উত্তর ২৪ পরগনা: বনগাঁয় ৬ জন তৃণমূল কাউন্সিলরের বাড়িতে দুষ্কৃতী হামলার অভিযোগ। ১ তৃণমূলের কাউন্সিলরের বাড়ির সামনে গুলি চালানোরও অভিযোগ। গতকাল রাতে পুরসভার ২ , ৯, ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের বাড়িতে হামলা। বাড়ির সামনে গুলি চলেছে, অভিযোগ ১১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলরের। হামলার অভিযোগ ২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলরেরও। গতকালই বনগাঁ পুরসভার পুরপ্রধান গোপাল শেঠের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়। সেই অনাস্থা প্রস্তাবে সই করেননি বনগাঁ পুরসভার এই ৬ তৃণমূল কাউন্সিলর। হামলার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে বনগাঁ থানার পুলিশ। 

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, SIR আতঙ্কে চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্য়ার চেষ্টার অভিযোগ ! বেলঘরিয়া-দমদমের মাঝে মর্মান্তিক ঘটনা

Continues below advertisement

এই ঘটনার পর, বনগাঁ থানার সামনে বসে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা। যেভাবে ৬ জন প্রতিনিধির বাড়িতে দুষ্কৃতী হামলা হল, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন। এবং সেখানে স্পষ্ট তাঁদের অভিযোগ, গতকাল অনাস্থা প্রস্তাবে তাঁরা স্বাক্ষর করেননি। আজকে মমতা ঠাকুর, তিনি গিয়েছিলেন, দুই জন আক্রান্ত মহিলা তৃণমূল কাউন্সিলরের বাড়িতে। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। 

৬ নভেম্বর, বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে গোপাল শেঠকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল দলের তরফে।তার আগেই অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদ থেকে সরে যান তিনি। তাঁর জায়গায় ২১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সুরজিৎ দাসকে অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে,তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীকে চিঠিও লিখেছিলেন গোপাল শেঠ।মঙ্গলবার পুরসভায় এসেও দায়িত্ব নিতে পারলেন না তৃণমূল কাউন্সিলর সুরজিৎ দাস।

বনগাঁ পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর  সুরজিৎ দাস বলেন, আমার চেয়ারম্যান গোপাল শেঠ মহাশয় অসুস্থ। সেই কারণের জন্য আমাকে উনি চার্জ দিয়ে গেছেন। সেই কপি নিয়ে আমি আজ বনগাঁ পুরসভার EO সাহেব এবং OS সাহেবের কাছে দু'জনের কাছে আমি আসি। তখন ওই সময়ই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ওঁরা জানতে চেয়েছেন এবং এখনও ওঁদের কাছে কোনও রিপোর্ট আসেনি। তাই এখন ওঁরা আমাকে চার্জ দিতে পারছেন না। 

বনগাঁ পুরসভা এক্সিকিউটিভ সুরেশচন্দ্র হীরা বলেন , যে চিঠিটা আমরা পেয়েছি, সেটা আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জেলাশাসক, ADM-কে পাঠিয়েছি। যতক্ষণ না ক্ল্যারিফিকেশন এবং ডায়রেকশন আসছে, ততক্ষণ এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারব না। বনগাঁ পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান শঙ্কর আঢ্যর সঙ্গে গোপাল শেঠের বিবাদ মাঝেমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে।আবার গোপাল শেঠ যখন চেয়ারম্যান পদে ছিলেন, তখন ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন শঙ্কর আঢ্যর স্ত্রী জ্যোৎস্না আঢ্য। ৮ নভেম্বর, পুরসভার দুর্নীতির তদন্তের কারণ দেখিয়ে জ্যোৎস্না আঢ্যকে পদ থেকে সরিয়ে দেন গোপাল শেঠ। সব মিলিয়ে বনগাঁ পুরসভায় যে ডামাডোল তৈরি হয়েছে, তাতে ফের একবার তৃণমূলের দ্বন্দ্ব সামনে চলে এসেছে। বনগাঁ পুরসভা ভাইস চেয়ারম্যান  জ্যোৎস্না আঢ্য বলেন, চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানকে সরিয়ে দিয়েছে। সে যাইহোক, সে একবার কেন, ১০০ বার সরাক। তাতে আমার কোনও যায় আসে না। কিন্তু দল তো আমাকে সরায়নি। দল একবারও বলেনি যে জ্যোৎস্না তুমি ভাইস চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে যাও। ও পাগল হয়ে গেছে। 

বনগাঁ পুরসভা তৃণমূল নেতা ও প্রাক্তন চেয়ারম্যান  গোপাল শেঠ বলেন,ভাইস চেয়ারম্যানের অপসারণ সংক্রান্ত যা বলেছেন। বনগাঁ পুরসভায় তৃণমূলের এই কোন্দল দেখে স্বাভাবিকভাবেই কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি।বিধানসভা ভোটের আগে, ইতিমধ্যেই বেশ কিছু পুরসভায় রদবদল করিয়েছে তৃণমূল। কিন্তু এই আবহেই বনগাঁ পুরসভায় দলের দ্বন্দ্ব আরও জোরালো আকার নিল।