কলকাতা: রোজই তিনি আসতেন কাজ করতে, তবে গরহাজির ছিলেন সেই অভিশপ্ত দিনে! শরীর অসুস্থ লাগার কারণে, এদিন নিয়মমাফিক কাজে আসতে পারেননি তিনি। আর সেই কাজে না আসাই প্রাণ বাঁচিয়ে দিল, নীলা দেবীর! তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদামঘরের ছাদ ভেঙে পড়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারাতলায় ভয়াবহ এই বিপর্যয়ে ইতিমধ্যেই ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল অর্থাৎ বুধবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও সমস্ত শ্রমিককে উদ্ধার করা যায়নি। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে এসেছে NDRF, ক্রেন ও অত্যাধুনিক সব যন্ত্র নিয়ে আসা হয়েছে। গ্যাস কাটার দিয়ে লোহার বিম কেটে কেটে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধার করার চেষ্টা চলছে। ধ্বংসস্তুপের মধ্যে এখনও কেউ বেঁচে রয়েছেন কি না, তা দেখা হচ্ছে। 

Continues below advertisement

কাজে যেতে পারেননি, তাই বাঁচল প্রাণ!

এদিনের ঘটনায় হাসপাতালে দাঁড়িয়ে এখনও যেন ভয়ে কেঁপে উঠছেন, নীলা দেবী। তিনি নিয়মিতভাবে এই নির্মীয়মাণ গুদাম ঘরের ছাদে জল দিতে আসতেন তিনি। তবে এদিন শরীর অসুস্থ থাকার কারণে, তিনি কাজে আসতে পারেননি তিনি। তাঁর বদলে অন্য একজনকে কাজে পাঠিয়েছিলেন তিনি। সেই ব্যক্তি আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এদিন হাসপাতালে এসেছেন খোদ বীণা দেবীও। দুর্ঘটনার দিন তিনি নিজে কাজে না আসতে পেরে, অন্য আরেকজনকে পাঠিয়েছিলেন। সেই ব্যক্তি এখন আহত হয়ে ভর্তি রয়েছেন, হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে। এদিন এবিপি আনন্দের প্রতিনিধিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বীণা দেবী বলেন, 'আমরা রোজের কাজ করি। যেদিন যে কোম্পানি ডাকে, আমরা চলে যাই। একদিন বাড়ির ছাদে উঠেছিলাম। তখন ভাইব্রেটার চলছিল। ঢালাইয়ের মেশিন চলছিল। তখন বাড়িটা কাঁপছিল। প্রথমটা বুঝতে পারিনি, মনে হল, আমারই বোধহয় মাথা ঘুরছে।'

Continues below advertisement

এখন কী পরিস্থিতি তারাতলার?

ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পরেও চলছে উদ্ধারকার্য। এর মাঝে, হঠাৎ দুর্যোগের জন্য কিছুটা ব্যহত হয়েছিল উদ্ধারকার্য। হঠাৎ তুমুল বৃষ্টিপাত শুরু হওয়াতে, কিছুক্ষণের জন্য থামিয়ে দিতে হয়েছিল উদ্ধারকার্য। তবে বৃষ্টি কিছুটা কমে আসতেই ফের জোরকদমে চলছে উদ্ধারকার্য। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ১১ জন শ্রমিকের দুর্ভাগ্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে। বহু শ্রমিক এখনও হাসপাতালে ভর্তি।

আরও পড়ুন: Kolkata Rain: জলমগ্ন SSKM-এর একাধিক বিভাগ, ভাসছে চিকিৎসার সামগ্রী! বেড থেকে নামতেই পারছেন না রোগীরা