সুজিত মণ্ডল, নদিয়া: দলেরই জেলা সভাপতির অপসারণ চেয়ে রাস্তায় নামলেন বিজেপি কর্মীদের একাংশ (BJP)। আর সেই মিছিলেই হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল বিজেপি জেলা সভাপতির অনুগামীদের বিরুদ্ধে। নদিয়ার রানাঘাটে চরমে বিজেপির কোন্দল। এনিয়ে কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছে তৃণমূল (TMC)।

লাঠিসোঁটা নিয়ে দলের মিছিলেই হামলা। বেধড়ক মারধর। বিজেপির মিছিলে হামলা দলেরই বিক্ষুব্ধদের। জেলা সভাপতির অপসারণ চেয়ে মুহুর্মুহূ স্লোগান। নদিয়ার রানাঘাটে বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল। একেবারে রাস্তায় নেমে এল!সূত্রের খবর, রবিবার বিজেপির নদিয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার অফিসে দলীয় নেতৃত্বের বৈঠক চলছিল। ঠিক সেই সময়, নদিয়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও স্বজনপোষণের অভিযোগ তুলে, তাঁর অপসারণের দাবিতে মিছিল করে পার্টি অফিসে যাচ্ছিল বিজেপি কর্মীদের একাংশ। অভিযোগ, আচমকাই জেলা সভাপতির অনুগামীরা মিছিলে হামলা চালায়। লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় মিছিলে থাকা বিজেপি কর্মীদের।

চলতি বছরের শুরুতেও উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের কল্যাণগড়ে বিজেপির গোষ্ঠীকোন্দল (BJP Inner Clash) প্রকাশ্যে এসেছিল। কল্যাণগড় যুব মন্ডল সভাপতি নিজে বিভিন্ন অনৈতিক কাজ এবং অসামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করেছিলেন ৪ মন্ডল কমিটির সদস্য। কল্যানগড় মন্ডলের যুব সভাপতির নাম সুরজিৎ  ওরফে বাপন সমাদ্দার (Bapan Samaddar)। অভিযোগ, 'বাপন বিভিন্ন অসামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত।  কল্যাণগড় মন্ডল এর যুব কোষাধ্যক্ষ লিটন দে,সীমান্ত মজুমদার সহ মোট চারজন সদস্য সরাসরি যুব মণ্ডল সভাপতি অসামাজিক কাজে জড়িত বলে অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করেছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল,' এ ব্যাপারে বারংবার ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বকে জানিয়েও কোনও কাজ হয়নি। বাপনের সঙ্গে তাঁদের একসঙ্গে রাজনীতি করতে মান-সম্মান নষ্ট হচ্ছে' বলেও তারা অভিযোগ করেছিলেন।

আরও পড়ুন, যাদবপুরে অন্তর্বর্তী উপাচার্য নিয়োগে রাজ্যপালের সমালোচনায় ব্রাত্য বসু

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই অশোকনগর কল্যাণগড় পৌরসভার পৌরপ্রধান প্রবোধ সরকার জানিয়েছিলেন, 'শুধু অশোকনগর নয় সারা বাংলাতেই বিজেপির অন্তদ্বন্দ্ব রয়েছে যারা ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব তারাও বিভিন্ন দুর্নীতিতে যুক্ত অশোকনগরের বিজেপির একজন সম্পাদক বিভিন্ন দুর্নীতিতে বর্তমানে জেল খাটছেন সুতরাং বিজেপিকে নিয়ে নতুন করে বলার বা ভাবার কিছু নেই।'অন্যদিকে বিজেপি বারাসত জেলা সভাপতি তাপস মিত্র বলেছিলেন, 'এ ব্যাপারে তিনি জানেন না। যারা এসব করছেন তৃণমূলকে সুবিধা করে দিচ্ছেন। এর পেছনে তৃণমূল এমএলএ নারায়ন গোস্বামীর হাত আছে।' তবে বিজেপির অন্তকলহে অস্বস্তিতে দল।