কলকাতা: রাজপুর-সোনারপুরে কেন্দ্রীয় শুল্ক আধিকারিককে মারধরের ঘটনায় জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের হয়েছিল। কিন্তু তথ্যপ্রমাণের অভাবে জামিন পেয়ে গেলেন ধৃত সকলে। গতকালই জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন একজন। রবিবার জামিন পেলেন বাকি তিন জনও। তথ্যপ্রমাণের অভাবে তাঁদের জামিন দিল বারুইপুর আদালত। (Sonarpur News)
আজেদ আলি, সুরজ আলি এবং অলোক মণ্ডল, এই তিন জনই জামিন পেয়ে গেলেন রবিবার। গতকালই জামিন পান আজিজুল গাজি। বারুইপুর আদালতে তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশ তথ্যপ্রমাণ পেশই করতে পারেনি। (Sonarpur Excise Officer Beaten Up)
অভিযোগকারী শুল্ক আধিকারিক প্রদীপ কুমার জানিয়েছেন, রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত নিজের আবাসনে গাড়ি নিয়ে ঢুকতে গেলে, একটি অটোর সঙ্গে ধাক্কা লাগে গাড়ির। সেই নিয়ে বচসা শুরু হয়। এর পর, অটোচালক একেবারে সদলবলে তাঁদের আবাসনে চড়াও হন। একেবারে গেট ভেঙে, তাঁর ফ্ল্যাটে পৌঁছন। স্ত্রী এবং সন্তানের সামনেই বেধড়ক মারধর করা হয় তাঁকে। মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়, ভাঙচুর চালানো হয় ফ্ল্যাটে।
সোনারপুর থানার পুলিশ এই ঘটনার তদন্তে নামে। কিন্তু শুল্ক আধিকারিক প্রদীপ কুমারের দাবি, পুলিশ সঠিক সময়ে আসেনি। বার বার ফোন করলেও দেখা মেলেনি তাদের। যদিও পুলিশের দাবি, মিথ্যে অভিযোগ করা হচ্ছে। প্রদীপ কুমার কোনও ফোনই করেননি। তাঁর এক প্রতিবেশী ফোন করে বিষয়টি জানান। এর পর আধ ঘণ্টার মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পুলিশ।
ওই আবাসন থেকে যে সিসি ফুটেজ সামনে এসেছে, তাতে একাধিক ব্যক্তিকে ঢুকতে দেখা যায়। তার পরও চার জনকেই গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ৩৩২, ১২৬-২, ১১৭-২, ৩২৪-৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দেওয়া হলেও, কারও নাম ছিল না অভিযোগপত্রে। শেষ পর্যন্ত আদালতে তাঁরা জামিন পেয়ে গেলেন।
কিন্তু উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ কেন দেওয়া গেল না? প্রদীপকুমারের আইনজীবী জানিয়েছেন, নাম ধরে কাউকে চিহ্নিত করতে পারেননি প্রদীপ কুমার। ফলে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। ফলে ধৃত ব্যক্তিরাই হামলা চালিয়েছে, এর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে আদালতে। ফলে জামিন পেয়ে যান ধৃতরা।
তবে পুলিশ জানিয়েছে, ২৩ অক্টোবর রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ ঘটনার সূত্রপাত। প্রদীপ কুমারের গাড়ির সঙ্গে অটোর সংঘর্ষ বাধলে, প্রদীপ কুমারের গাড়ির রং চটে যায়। এতে অটোচালককে ধরে বেধড়ক মারধর করেন তিনি। গাড়ি সারানোর টাকা চান। অটোচালক টাকা দিতে পারেননি। এর পর লোকজন নিয়ে আবাসনে হামলা চালানো হয়। দু'টি ঘটনাকেই অপরাধ হিসেবে দেখছে পুলিশ। শুল্ক আধিকারিকের বিরুদ্ধেও জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের হয়।
এদিন চারজন জামিন পেয়ে যাওয়ায় প্রদীপ কুমার বলেন, "ভেবেছিলাম আজই সব মিটে যাবে। লোহার গেট উপড়ে দিয়েছে। ভাঙচুর করেছে ওরা। আমার মাথা ফাটিয়েছে। ধাক্কা দিয়েছে আমার স্ত্রীকে। পুলিশকে ফোন করলে বলা হয়, বিসর্জনে ব্যস্ত আছে। গেটে ২০০-র বেশি লোক ছিল। উপরে এসেছিল ৫০ জন। রেপুটেড অফিসারকে বাড়িতে ঢুকে মারধর করা হল। মোটেই নিরাপদ নই।"
বিজেপি নেতা সজল ঘোষ বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় যে অপরাজিতা বিল আনবেন বলছিলেন, এই হচ্ছে তার প্যাটার্ন। ফাঁসির নিদান থাকবে, অথচ পুলিশ প্রমাণ দেবে না। জামিন পাবে অপরাধী। মানুষটাকে কুকুরের মতো মারল, তাঁর রক্তমাখা শরীর দেখলাম আমরা। আবার তাঁর বাড়ির নীচেই নৃত্য করবেন অপরাধীরা! পুলিশ যদি চায় জামিন হবে না, আদালতের ক্ষমতা নেই তাকে বের করে। আজিজুল আসলে ফিরদৌসি বেগমের লোক। সেই লোককে ছাড়িয়ে নিয়ে গিয়েছেন ফিরদৌসি এবং তাঁর স্বামী। ওরা তৃণমূল করে, পুলিশ ওদের পয়সায় চলে বলেই যা খুশি হচ্ছে। অটো ইউনিয়ন কিন্তু মহা শক্তিশালী, ওদের অর্থনৈতিক সক্ষমতাও বিশাল। গোটা রাজ্য সর্বনাশের পথে চলছে। পাড়ায় সমাধান এনেছেন মমতা। একটাই সমাধান, তৃণমূলকে দেখতে পেলেই তাড়ান। আর একবার ফিরে এলে কী দশা হবে ভেবে দেখুন রাজ্যের লোক।"