সমীরণ পাল, কলকাতা: টেবিলে থরে থরে সাজানো নোট। আর পিছনে বসে তৃণমূল নেতা। ভাইরাল ভিডিও ঘিরে জোর বিতর্ক। ভিডিও-য় দেখা গেল বারাসাত ১ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি মহম্মদ গিয়াসউদ্দিন মণ্ডল। টাকার পাহাড়ের পিছনে তিনি এবং তাঁর পাশে এক ব্যবসায়ীকে দেখা গিয়েছে। 'নগদে না ফাইনান্সে নেবে', ফোনে এমন কথোপকথনও শোনা যায় ওই ব্যবসায়ীর মুখে। (Viral Video)

Continues below advertisement

ভিডিও-য়ে যে টাকার পাহাড় দেখা গিয়েছে, তাতে কার্যত মুখ ঢেকে গিয়েছে চেয়ারে বসে থাকা ওই ব্যবসায়ী, রাকিবুল ইসলামের। তাঁর বাঁ দিকে বসেছিলেন গিয়াসউদ্দিন। ফোনে কারও সঙ্গে কথা বলতে শোনা যায় ওই রাকিবুলকে। তাঁকে বলতে শোনা যায়, "অনেকগুলো মডেল আছে। ক্যাশে নেবে না ফাইনান্সে?" কিছু ক্ষণ পর এক ব্যক্তি নাইলনের ব্যাগ নিয়ে উপস্থিত হন। সেই ব্যাগেও ভরা হয় টাকা। (Barasat News)

ভিডিও সামনে আসতেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। যদিও গিয়াসউদ্দিন জানিয়েছেন, ভিডিওটি ২০২২ সালের। একটি নিয়ে লেনদেন হচ্ছিল। পাশে বসেছিলেন তিনি শুধু। লেনদেনে কোনও ভূমিকা নেই তাঁর। জমি কেনাবেচার টাকাই গোনা হচ্ছিল বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী রাকিবুল। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনও দোষ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Continues below advertisement

তবে এতে বিতর্ক থামছে না। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব বলছেন, "এটাই তৃণমূল নেতাদের চরিত্র। ভিডিও আসায় আবারও তা স্পষ্ট হয়ে গেল।" বারাসাত ১ নং ব্লক তৃণমূলের আহ্বায়ক মহম্মদ ইশা সরকার জানিয়েছেন, ভিডিও-র সত্যতা প্রমাণিত হলে, দোষ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে দলের থেকে। অত বিপুল পরিমাণ টাকা কোথা থেকে এল, তিনিও প্রশ্ন তুলেছেন। 

এবিপি আনন্দেও মুখ খোলেন গিয়াসউদ্দিন। তিনি বলেন, "আমি পাশে বসে আছি। ২০২২ সালের পুরনো ভিডিও। আমার বন্ধুবান্ধবরা জমি কিনেছিল, তার লেনদেন চলছিল। আমি এইটুকুই জানি।" রাকিবুল বলেন, "বছর দুই আগের ভিডিও। যতদূর মনে পড়ছে, জমি লেনদেনের টাকা ওঠা। জমিতে বিনিয়োগ ছিল। সেই টাকাই ছিল। গিয়াসউদ্দিন জমির পার্টনার ছিলেন। ওই অফিস আমারও না। কাজিপাড়ার একটি জায়গা। আমি পার্টনারশিপে ছিলাম। যে লেনদেন হয়েছে, সবার উপস্থিতিতেই হয়েছে।"

ভিডিও-টি নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তবে সেটি কে ক্যামেরায় বন্দি করেন, এখনও জানা যায়নি। বিজেপি নেতা তাপস মিত্র বলেন, "গিয়াসউদ্দিন তৃণমূলের নেতা। উনি একজন জমি মাফিয়া। ওঁর কাছ থেকে এই ধরনের টাকা পাওয়াই স্বাভাবিক। অনুব্রত, পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে দেখেছি আমরা। তৃণমূল আজ বাংলাকে লুঠ করছে। আমরা চাই অভিলম্বে ইডি তদন্ত করুক, কেন্দ্রীয় সরকার দেখুক।"