উত্তর ২৪ পরগনা: SIR আতঙ্কে চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্য়ার চেষ্টার অভিযোগ। গতকাল রাতে বেলঘরিয়া-দমদমের মাঝে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে 'আত্মহত্য়ার চেষ্টা'। ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর জখম বেলঘরিয়া প্রফুল্ল নগরের বাসিন্দা ওই বৃদ্ধ। জখম ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে পাঠানো হয়েছে আর জি কর হাসপাতালে। পরিবারের দাবি, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর নাম ছিল না। SIR-এর পর্বের শুরু থেকেই আতঙ্কে ছিলেন তিনি, অভিযোগ পরিবারের।
আরও পড়ুন, এনুমারেশন ফর্ম দিতে গিয়ে হাতে কোদাল তুলে নিলেন BLO !
সদ্য ডানকুনিতে এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। এদিকে এরই মধ্যে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে উলুবেড়িয়ায়। মৃত জাহির মাল দিনমজুরি করতেন বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। কিছুদিন আগেই তামিলনাড়ুতে মৃত্যু হয়েছিল জামালপুরের পরিযায়ী শ্রমিকের। ৫১ বছর বয়সী ওই পরিযায়ী শ্রমিকের নাম বিমল সাঁতরা। তিনি মূলত জামালপুরের নবগ্রামের বাসিন্দা। মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের ছেলে জানিয়েছেন,'SIR আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে বাবা হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। SIR হলে ভোটার তালিকায় নাম থাকবে কিনা, সেই নিয়ে চিন্তায় ছিলেন। SIR আতঙ্কের জেরেই মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি তুলেছিলেন ছেলে।২৬ অক্টোবর তামিলনাড়ুর হাসপাতালে ভর্তি হন ওই প্রৌঢ়। ৩০ অক্টোবর তামিলনাড়ুর হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর।
একের পর এক SIR-এ মৃত্যু, দায়ী নির্বাচন কমিশন বলে অভিযোগ তৃণমূলের। SIR-এ মৃত্যু নয়, অন্যকোনও কারণে মৃত্যু হতে পারে, দাবি বিজেপির। ব্যারাকপুর পুরসভা এলাকায় একটি ঘটনা ঘটেছিল। বছর ৩২ এর ওই গৃহবধূর নাম কাকলি সরকার। ২০১০-১১ সালে বিয়ে হয় এবং তারপর ২০১৬ থেকে পাকাপাকিভাবে, এদেশে বসবাস করছিলেন। ভারতীয় নথি তৈরি হয়ে গিয়েছিল। ভোটার কার্ড এবং আঁধার কার্ড। তার স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে নিয়ে তিনি থাকছিলেন। শাশুড়ি যেটা অভিযোগ করছেন যে, NRC এর জন্য তিনি আতঙ্কিত ছিলেন। সেটা তিনি (মৃতা গৃহবধূ কাকলি সরকার) বারবার শাশুড়িকে জানিয়েছিলেন। সন্ধ্যায়, শাশুড়ির সঙ্গেই ছিলেন। হঠাৎই তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।
তারপর অন্যান্য লোকজন গিয়ে দেখতে পায়, বাড়ির দোতালার ছাদে গিয়ে, গায়ে আগুন দিয়ে তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন। এরপর তাঁকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। সেখানে তাঁকে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।দোতলার ছাদে গায়ে আগুন দিয়ে তিনি আত্মঘাতী হন। তাঁকে উদ্ধার করা হয় মৃত অবস্থায়। দরজায় সাঁটা অবস্থায় উদ্ধার হয় একটি সুইসাইড নোট। আত্মঘাতী মহিলার শাশুড়ি শিবানী সরকার বলেন, দরজার মধ্যে বড় এক পৃষ্ঠা লেখা ছিল। দরজা ধাক্কা দিচ্ছি খুলছে না। ওপর দিয়ে গিয়ে দেখে মরে পড়ে আছে।