের এজেন্টকেও বের করে দেওয়া হয়েছে। বসতে দেওয়া হয়নি। মীরা ওয়ান বড়চাঁদগড় ২১ এবং ৫৬ নম্বর বুথে এজেন্টদের বসতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন বিজেপি প্রার্থী আশিস ঘোষ। তিনি ওই দুই বুথে যাবেন বলেও জানিয়েছেন। পাশাপাশি অভিযোগের তির সরাসরি তৃণমূলের দিকেই তুলেছেন কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনের বিজেপি প্রার্থী। আশিস ঘোষের কথায়, 'এটা টিএমসির কালচার। বুথ জ্যাম, ছাপ্পা, রিগিং। এরা জানে কালীগঞ্জ বিধানসভায় পায়ের তলায় মাটি নেই। জনগণ ওদের পক্ষে নেই। এটা চলতেই থাকবে। আমরা এটা রুখে দেব।' 

ইভিএম নিয়েও অভিযোগ করেছেন বিজেপি প্রার্থী। ১৬৮ নম্বর বুথে ইভিএম- এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিজেপি প্রার্থীর অভিযোগ, 'এটাও ওদের একটা পরিকল্পনা। সকাল সকাল আমাদের যে ভোটাররা আসেন তাঁদের ডিস্টার্ব করার একটা প্রবণতা ওরা দেখাবে। সেটা শুরু হয়েছে। আমি এখনই যাব।' এর পাশাপাশি বিজেপি প্রার্থী আশিস ঘোষ এও বলেছেন যে, নির্বাচন কমিশনে তাঁরা তাঁদের অভিযোগ জানিয়েছেন। কংগ্রেসের তরফেও এজেন্ট বসতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাদের তরফেও নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই ভোট দিয়েছেন কালীগঞ্জ বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী আশিস ঘোষ। 

Continues below advertisement

উপনির্বাচন ঘিরে কালীগঞ্জে কড়া নিরাপত্তা। ১৬২টি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের বাইরে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়। ১৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ। কমিশন সূত্রে খবর, এবার ১০০ শতাংশ বুথেই থাকছে ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা। নজরদারির জন্য রাজ্য, জেলা এবং বিধানসভা ভিত্তিক কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। প্রতিটি স্তরে নজরদারিতে থাকবেন একজন নোডাল অফিসার। নদিয়ার কালীগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনে তৃণমূল, বিজেপি ও বাম-কংগ্রেস জোটের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই। ২০১১ ও ২০২১-এর বিধানসভা ভোটে কালীগঞ্জ দখল করেছিল তৃণমূল। ২০২৪-এর লোকসভা ভোটের ফলের নিরিখেও এই কেন্দ্রে এগিয়ে শাসক দল। এবার কী হবে? উত্তর মিলবে ২৩ জুন।